কাদামাটি মাড়িয়ে ছাত্রের খোঁজে ধানক্ষেতে হাজির শিক্ষক

সোশ্যাল মিডিয়া ডেস্ক : প্রধান শিক্ষক রাতে স্কুলে থাকতেন। কারণ পঞ্চম শ্রেণির কয়েকজন শিক্ষার্থীর বৃত্তি পাওয়ার সম্ভাবনা ছিলো। অধিকাংশ শিক্ষার্থীর বাবা-মা লেখাপড়া জানতেন না।

তাই বাড়িতে বাড়িতে গিয়ে অভিভাবকদের বুঝিয়ে সম্ভাবনাময় শিক্ষার্থীদের রাতে পড়ার জন্য নিয়ে আসতেন। হারিকেনের মৃদু আলোয় বিনেপয়সায় পড়াতেন অনেক রাত অব্দি।

হঠাৎ একদিন লক্ষ্য করলেন সবচেয়ে ভালো ছাত্রটা স্কুলে অনুপস্থিত। কয়েকদিন অনুপস্থিত দেখে নিজেই ছাত্রের বাড়িতে উপস্থিত হয়ে জানতে পারলেন ছেলেটা বাবার সাথে ধান কাটতে গেছে। অনেকক্ষণ জমির সরু আইল ধরে কাদামাটি মাড়িয়ে তিনি ধানক্ষেতে হাজির হলেন। ছেলেটা স্যারকে দেখে লজ্জায় লাল হয়ে গেছে। তারপর…

শিক্ষক দিবসে এমনই একজন আদর্শবান শিক্ষককে নিয়ে ফেসবুক দেয়ালে লিখেছেন চট্টগ্রাম ওয়াসার প্রধান রাজস্ব কর্মকর্তা মাহমুদুল হক।

পাঠকদের জন্য পুরো লেখাটি হুবহু নীচে দেয়া হলো :

প্রধান শিক্ষক রাতে স্কুলে থাকতেন। কারণ ৫ম শ্রেণির কয়েকজন শিক্ষার্থীর বৃত্তি পাওয়ার সম্ভাবনা ছিলো। অধিকাংশ শিক্ষার্থীর বাবা-মা লেখাপড়া জানতেন না।

তাই বাড়িতে বাড়িতে গিয়ে অভিভাবকদের বুঝিয়ে সম্ভাবনাময় শিক্ষার্থীদের রাতে পড়ার জন্য নিয়ে আসতেন। হারিকেনের মৃদু আলোয় বিনেপয়সায় পড়াতেন অনেক রাত অব্দি।

হঠাৎ একদিন লক্ষ্য করলেন সবচেয়ে ভালো ছাত্রটা স্কুলে অনুপস্থিত। কয়েকদিন অনুপস্থিত দেখে নিজেই ছাত্রের বাড়িতে উপস্থিত হয়ে জানতে পারলেন ছেলেটা বাবার সাথে ধান কাটতে গেছে। অনেকক্ষণ জমির সরু আইল ধরে কাদামাটি মাড়িয়ে তিনি ধানক্ষেতে হাজির হলেন। ছেলেটা স্যারকে দেখে লজ্জায় লাল হয়ে গেছে।

প্রধান শিক্ষক পিতাকে বললেন, ছেলেটা অনেক মেধাবী, স্কুলে না গেলে তো পিছিয়ে পড়বে। ছেলের পিতা শিক্ষকের উপর ক্ষেপে গিয়ে বললেন, আমার ধান কে কাটবে? আপনি কেটে দেবেন? প্রধান শিক্ষক সাথে সাথে জমিতে নেমে ছাত্রের হাত থেকে কাঁচি নিয়ে নিজেই ধান কাটতে লাগলেন।

লেখাপড়া না জানা দরিদ্র বর্গাচাষী পিতার পক্ষে পুত্রের মেধার খবর রাখা সম্ভব ছিলো না। তিনি বরং শিশুপুত্রের সংসারের কাজে সহায়তা করাকে অধিক লাভজনক মনে করতেন। অনেকক্ষণ ধানকাটার পর শিক্ষক ওই পিতাকে বুঝিয়ে-সুঝিয়ে ছেলেটাকে স্কুলে নিয়ে গেলেন।

পাকা জহুরী প্রধান শিক্ষক মেধা চিনতে ভুল করেননি। ছেলেটা এখন প্রথম শ্রেণির কর্মকর্তা। আমি ঘটনাটা বহুবছর আগে তার কাছে শুনেছি। এ মূহুর্তে ঐ মহান শিক্ষকের নাম মনে নেই। কিন্তু অনেক শিক্ষক সমাবেশে এ ঘটনা আমি বলেছি। এ রকম মহৎপ্রাণ শিক্ষক আগেও ছিলেন,  এখনো আছেন। তাদের গল্পগুলো সামনে নিয়ে আসলে জাতি উপকৃত হতো।

আমি দু’বছর সরকারি হাইস্কুলে শিক্ষকতা করেছি। এ ঘটনা আমাকে উদ্বুদ্ধ করতো ভীষণভাবে। ওই সময়টুকু আমার জীবনের সোনালী অধ্যায়। আমি নিজে এক স্বপ্নবাজ মানুষ, শিক্ষার্থীদের সবসময় স্বপ্ন দেখাতে পছন্দ করতাম। প্রায়ই ক্লাসে কিছুসময় গল্প করতাম, সফল মানুষদের গল্প, জীবনের গল্প। শিক্ষার্থীদের গৎবাঁধা শিক্ষা দেওয়ার পরিবর্তে তাদের ভিতরের শক্তিটাকে জাগিয়ে তোলাই শিক্ষকের কাজ হওয়া উচিত।

চরম ভোগবাদের এসময়ে আদর্শবান ত্যাগী শিক্ষকগণই পারেন সমাজে ইতিবাচক পরিবর্তন আনতে।

আমার শ্রদ্ধেয় শিক্ষকসহ সকল মহান শিক্ষকের প্রতি বিনম্র শ্রদ্ধা।