জৈন্তাপুরে জায়গা দখল নিতে গিয়ে জনতার হাতে আটক ৭

সিলেট: সিলেটের জৈন্তাপুরে ৭ জনকে আটক করে পুলিশে সোপর্দ করেছে স্থানীয় জনতা। এসময় আটককৃতদের কাছ থেকে পিস্তল ও ৮রাউন্ড গুলি উদ্ধার করা হয়।

সোমবার (২ ডিসেম্বর) বেলা ১২টায় জৈন্তাপুর উপজেলার নিজপাট এলাকার ভূমিহীন শতাধিক পরিবারের জায়গা দখল নেয়ার সময় এঘটনা ঘটে।

আটককৃতরা হলেন, সিলেট নগরীর কাজীটুলা এলাকার মৃত বশির আহমদ চৌধুরীর ছেলে ফারুক চৌধুরী (৬০), একই এলাকার সৈয়দ আফতাব আলীর ছেলে সৈয়দ হাফিজ (৫০), মৃত হাজী কছিম উল্লার ছেলে হাসান আহমদ (৬০), তাজুল ইসলামের ছেলে মোঃ সুজন মিয়া (২৭),  মাছুদীঘির পাড় এলাকার মৃত সোনা মিয়ার ছেলে মো. বেলাল উদ্দিন (৪৩),  একই এলাকার কৃষ্ণ পদ ধরের ছেলে বিজয় ধর (৩০) এবং লামাবাজার এলাকার মৃত আরশাদ আলীর ছেলে জামাল উদ্দিন আহমেদ (৫৪)। এর মধ্যে সৈয়দ হাফিজ নিজেকে যুক্তরাষ্ট্র আওয়ামী লীগের প্রচার সম্পাদক এবং ফারুক চৌধুরী নিজেকে যুক্তরাজ্যের রামাদা হোটেলের এমডি বলে পরিচয় দেন।

স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, জৈন্তাপুর উপজেলার নিজপাট মৌজার বেশীর ভাগ জায়গায় টিলা শ্রেণীর হওয়াতে প্রভাব শালীদের নজর এসব ভূমির উপর পড়েছে দীর্ঘদিন থেকে। নিজপাট মৌজার কমলাবাড়ি এলাকার শতাধিক পরিবার দীর্ঘ প্রায় ৬০/৭০ বছর পূর্ব থেকে এখানে বসবাস করছেন। বিগত ১/১১ সময় ভুয়া মালিক দাবী করে কাগজ পত্র নিয়ে স্থানীয় প্রশাসনের দ্বারস্থ হন এক প্রভাবশালী। তখন  গ্রামবাসীর কথা বিবেচনা করে মালিকানা দাবীদারদের কাগজপত্র বাতিল করে দেয় স্থানীয় প্রশাসন।

এরই ধারাবাহিকতায় সোমবার বেলা ১২টায় এই জায়গার কথিত ইজারাদার হাসান আহমদ সিলেট শহরের বিভিন্নœ এলাকার ৭/৮ জনের একটি অস্ত্রধারী সন্ত্রাসী দলকে নিয়ে নিজপাট ইউনিয়নের কমলাবাড়ী গ্রামের পাখির টিলায় বসবাসকারী পাখি মিয়ার বাড়িতে যান। সেখানে অস্ত্রের ভয় দেখিয়ে পাখি মিয়ার পরিবারের সদস্যদের ঘর থেকে পালিয়ে যাবার হুমকি দিলে পরিবারের সদস্যদের আর্তচিৎকারে প্রতিবেশীরা ছুটে আসেন।

এখানে জনসমাগম দেখে সন্ত্রাসী গ্রুপের তিন সদস্য তাদের ব্যবহৃত দুটি গাড়ী (ঢাকা মেট্রো ঘ-১৩-৪২৫৫, ঢাকা মেট্রো চ-১৫-৬১১৬) নিয়ে পালিয়ে যায়। অপর ৪ জনকে স্থানীয় জনতা অস্ত্রসহ আটক করে পুলিশে সোপর্দ করা হয়। পরে পালিয়ে যাওয়া তিনজনকে কৌশলে জৈন্তাপুর থানা পুলিশ থানায় নিয়ে আসে। স্থানীয় জনতা ঘটনার সংবাদ পেয়ে দলে দলে থানার দিকে ছুটে আসতে থাকলে উত্তেজিত জনতাকে শান্ত করেন জৈন্তাপুর থানার ওসি ও ইউপি চেয়ারম্যান। তারা এর উপযুক্ত বিচারের আশ্বাস দিলে উত্তেজিত জনতা থানা এলাকা ত্যাগ করে নিজ নিজ বাড়ীতে চলে যান।

পরে ইউপি চেয়ারম্যান, ইউপি সদস্য, এলাকার গণ্যমান্য ব্যক্তি বর্গের মধ্যস্থতায় আপোষ নিষ্পত্তির সিদ্ধান্ত হয়। জৈন্তাপুর থানায় বিষয়টি নিয়ে লিখিত অভিযোগেরও প্রক্রিয়া চলে।

এব্যাপারে নিজপাট ইউনিয়নের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান মো. ইয়াহিয়া জানান, ঘটনার সংবাদ পেয়ে জৈন্তাপুর থানাকে সংবাদ দিয়ে ঘটনাস্থলে স্থানীয় ইউপি সদস্যদের নিয়ে উপস্থিত হলে বিষয় সম্পর্কে অবহিত হই। উভয় পক্ষের বক্তব্য শুনে এলাকার শান্তি-শৃঙ্খলা বজায় রাখার স্বার্থে স্থানীয়দের আলোচনা সাপেক্ষে আপোষ নিষ্পত্তি করা হয়েছে।

জৈন্তাপুর মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা ওসি শ্যামল বণিক প্রতিবেদককে জানান, ঘটনার সংবাদ পেয়ে এস আই প্রদীপ’র নেতৃত্বে ঘটনাস্থলে পুলিশ পাঠিয়ে আটককৃতদের ও তাদের সাথে থাকা পিস্তল ও ৮রাউন্ড গুলি উদ্ধার করে থানায় নিয়ে এসেছি। উভয় পক্ষের বক্তব্য শুনে স্থানীয়দের সাথে আলোচনা করে আপোষ নিষ্পত্তির মাধ্যমে বিষয়টি সমাধান হয়েছে।