দৃষ্টিহীন এক গ্রামের গল্প

ফিচার ডেস্ক: পৃথিবীতে এমন অনেক অদ্ভুত গ্রাম রয়েছে যেগুলোর গল্প শোনে আমরা ভয়ে শিউরে উঠি। আবার এমনও অনেক গ্রাম আছে যেই গ্রামগুলোর সৌন্দর্য আমাদেরকে তীব্রভাবে আকর্ষিত করে।

কিন্তু আজকে যেই গ্রামের কথা লিখবো সেই গ্রামের গল্প রীতিমতো অবাক করে দেওয়ার পাশাপাশি খানিকটা ভয়ও সঞ্চার করে মনের মধ্যে। এই গ্রামের নাম মানুষ থেকে শুরু করে পোষ্য পশুও দৃষ্টিহীন। কেন চলুন এবার সে গল্প জানা যাক।

প্রতিকী ছবি

অদ্ভুত এই গ্রামটির নাম টিলটেপেক। মেক্সিকোর ঘন অরণ্যের মধ্যে ছোট্ট একটি গ্রাম। এই গ্রামেই থাকেন শ’তিনেক জাপোটেক জাতির মানুষ। শুনতে অবাক লাগলেও এটাই সত্যি যে, এই গ্রামের প্রতিটি মানুষ দৃষ্টিহীন। শুধু তাই নয়, দৃষ্টিহীন গ্রামের পোষ্যরাও!

এই গ্রামেই রয়েছে লাবজুয়েলা নামে একটি গাছ। এটাকে অভিশপ্ত মনে করেন গ্রামবাসীরা। তাঁদের বিশ্বাস, তাদের দৃষ্টিশক্তি কেড়ে নেয় ওই লাবজুয়েলা গাছই। এমনও দাবি করা হয়, এই গ্রামে যে সব বাচ্চা জন্মায় শুরুতে আর পাঁচটা নবজাতকের মতোই সুস্থ-সবল হয়। কিন্তু এক সপ্তাহ যেতে না যেতেই দৃষ্টিশক্তি।

প্রতিকী ছবি

কেন ওই গ্রামের মানুষ দৃষ্টিশক্তি হারিয়ে ফেলছেন তা নিয়ে স্থানীয় প্রশাসন ও বিজ্ঞানীরা তদন্ত শুরু করে। লাবজুয়েলা গাছের যে গল্প গ্রাম জুড়ে ছড়িয়ে আছে তা নিয়েও তদন্ত করে তারা। কিন্তু দেখা যায়, ওই গাছের সঙ্গে এদের দৃষ্টিহীনতার কোনও সম্পর্কই নেই! তা হলে কেন এমন করে সবাই দৃষ্টি হারিয়ে ফেলছেন? 

প্রতিকী ছবি

বিজ্ঞানীরা অনুসন্ধান চালিয়ে জানতে পারেন, এই ঘন অরণ্যে ‘ব্ল্যাক ফ্লাই’ নামে বিষাক্ত মাছি রয়েছে। যা টিলটেপেক গ্রামেও প্রচুর সংখ্যায় দেখা যায়। এই বিষাক্ত মাছির কামড়ে জীবাণু সারা শরীরে ছড়িয়ে পড়ে। যার কারণেই শিশু থেকে বুড়ো এবং পশুরাও ধীরে ধীরে দৃষ্টিশক্তি হারিয়ে ফেলে।

‘ব্ল্যাক ফ্লাই’ মাছি

মেক্সিকো সরকার যখন এই গ্রাম সম্পর্কে জানতে পারে তখন তাঁদের অন্য স্থানে সরিয়ে নিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করে। কিন্তু সেই প্রচেষ্টা ব্যর্থ হয়।