তহবিল সংগ্রহে সাড়া
কানাডার টরন্টোতে শহীদ মিনার নির্মাণে উদ্যোগ

টরন্টো, কানাডা : পৃথিবীর ইতিহাসে মাতৃভাষার অধিকারের জন্য বুকের তাজা রক্ত ঢেলে দেওয়ার নজির কেবল এদেশেরই আছে। শহীদ মিনার এখন বাঙালির আত্মপরিচয়ের প্রতীক হয়ে উঠেছে। বিশ্বের যেখানেই বাংলা ভাষাভাষীরা আছেন সেখানেই মাথা তুলে দাঁড়াচ্ছে গৌরবের শহীদ মিনার।

আর প্রবাস থেকে দেশের জন্য টান অনেক বেশি। দেশে থাকলে হয়তো সেই অভাবটা বোঝা যায়না। অনুভূতিটা তেমন হয়না, যেমনটা বোধ করেন বিদেশে অবস্থানরত বাঙালিরা।

আর সেই অনুভূতি থেকেই কানাডার টরেন্টোতে ‘আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা স্মৃতিসৌধ’ নির্মাণের উদ্যোগ নিয়েছেন প্রবাসি বাঙালিরা। এজন্য কানাডা সরকারের সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের অনুমতিও মিলেছে, জানিয়েছেন মৌলভীবাজার জেলা অ্যাসোসিয়েশন টরন্টো, অন্টারিও, কানাডা-এর সভাপতি দেওয়ান আব্দুল গোফরান চৌধুরী।

গোফরান চৌধুরী আই নিউজকে বলেন, সিটি অব টরেন্টো কর্তৃপক্ষ ও সংশ্লিষ্ট অন্যান্যরা নীতিগতভাবে তাদের সম্মতি প্রকাশ করেছে। প্রাথমিক হিসাব অনুযায়ী স্মৃতি সৌধের নির্মাণ ব্যয় হবে এক লক্ষ পঞ্চাশ হাজার কানাডিয়ান ডলার।

উল্লেখ্য, ঢাকার কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারের রেপ্লিকা অনুযায়ী টরেন্টোর বাঙালি অধ্যুষিত এলাকা ভিক্টোরিয়া পার্ক এবং ড্যানফোর্থের কাছে ডেন্টোরিয়া পার্কে স্থাপিত হবে ‘আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা স্মৃতিসৌধ’।

অনুমতি পেয়ে উচ্ছ্বসিত প্রবাসী বাঙালিরা নানা উদ্যোগ গ্রহণ করেছেন। এতে যুক্ত হয়েছেন সেখানকার জনপ্রতিনিধিরাও।

সম্প্রতি কানাডিয়ান কনভেনশন অডিটোরিয়ামে এক তহবিল সংগ্রহ অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়।

অর্গানাইজেশন ফর টরেন্টো ইন্টারন্যাশনাল মাদার ল্যাংগুয়েজ মনুমেন্ট (আইএমএলডি) ইনক আয়োজিত এ তহবিল সংগ্রহ অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন টরেন্টো নগরীর মেয়র জন টোরি, বাংলাদেশি বংশোদ্ভূত এমপিপি ডলি বেগম, এমপিপি রিমা বার্নস ম্যাকগাউন, কাউন্সিলর ব্রাড ব্রাডফোর্ড, সাবেক কাউন্সিলর জ্যানেট ডেভিস, টরেন্টোতে নিযুক্ত বাংলাদেশের কনসাল জেনারেল নাইম উদ্দিন আহমেদসহ আরও অনেকেই।

এ উদ্যোগে কমিউনিটির বিভিন্ন পেশার প্রতিনিধিরা এবং বাংলাদেশ সরকারের পক্ষে টরন্টোর কনস্যুলেটও এই উদ্যোগে প্রয়োজনীয় ভুমিকা রাখার অঙ্গীকার করেছেন।

অরুনা হায়দার এবং সুমন সাইয়েদের সঞ্চালনায় অর্গানইজেশন অব মাদার ল্যাঙ্গুয়েজ ডে মনুমেন্ট ইনক (ওএমএলডিএমআই) এর পরিচালনা পরিষদের চেয়ারম্যান ব্যারিস্টার চয়নিকা দত্ত অভ্যাগত অতিথিদের স্বাগত জানান। সংগঠনের সাধারণ সম্পাদক রিজওয়ান রহমান শহীদ মিনার প্রতিষ্ঠার বিভিন্ন পদক্ষেপ তুলে ধরেন। তহবিল সংগ্রহ অনুষ্ঠানের কনভেনর নাহিদ আখতারসহ সংগঠনের অন্যান্য পরিচালকরাও এ সময় বক্তব্য রাখেন।

অতিথি হিসেবে আরও বক্তব্য রাখেন- বাংলাদেশের জনপ্রিয় অভিনেতা আফজাল হোসেন ও জাতীয় পুরস্কারপ্রাপ্ত অভিনেত্রী অপি করিম।

শহীদ মিনার প্রতিষ্ঠার জন্য তহবিল সংগ্রহের আহ্বানে কমিউনিটির সদস্যরা বিপুলভাবে সাড়া দেন। বিভিন্নজন মঞ্চে গিয়ে  নানা অংকের অনুদানের ঘোষণা দিতে থাকেন। জানা যায়, এই সন্ধ্যার আয়োজনেই প্রায় ১২০ হাজার ডলারের প্রতিশ্রুতি পাওয়া গেছে।

অনুষ্ঠান শেষে ওএমএলডিএমআই এর প্রেসিডেন্ট ম্যাক আজাদ বলেন, কমিউনিটির সকল স্তরের মানুষ বিশেষ অগ্রজ কমিউনিটি নেতৃবৃন্দ যেভাবে তহবিল সংহ্রহের আয়োজনে সাড়া দিয়েছেন তাতে আমরা অভিভূত। আমরা নতুন করে প্রমাণ করেছি, বাংলাদেশি কমিউনিটি বৃহত্তর স্বার্থে ঐক্যবদ্ধ হয়ে অনেক বড় কিছুই অর্জন করতে পারে।

এছাড়াও এদিন অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন শহরের গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গ, সংবাদপত্র ও টেলিভিশনের কর্তা ব্যক্তিগণ, শিক্ষক, কৃষিবিদ, ডাক্তার ইঞ্জিনিয়ার, ব্যবসায়ী, পেশাজীবী, বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয় এলামনাই এসোসিয়েশন, জেলা এসোসিয়েশন ও সাংস্কৃতিক সংগঠনের নেতৃবৃন্দ।

অনুষ্ঠানের প্রথম পর্বে ছিলো উদ্যোক্তাদের পরিচিতি এবং শুভেচ্ছা বক্তব্য। দ্বিতীয় পর্বে ছিলো নৈশভোজ এবং তহবিল সংগ্রহ। পরে মনোমুগ্ধকর সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানের মধ্য দিয়ে অনুষ্ঠানের সমাপ্তি টানা হয়।

অনুষ্ঠানে ফিন্যান্সিয়াল রিপোর্ট পেশ করেন, ট্রেজারার- মির্জা শহিদুর রহমান।