দুর্গোৎসবের শহর মৌলভীবাজার

জাহেদ আহমেদ চৌধুরী : পর্যটন শহর মৌলভীবাজার। পরিণত হয়েছে দুর্গোৎসবের শহরে। নানা রঙ আর সাজে সেজেছে এই শহর। তরুণ-তরুণীরা ঘুরে বেড়ায় এ প্রান্ত থেকে ও প্রান্ত। দুর্গা পূজা শহরেকে আলাদা ভাবে ফুটিয়ে তুলেছে। চারিদিকে উৎসবের আমেজ। আলোকসজ্জা শহরটাকে বর্ণিল করে তৃলেছে। বিভিন্ন থিমে সেজেছে একেকটা মণ্ডপ।

গত বছর জেলায় ছিলো ৮৪২ মণ্ডপ। এবার আরো বেড়েছে, প্রায় হাজারের কাছাকাছি। কিছুদিন আগেও এরকম ছিলো না। সবাই পূজা দেখতে যেতেন পার্শ্ববর্তী উপজেলা শ্রীমঙ্গল ও রাজনগরে। ধর্মীয় বিশ্বাস অনুযায়ী রাজনগরের পাঁচগাওয়ে লাল বর্ণে পূজিত হন দেবী দুর্গা। দেশের একমাত্র লাল দুর্গার পূজা এবং এশিয়ার একমাত্র এই লাল প্রতিমা উৎসব হয় এই জেলায়। মৌলভীবাজারের মানুষ এক সময় পূজা দেখতে যেতেন অন্য জেলায়। জেলা শহরের মানুষ যেতেন অন্য উপজেলায়। এখন সারাদেশের মানুষ পূজা দেখতে আসেন মৌলভীবাজার শহরে।  শহরটি রূপ নিয়েছে উৎসবের শহরে।

এখন কথা হলো সাময়িক সময়ের জন্য হলেও, কিছু পূজা মণ্ডপ যদি শহরে চেহারা বদলে দিতে পারে। তাহলে কী দীর্ঘ সময়ের জন্য শহরের, জেলার জন্য কি কিছু পরিকল্পনা নেয়া যায়না? এজন্য এগিয়ে আসতে হবে রাজনীতিবিদ, জনপ্রতিনিধি ব্যবসায়ী ও প্রবাসিদের।

এই উৎসব থেকে অনেক কিছু শিখার আছে দেশ বিদেশের সবার। কীভাবে এক জায়গায় মুসলিম, হিন্দু, খ্রিস্টান, আদিবাসি সকলে একসাথে সুন্দরভাবে বসবাস করছে, উপভোগ করছে। একে অপরের সহযোগিতায় এগিয়ে আসছে। সাম্প্রদায়িক বন্ধনের এক উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত।

এ বন্ধন অটুট থাকুক চিরকাল। কিছু মানুষের কারণে এই সম্পর্ক যেন নষ্ট না হয়। আমাদের মধ্যে উগ্রতা, হিংস্রতা এবং সাম্প্রদায়িকতা যেন না আসে।

হাওর, পাহাড়, নদী, ঝর্ণা, আগর আর সবুজ চা বাগান বেষ্টিত পর্যটন জেলা মৌলভীবাজার এক অপার সম্ভাবনাময় অঞ্চল। আমাদের সবার চেষ্টা থাকার দরকার এই জেলার সৌন্দর্য ও সাম্প্রদায়িক বন্ধন সবার কাছে পৌঁছানো ।

লেখক : ব্যবসায়ী