কেন কোয়ারেন্টাইনে থাকা জরুরি

ডা:রোকশানা ওয়াহিদ রাহী

কোয়ারেন্টাইন শব্দের অর্থ সঙ্গনিরোধ, সুস্থ ব্যক্তির শরীরে যাতে ভাইরাস সংক্রমণ না হতে পারে এজন্য একজনের কাছ থেকে আরেকজন আলাদা থাকা।কমপক্ষে এক মিটার বা তিন ফুট দূরত্ব বজায় রাখা।

হোম কোয়ারেন্টাইন তাদের সবাই কে করতে হবে যারা দেশের বাইরে থেকে এসেছেন এবং সেসব দেশে করোনা সংক্রমিত ,যদিও তাদের এ রোগের কোন লক্ষণ নাও থাকে তবু অন্তত ১৪দিন অবশ্যই হোম কোয়ারেন্টাইনে থাকতে হবে,কারণ ১৪দিনের ভিতরে যেকোন সময় তিনি নিজে সংক্রমিত হতে পারেন বা অন্য সুস্থ যে কাউকে সংক্রমিত করতে পারেন ,হাঁচি কাশির মাধ্যমে,আবার কেউ যদি এসব লোকের সংস্পর্শে এসে থাকেন তাদেরকেও হোম কোয়ারেন্টাইনে থাকতে হবে ১৪দিন। অথবা যদি কোন লোক করোনা আক্রান্ত রোগীর সংস্পর্শে আসেন তাকেও হোম কোয়ারেন্টাইনে থাকতে হবে ১৪দিন।

এই হোম কোয়ারেন্টাইনে থাকার সময় তাদের অবশ্যই নিজ ঘরে অবস্থান করতে হবে,কোন অবস্থায় নির্দিষ্ট ঘরের বাইরে যাওয়া যাবে না।১৪দিনের আগে কোন সামাজিক আচার অনুষ্ঠান ধর্মীয় উপাসনালয় স্কুল কলেজ বাজার বা গন জমায়েত এ যাওয়া যাবে না। গন পরিবহন ব্যবহার করা যাবেনা ,আলাদা বাসন পত্র এবং বাথরুম ব্যবহার করতে হবে ,যদি সম্ভব না হয় প্রতিবার বাথরুম ব্যবহার এর পর জীবাণুনাশক দিয়ে পরিষ্কার করতে হবে,ঘর পরিষ্কার করতে হবে, কারো সাথে সাক্ষাত করতে হলে কমপক্ষে ৩ফুট দূরত্ব বজায় রেখে করতে হবে,বার বার ভালো করে ২০-৩০সেকেন্ড সময় ধরে সাবান দিয়ে হাত ভালোভাবে ধৌত করতে হবে এবং হাঁচি কাশির সময় হাতের কনুই দিয়ে মুখ ঢেকে বা মাস্ক ব্যবহার করতে হবে।

যদি কোন ব্যক্তির শরীরে ভাইরাস আক্রান্ত হওয়ার লক্ষণ দেখা দেয়,যেমন জ্বর,কাশি বা শ্বাস কষ্ট,এবং সেসব রোগী হোম কোয়ারেন্টাইনে ছিলেন বা এমন কারো সংস্পর্শে ছিলেন যিনি বিদেশ ফেরত বা করোনায় আক্রান্ত,তাদেরকে প্রাতিষ্ঠানিক কোয়ারেন্টাইনে রাখা হয়, এবং শরীরে ভাইরাসের উপস্থিতি পাওয়া গেলে পরীক্ষা করে নিশ্চিত হলে তাদের আইসোলেশন এ রাখা হয়,যেখানে রোগী কে সম্পূর্ন বিচ্ছিন্ন রাখা হয় এবং চিকিতসা করা হয়।

ডা:রোকশানা ওয়াহিদ রাহী, মেডিকেল অফিসার ,সিভিল সার্জন কার্যালয় মৌলভীবাজার