কাশিনাথ রোডে মারা যাওয়া বিদেশ ফেরত নারীর ‘করোনা’ লক্ষণ ছিলো না!

নিজস্ব প্রতিবেদক : মৌলভীবাজার শহরের কাশিনাথ রোডে মারা যাওয়া যুক্তরাজ্য ফেরত ষাটোর্ধ্ব নারী রেজিয়া বেগমের শরীরে করোনাভাইরাসে আক্রান্ত হওয়ার কোনো লক্ষণ ছিলো না!

মকছুদ মিয়ার স্ত্রী রেজিয়া বেগম হৃদরোগ, ডায়াবেটিস, উচ্চ রক্তচাপসহ বিভিন্ন রোগে ভুগছিলেন। কিন্তু নিউমোনিয়া, শ্বাসকষ্ট, সর্দি-জ্বর, গলাব্যথা; করোনাভাইরাসের কোনো লক্ষণ তার মধ্যে ছিলোনা।

এমনটাইন বলছেন- তার পরিবার, স্থানীয় জনপ্রতিনিধি ও প্রতিবেশিরা।

রেজিয়া বেগমের গ্রামের বাড়ি মৌলভীবাজার সদর উপজেলার কনকপুর ইউনিয়নের ভাদগাঁও গ্রামে। কনকপুর ইউনিয়নের চেয়ারম্যান রেজাউর রহমান চৌধুরী আই নিউজকে বলেন, রোববার (২২ মার্চ) আনুমানিক বেলা ১টা থেকে দেড়টার দিকে সুগার নীল হয়ে হৃদরোগে আক্রান্ত হন রেজিয়া বেগম। পরে মৌলভীবাজার-২৫০ শয্যা হাসপাতালে নেওয়া হলে চিকিৎসকেরা তাকে মৃত ঘোষণা করেন।

মৌলভীবাজার পৌরসভার মেয়র ফজলুর রহমান আই নিউজকে বলেন, রেজিয়া বেগমের স্বামী আব্দুল মকছুদের সাথে কথা হয়েছে। স্বামী-স্ত্রী দুইজন একসাথে তিনমাস আগে লন্ডন থেকে আসেন। মকছুদ মিয়ার স্ত্রী রেজিয়া বেগম হৃদরোগ, ডায়াবেটিস, উচ্চ রক্তচাপসহ বিভিন্ন রোগে ভুগছিলেন। কিন্তু নিউমোনিয়া, শ্বাসকষ্ট, সর্দি-জ্বর, গলাব্যথা; করোনাভাইরাসের কোনো লক্ষণ তার মধ্যে ছিলোনা। রোববার রেজিয়া বেগম হঠাৎ করে হৃদরোগে আক্রান্ত হন। তাকে মৌলভীবাজার ২৫০ শয্যা হাসপাতালে নেওয়া হলে চিকিৎসকেরা মৃত ঘোষণা করেন। এ তথ্যগুলো জানিয়েছেন আব্দুল মকছুদ- বলে জানান মেয়র। সোমবার বিকেলের দিকে সদর উপজেলার গিয়াসনগরে রেজিয়া বেগমকে স্বাভাবিক নিয়মে দাফন করা হয়েছে। সেখানে (গিয়াসনগর) তিনি একটি মাদ্রাসা প্রতিষ্ঠা করেছেন। এর আগে যোহরের নামাজের পর গ্রামের বাড়ি কনকপুর ইউনিয়নের ভাদগাঁও গ্রামে তার নামাজে-জানাযা অনুষ্ঠিত হয়।

এ ব্যাপারে সিভিল সার্জন ডা. তওহীদ আহমদ বিকেল ৫টার দিকে আই নিউজকে বলেন, ‘এ বিষয়ে আমরা কাজ করছি। সন্ধ্যার দিকে বা তারপরে বিস্তারিত বলা যাবে।’

প্রসঙ্গত বিদেশ ফেরত অসুস্থ রেজিয়া বেগম মৃত্যুর ঘটনায় করোনা সন্দেহে সোমবার (২৩ মার্চ) মৌলভীবাজার শহরের কাশিনাথ সড়কের ৫টি ভবনকে হোম কোয়ারেন্টাইন (স্বেচ্ছাবন্দী) নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।

এদিকে পাশের আরেকটি বাসায় সদ্য ইতালি ফেরত এক যুবক অসুস্থ রয়েছেন। এছাড়া এই এলাকায় বিদেশফেরত একাধিক প্রবাসী রয়েছেন।

এ অবস্থায় এম আর ভিলাসহ আশেপাশের ৫টি ভবনকে করোনা সন্দেহে ‘হোম কোয়ারেন্টাইন’ ঘোষণা করে সাইনবোর্ড টানিয়ে দিয়েছে জেলা পুলিশ।

দুপুরের দিকে ঘটনাস্থলে যান সিভিল সার্জন ডা. তৌহীদ আহমদ, মেয়র ফজলুর রহমান, উপজেলা নির্বাহি অফিসার মো. শরীফুল ইসলাম, সদর মডেল থানার অতিরিক্ত পুলিশ সুপার জিয়াউর রহমানসহ স্বাস্থ্য বিভাগের টিম, পুলিশ ফোর্স এবং পৌরসভার টিম।