চোরাশিকারীর হাতে খুন পৃথিবীর শেষ মহিলা সাদা জিরাফ

বিশ্ব: উত্তরপূর্ব কেনিয়ার দুটি অতি বিরল সাদা জিরাফকে হত্যা করেছে অজ্ঞাত চোরা শিকারির দল। স্থানীয় প্রাণী সংরক্ষণ কর্মীদের বরাতে দুঃসংবাদটি জানা গেছে। এর আগে কেনিয়ার গারিসা কাউন্টির সংরক্ষিত বনাঞ্চলের মধ্যে অবস্থিত এক গ্রামে মা জিরাফ এবং তার শাবকের মৃতদেহ আবিস্কার করেন বনরক্ষীরা।

গ্রামবাসীরা জানায়, মৃত জিরাফ দুটিকে বনে পাওয়ার পরেই সেগুলোকে গ্রামে নিয়ে আসা হয়। হিরোলা সম্প্রদায়ের অধিবাসী গ্রামটির সকলেই বন্যপ্রাণী সংরক্ষণের সঙ্গে যুক্ত।  তবে তৃতীয় আরেকটি সাদা জিরাফ এখনও জীবিত। বর্তমানে সেই পৃথিবীর একমাত্র সাদা জিরাফ।

লিউসিজম নামক এক ধরনের বিরল রোগে প্রাণীদেহের চামড়ায় বর্ণহীনতার প্রবণতা দেখা যায়। মূলত এটি একটি জিনগত ত্রুটি। খবর বিবিসির।

ইশাকবিনি হিরোলা সম্প্রদায়ের বন্যপ্রাণী সংরক্ষণ উদ্যোগের ব্যবস্থাপক মোহাম্মদ আহমেদ নূর জানান, তিনমাস আগে আমরা জিরাফ দুটিকে শেষবারের মতো জীবিত দেখি। এরপর থেকে তাদের কোনো খোঁজ পাওয়া যাচ্ছিল না।

এক বিবৃতিতে তিনি জানান, আজকের দিনটি ইজারা উপজাতি এবং সমগ্র কেনিয়ার জন্য এক ভয়াবহ শোকের দিন। আমরাই একমাত্র সম্প্রদায় যারা সমগ্র বিশ্বের মাঝে এমন সাদা জিরাফের তত্ত্বাবধায়ক ছিলাম।

‘এই হত্যাকাণ্ড আমাদের সম্প্রদায়ের বন্য প্রাণী সংরক্ষণের কঠিন প্রচেষ্টার ওপর বড় রকমের আঘাত। বিরল এবং অতি দুর্লভ এই প্রাণীগুলোকে রক্ষায় আমরা সর্বোচ্চ চেষ্টা করেছি। এই ঘটনার পর একমাত্র জীবিত সাদা জিরাফটিকে রক্ষার দায়িত্ব আরও বাড়লো’ বলছিলেন আহমেদ নূর।

উত্তর আফ্রিকার দেশটির প্রধান বন্য প্রাণী সংরক্ষণ সংরক্ষক সংস্থা কেনিয়া ওয়াইল্ডলাইফ সোসাইটি জিরাফদুটির চোরা শিকারিদের চিহ্নিত করা সম্ভব হয়নি বলে জানায়। কি কারণে তারা জিরাফ দুটিকে হত্যা করেছে সেটাও জানা যায়নি। তবে এই বিষয়ে সংস্থাটি বিস্তারিত অনুসন্ধান চালাচ্ছে।

২০১৬ সালে প্রথম সাদা জিরাফগুলোর খোঁজ বিশ্ববাসী জানতে পারে। তখন বিশ্ব গণমাধ্যমে এই ঘটনায় ব্যাপক সাড়া পড়ে। গত তিন দশকে পৃথিবীর মোট ৪০ শতাংশ জিরাফের সংখ্যা কমেছে। মূলত চামড়া এবং মাংসের লোভেই চোরা শিকারির দল এই প্রাণীটিকে হত্যা করে।