আজ সেই শহর স্থবির, সুনশান

খাইরুন নাহার চৌধুরী : সোমবার, ২৩ মার্চ ২০২০। সকাল আটটা বেজে তিরিশ মিনিট। ধানমন্ডি এলাকা এই সময়টাতে জমজমাট থাকে। গাড়ির বিরক্তিকর হর্ণ, পথচারীদের কোলাহল, মুখরিত স্কুল প্রাঙ্গণ, ফেরিওয়ালাদের হাঁক, সব মিলিয়ে প্রাণবন্ত একটা শহর। আজ সেই শহর স্থবির, সুনশান, কোথাও কেউ নেই!

আমি এতো কাল যাদের নিয়ে বেঁচে ছিলাম, তাদের ছাড়া আমার বেঁচে থাকা অসম্ভব। নিজেকে অন্তরিন করেও অনেক কাজ করা সম্ভব, অন্তত চেষ্টাটুকু তো করা যায়।

মাঝে মাঝে দুই একজন রিক্সা চালক অলস ভঙ্গিতে প্যাডেল চলাচ্ছেন। যেনো তার জানাই আছে, কোনো প্যাসেঞ্জার সে পাবে না। রাস্তার মোড়ের চায়ের দোকানগুলো বন্ধ। হয়তো আজকাল কেউ চা খেতে আসেন না। এক অসহায় বৃদ্ধা ভিখারিনি আমার দিকে করুণ চোখে তাকিয়ে আছেন, ভিক্ষা দেয়ার লোক নেই। এক পথশিশু পরিবার মাত্র আড়মোড়া দিয়ে ওঠেছে। পঙ্গু বাবার কোলে শিশুটিকে রেখে মা বের হলেন কাজের সন্ধানে। আজকাল কাউকে কেউ নিরাপদ মনে করছেন না । পথে সংসার পাতা মাও হয়তো খালি হাতে ফিরবে।

এক পথশিশু পরিবার মাত্র আড়মোড়া দিয়ে ওঠেছে। পঙ্গু বাবার কোলে শিশুটিকে রেখে মা বের হলেন কাজের সন্ধানে ।

আমি দুর্ভিক্ষ দেখিনি। জয়নুল আবেদীনের আঁকা দুর্ভিক্ষের ছবি দেখেছি। সেখানে মানুষ আর পশু এক ডাস্টবিন থেকে খাওয়ার চিত্র দেখেছি। মানুষ, কুকুরের মৃতদেহ রাস্তায় পড়ে থাকার দৃশ্য দেখেছি। দেখেছি সেই সব শবদেহ কাক শকুন মিলে টেনে হিঁচড়ে খাওয়ার দৃশ্য। আজ সকালে বাড়ি থেকে বের হবার মূহুর্তে চোখে পড়লো একটা বিড়ালের মৃতদেহ অসংখ্য কাক ছিঁড়ে খুঁড়ে খাচ্ছে। দৃশ্যটি দেখার পর বুকের ভেতরটা অজানা ভয়ে কেঁপে উঠলো।
আজগোটাপৃথিবীবাসিরএকটাইচিন্তা, একটাইচাওয়া, মানবজাতিরক্ষাপাকএইঅজানাঘাতকেরছোবলথেকে।

এক অসহায় বৃদ্ধা ভিখারিনি আমার দিকে করুণ চোখে তাকিয়ে আছেন, ভিক্ষা দেয়ার লোক নেই।

কোনো জাত, ধর্ম, বর্ণ ভেদাভেদ নেই। আমরা সবাই কেবল মানুষ। করোনা যেনো আমাদের ভুলে যাওয়া মানবতার বাণীকে আবার স্মরণ করিয়ে দিলো।
আসুন সবাই সবার জন্য দোয়া করি। আমি এতো কাল যাদের নিয়ে বেঁচে ছিলাম, তাদের ছাড়া আমার বেঁচে থাকা অসম্ভব। নিজেকে অন্তরিন করেও অনেক কাজ করা সম্ভব, অন্তত চেষ্টাটুকু তো করা যায়।

একটা বিড়ালের মৃতদেহ অসংখ্য কাক ছিঁড়ে খুঁড়ে খাচ্ছে। দৃশ্যটি দেখার পর বুকের ভেতরটা অজানা ভয়ে কেঁপে উঠলো।

খাইরুন নাহার চৌধুরী, লেখক ও নারী উদ্যোক্তা