টাঙ্গাইল পুলিশের বিরুদ্ধে হয়রানির অভিযোগ শিক্ষার্থীর

মাভাবিপ্রবি: টাংগাইল সদর থানায় কর্মরত পুলিশের বিরুদ্ধে হয়রানির অভিযোগ তুলেছে মাওলানা ভাসানী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের ভুক্তভোগী শিক্ষার্থী ও যানবাহন চালকরা।

বৃহস্পতিবার (২৮ নভেম্বর) রাত ১০ টার পর মাভাবিপ্রবির কিছু শিক্ষার্থী এবং অটোরিক্সা চালক হয়রানির স্বীকার হন।

উক্ত ঘটনার সময় উপস্থিত একজন শিক্ষার্থীর বর্ণনা হুবহু তুলে ধরা হলো,

‘আজ রাত সোয়া দশটার দিকে নিরালা মোড় থেকে ক্যাম্পাসের দিকে অটোতে আসতেছিলাম। অটো থানার সামনে আস্তেই সিবিল ড্রেস পরা একজন পুলিশ অটো থামিয়ে চালকের সাথে তুই তুকারি করে গাড়ির চাবি খুলে নেয়। আর আমাদেরকে নামিয়ে অন্য অটোতে যেতে বলে। আমি ভাবছিলাম অটোওয়ালা হয়ত লাল/হলুদ সাইন অমান্য করে গাড়ি চালাচ্ছিল। ততক্ষনে চালক খুবই কাকুতি মিনতি করে বলছিল “স্যার আজকে না স্যার আমার বাড়ি অনেক দূর স্যার আমাকে আজ ছেড়ে দেন অন্য দিন ডিউটি করব স্যার” । পুলিশ কিছু না শুনে চাবি নিয়ে অন্য অটো আটক করতে যায়।

(আরও পড়ুনঃ ঢাবির ৫ শিক্ষক চাকরি হারালেন)

অন্যান্য যাত্রিরা অটো থেকে নামতে সুরু করল। আমি অটো মামাকে জিজ্ঞেস করলাম সমস্যা কি। উনি বললেন যে, মামা ওরা আমার অটোতে চইরা গভীর রাত পর্যন্ত ডিউটি করবে, আমার বাসা মামা অনেক দূরে, রাতে খাইও নাই। ওরা খাওয়ানো তো দুরের কথা ১টা টাকাও দেয় না। তার উপর তুই তুকারি করে খুব খারাপ ভাবে কথা বলে।

বিষয়টা আমার কাছে খুব খারাপ লাগে, আমি প্রতিবাদ করতে নিচে নেমে পুলিশ আংকেলকে ডেকে বলি, “আংকেল কি সমস্যা ওনার চাবি খুলে নিলেন কেন?” আমার দিকে কিছুক্ষন তাকিয়ে থেকে বলল, “ওর ডিউটি আছে ওকে ডিউটি করতে হবে”। আমি বললাম, কিসের ডিউটি? ওরা গরিব মানুষ, সারা রাত ডিউটি কইরা ১টাকাও দেন না ওদের এটা আপনাদের কোন ডিউটি আর কোন আইন..??

(আরও পড়ুনঃ খালি বাসে জীবন বাজি রেখে হেলপারদের সঙ্গে লড়নের চবি শিক্ষার্থী)

উনি আমাকে বললেন, হুজুর বেশি কথা বলেন নাতো যান যান..! বেশি কথা বলবেন না..!! আমি পালটা কথা বলি, কেন আমার কি জানার অধিকার নাই? কেন আপনারা সাধারন গরিব অটোওয়ালাদের উপর এভাবে জুলুম করছেন..??

উনি আমার সাথে রেগে গেলেন। এরপর আরেকটা অটো থামিয়ে আমাকে সহ অন্যান্য যাত্রিদেরকে অটোতে উঠে চলে যেতে বলেন। অন্যরা যাত্রিরা সবাই উঠে আমাকেও ওঠার জন্য বলে যে, ভাই থাক ভাই থাক, ওঠেন। আমাদের আগের অটোচালক মামার কথা চিন্তা করে আমি উঠলাম না।

পুলিশ আমার উপর রেগে গিয়ে নতুন অটোরিক্সা ডেকে বললেন, এই তুই ওদের কে বেবেস্ট্যান্ডে নামিয়ে দিস, কোন ভাড়া নিবি না। আর আমাকে বলল, চলেনতো থানায় চলেন, দেখাইতেছি আপনাকে।

আমি খানিকটা স্তম্ভিত হয়ে আবারো প্রতিবাদ করা শুরু করি, এই যে আংকেল আপনি ওনাকে তুই তুই করে বললেন কেন, আর ভাড়া না নেয়ার জন্য থ্রেড মারলেন কেন? সাধারণ জনগণকে কি পাইছেন আপনারা, যাচ্ছে তাই করবেন?

পুলিশ আরো রেগে গিয়ে আমার হাত ধরে টেনে থানায় নিয়ে যেতে চাইলেন। আমিও বললাম চলেন দেখবো আপনাদের নিয়ম, কোন অধিকারে অটোওয়ালাদের উপর আপনারা জুলুম করছেন।

তখন অটোর অন্য যাত্রিরা নেমে বাধা দিতে শুরু করে, আমি এরপরেও যেতে চাই। ততক্ষনে আরেকজন পুলিশ (সম্ভবত উর্ধ্বতন) ভিতর থেকে বের হয়ে আসেন। তখন আগের পুলিশ ওনাকে অনেক ছয় নয় করে আমার সম্পর্কে বলতে থাকেন। তখন অটোর যাত্রিরাও কথা বলতে শুরু করে।

এক পর্যায়ে পরের পুলিশ অটো ছেড়ে দিতে বাধ্য হয় এবং আমরা সেই অটোতেই সন্তোষ আসি। অটোওয়ালা কি যে খুশি হইছে সেটা বলে বোঝাতে পারব না।‘

(আরও পড়ুনঃ মৌলভীবাজার সরকারি কলেজে অর্কিড ক্লাব)

এ বিষয়ে বিশ্ববিদ্যালয়সহ অন্যান্য প্রতিষ্ঠান এর শিক্ষার্থীরা বলেন, এ ধরনের ঘটনা তাদের সাথে বেশ কয়েকবার ঘটেছে। প্রতিবাদ করলে তাদের আটকের হুমকি দেয়া হয়েছে।

এছাড়াও এ বিষয়ে ভুক্তভোগী অটোরিক্সা চালকরা জানান, প্রায়শই পারিশ্রমিক না দিয়ে সারা রাত তাদের যানবাহন ব্যবহার করে, তাদের মারধর এবং গালিগালাজ করে ডিউটিতে থাকা পুলিশ সদস্যরা।

এর প্রেক্ষিতে জনমনে ভীতির সঞ্চার হচ্ছে ফলে রাতের বেলা যানবাহন চলাচল কমে যাচ্ছে। যার কারণে যানবাহন সংকট এবং নিরাপত্তা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন অনেকে।

আইনিউজ/নূহাশ/সীমান্ত