করোনায় আক্রান্ত রোগীর খোলা চিঠি

ডেস্ক  প্রাণঘাতী নভেল করোনাভাইরাস বা কভিড-১৯ উৎপত্তিস্থল চীন থেকে ছড়িয়ে পড়েছে ১৬২টি দেশে। এরইমধ্যে ইউরোপে রূপ নিয়েছে মহামারির। মৃত্যুর সংখ্যা বেড়েই চলেছে। ঘোষণা করা হয়েছে ভাইরাসটির নতুন কেন্দ্রস্থল এই মহাদেশটি। সেখানকার অন্যান্য দেশগুলোর মতো ভয়াবহ অবস্থা স্পেনেরও। দেশটির বর্তমান পরিস্থিতি ও কীভাবে এটি ভয়াবহ রূপ নিলো সে সম্পর্কে একজন খোলা চিঠি লিখেছেন। সেই চিঠিটি আলিজাস ফ্যাশন হাউজ নামের একটি ফেসবুক পেজ শেয়ার করেছে। শেয়ার করা স্ট্যাটাসটি ডেইলি বাংলাদেশের পাঠকদের জন্য হুবহু তুলে ধরা হলো-

এই লেখাটি আমার লেখা না। স্পেন এর একজনের। (কিন্তু কপি করে শেয়ার করলাম, কারণ এই ধরনের লেখা আগামী দুই সপ্তাহের ভেতর আমাদের লিখতে হতে পারে)

আমি শুধুমাত্র এই লেখাগুলো অপরিবর্তিত আকাড়ে পাঠালাম

হ্যালো, আমি এখন আমার করোনাভাইরাস কোয়ারেন্টাইনের চতুর্থ দিনে স্পেনের বার্সেলোনা থেকে লিখছি। এই বার্তা সবার জন্য- পরিবার, বন্ধুবান্ধব, প্রাক্তন সহকর্মী (অথবা দুনিয়ার যেই হোন না কেন)। দয়া করে এই ভাইরাসকে গুরুত্বসহকারে নিন। আমি এখন আপনাদের জানাবো এখানে কি ঘটছে এবং দেরি করার ফলাফল কি হতে পারে। আমি আশা করবো যে এটা আপনার সব ধরনের জোকস আর টয়লেট পেপার নিয়ে করা মিম বাদ দিয়ে, আপনাদের এখন কাজ শুরু করতে সাহায্য করবে।

স্পেনে এক সপ্তাহ আগে, আমরা করোনাভাইরাস নিয়ে শুধুমাত্র কথাবার্তা বলেছি। আমাদের কিছু কেইস ছিলো, কিন্তু সেটা তেমন খারাপ মনে হচ্ছিলো না। আমরা ইতালির দুরবস্থা দেখছিলাম আর বলছিলাম, ‘এখানে এমন কিছু হবে না’। কোন পদক্ষেপ নেয়া হয়নি। মানুষজন সবাই সপ্তাহের ছুটির দিনে বাইরে যাচ্ছিলো, জিমে যাচ্ছিলো, কাজে যাচ্ছিলো, স্কুলে যাচ্ছিলো। ভাইরাস ছড়িয়ে পড়া ঠেকানোকে কোন গুরুত্ব দেয়া হয়নি।

ছবি: ফেসবুক থেকে নেয়া

মাত্র ১ সপ্তাহ পরে: স্পেন এখন ইমার্জেন্সি অবস্থায় আছে। ভাইরাসটি এখানে এসেছে এবং সারা দেশকে ছিঁড়েখুঁড়ে খাচ্ছে। আমার করোনাভাইরাস আছে। আমার বন্ধুদের আছে। বাচ্চাদের বাবা মায়েদের আছে। শিক্ষক, ছাত্রছাত্রী, ব্যবসায়ী, গবেষক, রাজনীতিবিদ, বাসচালক সবাই করোনাভাইরাসে আক্রান্ত। মাত্র কয়দিনে, আক্রান্তের সংখ্যা কয়েকশ থেকে এক লাফে হাজার ছাড়িয়ে গেছে। হাসপাতাল এবং ক্লিনিক সবকিছু ভর্তি, তিলধারণের জায়গা নেই, কর্মী এবং সরঞ্জাম দ্রুত শেষ হয়ে যাচ্ছে। শত শত ডাক্তার, নার্সকে করোনাভাইরাস আক্রমণ করেছে এবং তারা কোয়ারেন্টাইনে আছেন। যারা ভালো আছেন, তারা সপ্তাহে ৭ দিন ২৪ ঘণ্টা একটানা কাজ করে যাচ্ছেন। শুধু বয়স্ক বা অসুস্থরা নন, সব বয়সের মানুষের চিকিৎসার প্রয়োজন হচ্ছে। একেকটা দিন যাচ্ছে আর মৃতের সংখ্যা বেড়ে চলছে আর পরিস্থিতি আরও খারাপের দিকে যাচ্ছে।

মাত্র ১ সপ্তাহে করোনাভাইরাস স্পেনকে ধরাশায়ী করে ফেলেছে এবং চরম খারাপ পরিস্থিতি এখনো আসা বাকি। এখন পর্যন্ত কোভিড-১৯ এর সংক্রমণের হার স্পেনে সবচাইতে বেশি এবং স্পেনের প্রধানমন্ত্রী বলেছেন সামনের সপ্তাহের শুরুতেই এই সংখ্যা ১০ হাজার ছাড়িয়ে যাবে যেটা এখনের দ্বিগুণ। শুধুমাত্র কালকেই সংক্রমণের সংখ্যা দেড় হাজারের উপর বেড়েছে। এখনি যদি স্বাস্থ্যসেবার সিস্টেম ভেঙ্গে পড়ে তাহলে আগামীতে কি হবে? আমরা ইতালিতে আমাদের বন্ধুদের জিজ্ঞাসা করতে পারি, যেহেতু তারা আমাদের চেয়ে এক সপ্তাহ এগিয়ে। হাসপাতালে অল্প কয়েকটি সিটের বিপরীতে হাজারের উপর মানুষ চিকিৎসা নিতে আসছে। ডাক্তার এবং নার্সদের সিদ্ধান্ত নিতে হচ্ছে তারা কাদের বাঁচাবেন আর কাদের মারা যাওয়ার জন্য ফেলে রাখবেন। কারণ রোগীর সংখ্যা এত বেশি হারে বাড়ছে যে পর্যাপ্ত ওষুধ, কর্মী, এবং জায়গা নেই। স্প্যানিশ সরকার দেখতে পারছে যে আমরা ইতালিকে অনুসরণ করছি এবং চাপ শুরু হয়েছে দেরিতে পদক্ষেপ নেয়ার মাশুল দেয়ার।

সব স্কুল এবং বিশ্ববিদ্যালয় বন্ধ করে দেয়া হছে। গণজমায়েত এবং খেলাধুলা সব বাতিল করা হয়েছে। রাস্তা বন্ধ করা হয়েছে, দেশের সব অঞ্চল লকডাউনে আছে। সব শহর এবং গ্রাম কোয়ারেন্টাইনে আছে। মুদি আর ওষুধের দোকান ছাড়া সব দোকান, রেস্টুরেন্ট, বার সবকিছু বন্ধ করে দেয়া হয়েছে। মানুষ যাতে রাস্তায় বের হতে না পারে সেজন্য রাস্তায় পুলিশ ঘুরছে। সারা দুনিয়া এখন ঝুঁকিটা দেখতে পেয়ে স্পেন থেকে যাওয়া সব বিমান চলাচল বন্ধ করে দিয়েছে।

চিন্তা করুন, এই পদক্ষেপগুলো মাত্র এক সপ্তাহ আগে নিলে এবং মানুষের মনোভাব পাল্টানো গেলে এখন পরিস্থিতি একদমই অন্য রকম হতো।

আশা করছি এখান থেকে আপনি কিছু শিখতে পেরেছেন। বাসায় থাকুন এবং সাবধান হোন। এখনো শুরু না করলে আজ থেকে শুরু করুন। আপনি পরিবর্তন আনবেন। সবাই সাবধানে থাকুন!!

বন্ধুরা, আমায় ভুল বুঝবে না। সমাজে অযথা উদ্বেগ ছড়ানো আমার উদ্দেশ্য নয়। আমি চাচ্ছি আমাদের দেশের জনগণ নিজের ইচ্ছায় যতপ্রকার সম্ভব সতর্কতা মেনে চলবেন। তুলনামূলক আমাদের দেশের অবস্থা অন্য সব দেশের চেয়ে ভালো ছিল এবং আছে। কিন্তু অত্যন্ত অনুতাপের সঙ্গে লক্ষ্য করেছি গত দুই দিনের মাথায় দেশের অবস্থা খারাপের দিকে মোড় নিয়েছে। যবে থেকে আইনের এবং সরকারের দ্বারা আশকোনা ক্যাম্পে প্রবেশ থেকে ফিরেই আইনরক্ষাকরী সংস্থার প্রতি হুমকি প্রদর্শন করে শেল্ফ কোয়ারেন্টাইনে চলে যেতে এবং সরকার ও বাধ্য হলো তাদের উগ্র আচরণ বর্দাস্ত করতে। তারা অনায়াসে বেমালুম ভুলে গলো তারা যদি ভবিষ্যতে ওই প্রাণঘাতক ভাইরাস দ্বারা আক্রান্ত হয়ে পড়ে তখন তারা দেখতে পাবেন সবচেয়ে নিকট আত্মীয় ডাক্তারও তাদের বিপদে সময়ে তাদের সুশ্রুসা করতে চাইবে না। তারা সহজেই ভুলে গেলো এটা ‘বাংলাদেশ’!!!

আইনিউজ/এসবি