দেশে ফিরেছেন সৌদিতে নির্যাতনের শিকার সুমি

আই নিউজ ডেস্ক: সৌদি আরবে নিয়োগকর্তার নির্যাতনের শিকার বাংলাদেশি নারীকর্মী সুমি আক্তার শুক্রবার (১৫ নভেম্বর) সকালে ঢাকায় ফিরেছেন। তার সঙ্গে আরও ৯১ নারী গৃহকর্মী দেশে ফিরেছেন।

শুক্রবার সকাল সাড়ে ৭টায় এয়ার এরাবিয়ার জি৯-৫১৭ নম্বর ফ্লাইটে হজরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে এসে পৌঁছান তারা।

এদিকে সুমি আসার খবরে গণমাধ্যমকর্মীরা বিমানবন্দরের টার্মিনাল-২ এ অপক্ষো করছিলেন। কিন্তু বিমানবন্দরে নেমেই টার্মিনাল-১ দিয়ে গণমাধ্যমের অগোচরেই গ্রামের বাড়ির উদ্দেশে চলে যান সুমি।

এসময় সুমির স্বামী নূরুল ইসলাম বলেন, সুমি দেশে ফেরায় খুব আনন্দ লাগছে, তেমনি কষ্টও লাগছে। কারণ ভাগ্য বদলের আশায় সৌদি গিয়েছিল সুমি, এখন খালি হাতে ফিরছে।

প্রসঙ্গত, সৌদি আরবে পাশবিক নির্যাতন সহ্য করতে না পেরে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে দেশে ফেরার আকুতি জানিয়েছে সৌদি প্রবাসী নারী সুমি আক্তার। সুমি আশুলিয়ার চারাবাগ এলাকার নুরুল ইসলামের স্ত্রী। সুমির আকুতির ভিডিওটি ফেসবুকে ভাইরাল হওয়ার পর নুরুল ইসলাম রাজধানীর পল্টন থানায় একটি সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করেন।

ভিডিওতে সুমি বলেন, ‘ওরা আমারে মাইরা ফালাইব, আমারে দেশে ফিরাইয়া নিয়া যান। আমি আমার সন্তান ও পরিবারের কাছে ফিরতে চাই। আমাকে আমার পরিবারের কাছে নিয়ে যান। আর কিছু দিন থাকলে আমি মরে যাব।’

জানা যায়, চলতি বছর জানুয়ারিতে দালালের মাধ্যমে সৌদি আরবে যান সুমি আক্তার। সেখানে পৌঁছার সপ্তাহখানেক পর থেকেই সুমি মারধর ও যৌন হয়রানিসহ নির্যাতনের শিকার হন। সম্প্রতি তিনি ওই নির্যাতনের কথা ফেসবুকে ভিডিও’র মাধ্যমে জানিয়ে দেশে ফিরতে সাহায্য চান। ফেসবুকে ওই ভিডিওটি ভাইরাল হওয়ার পর বিষয়টি গুরুত্ব পায়। পরে জেদ্দা কনস্যুলেটের হস্তক্ষেপে সুমিকে নিয়োগকর্তার বাড়ি থেকে উদ্ধার করে পুলিশ।

শুরুতে সুমির নিয়োগকর্তার দাবীকৃত ২২ হাজার সৌদি রিয়াল পরিশোধ না করা পর্যন্ত তাকে ফাইনাল এক্সিট, অর্থাৎ দেশে ফিরতে দেয়া হবে না বলে জানালেও পরে নাজরান শহরের শ্রম আদালতে বিষয়টি নিষ্পত্তি হয়। আদালত সুমির দেশে ফেরার আবেদন মঞ্জুর করেন।

সুমি আক্তার পঞ্চগড় জেলার বোদা সদর থানার রফিকুল ইসলামের মেয়ে। আগের স্ত্রীর কথা গোপন করে তাকে বিয়ে করে নুরুল ইসলাম। স্বামীর ঘরে সতীনের নির্যাতনের শিকার হন তিনি। এরপর সুমি সচ্ছলতার আশায় সৌদি আরবে চলে যান।

আইনিউজ/এইচএ