কোভিড-১৯ রোধে নতুন দিকনির্দেশনা দেবে সুপারকম্পিউটার

নতুন করোনা ভাইরাস COVID-19 বিশ্বের মধ্যে দ্রুততম বেগে ছড়িয়ে পড়া একটি অণুজীব। এর প্রতিকার আবিষ্কার করতে গিয়ে বিজ্ঞানিদেরও হিমশিম খেতে হচ্ছে। তবে, আশার উদ্দীপক হল যে, আইবিএম-এর সুপারকম্পিউটার সামিট, যার সৃষ্টই ছিল বিশ্বের সমস্যা সমাধানে অবদান রাখা। যা আজ Corona COVID-19 মোকাবিলায় কাজ করে যাচ্ছে।

এ-আই ব্রেইন সমৃদ্ধ এ কম্পিউটারটি হাজারো সিমুলেশন চালিয়ে নির্ধারণ করেছে ৭৭টি এমন রাসায়নিক যৌগ, যা সফলভাবে এই রোগ টেকাতে সক্ষম হতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে। এই ওষুধগুলি হোস্ট-সেল ইনফেকশন রোধ করে Corona COVID-19 মানবদেহে সংক্রমণ থামাতে পারে।

এই রিসার্চ পৃথিবীতে এখন নতুন আতংকের সবচেয়ে কার্যকরী ভ্যাক্সিন তৈরির পথিকৃৎ হতে পারে, বাঁচাতে পারে গোটা বিশ্ব কে এই মহামারির প্রলয়ঙ্কর বিস্তার থেকে। এই রিসার্চটি পাবলিশ হয়েছে ChemRxiv জার্নালে।

সকল প্রকারের ভাইরাস হোস্ট-সেলে নিজের ডিএনএ বা আরএনএ ইঞ্জেক্ট করে দেয় স্পাইকের মাধ্যমে সংযুক্ত হয়ে, তারপর হোস্ট-সেলের জেনেটিক কোড বদলে দিয়ে নিজের বংশবিস্তার করে, আর নতুন করোনা ভাইরাসও এর ব্যতিক্রম নয়। এটি আক্রমণ করে আমাদের ফুসফুসে, এবং নিউমোনিয়ার মতই রূপ নিতে পারে, যা থেকে ফুসফুসে পানি জমে গিয়ে মৃত্যুর সম্মুখীন হতে হয় রোগীকে, অক্সিজেনের অভাবে।

সামিট তার ২০০ পিটাফ্লপস ক্ষমতা ব্যবহার করে যেই সিমুলেশন করেছে, তার লক্ষ্য ছিল এমন যৌগ তৈরি করা যাতে করোনার স্পাইকের (যা দিয়ে তা হোস্ট-সেলে জেনেটিক ম্যাটেরিয়েল ঢুকিয়ে দেয়) সাথে বাইন্ড করে এর আক্রমণ ও দাতা-কোষে তার ডিএনএ বা আরএনএ ইঞ্জেক্ট করা রুখে দিবে। প্রায় ৮০০০ যৌগ এই ভাইরাসের প্রোটিন স্পাইকে বাইন্ড করতে পারে, যার মধ্যে ৭৭টির সম্ভাবনা আছে মানবদেহে এই রোগের সংক্রমণ ও বিস্তার ঠেকানোর। আর এই তথ্য এত অল্প সময়ে আমাদের হাতে পৌঁছে দিয়েছে আইবিএম এর এই অপার শক্তিশালী কম্পিউটার, Summit।

“আমাদের রেজাল্ট হয়ত কোন কিওর বা চিকিৎসা এখনও দেয়নি” বলেছেন জেরেমি স্মিথ, ডাইরেক্টর, ইউনিভারসিটি অব টেনেসি/ ঔক রিজ ন্যাশনাল ল্যাবরেটরি সেন্টার ফর মলিকিউলার বায়োফিজিক্স। তবে এই রিসার্চ থেকে ভবিষ্যৎ কাজের অনেক ধাপ কমে এসেছে করোনা প্রতিকার-প্রতিরোধের ক্ষেত্রে, যা থেকে সবচেয়ে কার্যকরী করোনা ভ্যাক্সিন আবিষ্কার করায় বেগ এসেছে। এজন্য অনেক কাজ বাকি আছে, অনেক পরীক্ষা-নিরীক্ষার মাধ্যমে যাচাই-বাছাইয়ের দ্বারা এই রোগের সমাধান পাওয়া যাবে।

পরেই তিনি আরও বলেন, “শুধুমাত্র তখনি বুঝা যাবে, আদৌ সামিট নির্ধারিত যৌগিক উপাদানগুলোর মাঝে এই ভাইরাসটি প্রতিরোধের বৈশিষ্ট্য আছে কি নেই।”

তথ্য : সিএনএন নিউজ পোর্টাল, মার্চ ২০, ২০২০

অনুবাদ : ইবতেসাম নওশিন