‘নাকফুল’ চির রহস্যের অলংকার

ডোরা প্রেন্টিস

নাকফুল নিয়ে কত গান কবিতা, নাকফুল নিয়ে কত পুঁথির প্রিয় শ্লোক। নাকফুল চির রহস্যের অলংকার। নারীর নাকের সৌন্দর্য হল নাকফুল।

একসময় বাঙালি বিবাহিত নারীরাই কেবল নাকফুল পড়তেন। তখন স্বামীর মঙ্গল কামনায় বিয়ের পর নারীরা নাকফুল পড়তেন। আজকাল প্রায় সব বয়সী নারীরাই নাকফুল বা নথ পড়ছেন। বিভিন্ন ঐতিহাসিক তথ্য থেকে জানা যায়, যে নবম এবং দশম শতাব্দী থেকে জনপ্রিয় হতে শুরু করে নাকফুল।

ষোড়শ শতাব্দিতে ভারতীয় উপমহাদেশে মোঘলদের আগমনের পরই সোনার অলংকারের নকশা এবং আকারের ক্ষেত্রে ঘটে বিরাট বিপ্লব। শুরু হয় অলঙ্কারের বিবর্তন। যার ব্যতিক্রম হয়নি নাকফুলের ক্ষেত্রেও। নানান আকারের এবং নকশার ব্যবহার শুরু হয়। সমাজের উচ্চবিত্ত বা সমৃদ্ধশালী পরিবারের মহিলাদের নাকে উজ্জ্বল হয়ে থাকত সেই অলঙ্কার। সেই সময় থেকেই অতিমাত্রায় প্রচার পায় নাকফুল।

অধিকাংশ ইতিহাসবিদের দাবি নাকফুলের আবিষ্কার হয় প্রাচ্যের মাটিতে। মোঘলদের মাধ্যমে তা ভারতে পসার লাভ করে। প্রাথমিক অবস্থায় কেবল মুসলিম সম্প্রদায়ের মহিলারাই ব্যবহার করতে অভ্যস্ত ছিল। পরে ভারতীয় সংস্কৃতির সঙ্গে মুসলিম সংস্কৃতির একত্রীকরণ ঘটে এবং হিন্দু সমাজেও জায়গা করে নেয় নাকফুল। কালক্রমে হিন্দু বিবাহের গুরুত্বপূর্ণ অঙ্গ হয়ে যায় নাকফুল। এই অঞ্চলে মেয়েদের নাক ফোঁড়ানোর রেওয়াজ শুরু হয়। সে সময় সেখানে নারীরা ঢাউস আকৃতির নাকফুল পড়তো, এখন সেখানে এর আকারে এসেছে পরিবর্তন, তবে এখনও কেউ কেউ জয়পুরি বড় নাকফুল পড়তে ভালবাসেন।

মেয়েরা বিভিন্ন ধরনের নাকফুল ব্যবহার করে থাকে। নাকফুল নিয়ে মেয়েদের সবচেয়ে বড় সমস্যাই হচ্ছে যে সবার নাকে সব নাকফুল মানায় না। এক্ষেত্রে ফেসের শেপ অনুযায়ী নাকফুল সিলেক্ট করতে হবে। নাক ও মুখের আকৃতির সঙ্গে নাকফুলের সমীকরণ মেলাতে পারলেই আপনার লুক বদলানো সম্ভব। এই যেমন মুখ ছোট হলে নাকফুল ছোট হবে, মুখ বড় হলে নাকফুলও বড়। আবার কাপড় ও মেকআপের সাথে সামঞ্জস্য রেখেও সিলেক্ট করতে পারেন।

তবে নাকফুলে বেশি ফোকাস করতে চাইলে মেকআপ হালকা করে করাই ভালো। শাড়ি, সেলোয়ার কামিজ, ফতুয়া, টি-শার্ট সবকিছুর সাথেই মানিয়ে যাচ্ছে ছোট এই গয়নাটি। বিয়ে থেকে শুরু করে যেকোনো অনুষ্ঠানে মেয়েরা তাদের পছন্দের গয়নার তালিকায় নাকফুলকে অবশ্যই রাখে। নাকফুল না পড়লে সাজটা যেন অসম্পূর্ণই থেকে যায়।

কিন্তু নাক ফোঁড়াতে অনেকেই পছন্দ করে না। আবার অনেকে ব্যথা পাওয়ার ভয়েও নাক ফোঁড়ায় না। কিন্তু তাই বলে কি নাকফুল পড়বে না? তা কি হয়? আজকাল বাজারে অনেক ধরনের টিপ নাকফুল বা নথ পাওয়া যাচ্ছে। মেয়েরা নাক না ফোঁড়ালেও এখন খুব সহজেই নিজের নাকফুল পড়ার শখ পূরণ করে নিচ্ছে।

নাকফুলের দাম আছে নাগালের মধ্যেই। আকৃতিভেদে সোনার ওপর মুক্তা বসানো নাকফুল পাওয়া যাবে ৮০০-১৫০০ টাকায়। সোনার ৬০০-৩০০০ টাকা, রত্ন পাথরের নাকফুল ৬০০-১৫০০ টাকা, ইমিটেশন ২০-২০০ টাকা, গোল্ড প্লেটেড ৩০০-৬০০ টাকা। হীরার নাকফুল ৪০০০-৯০,০০০ টাকা, সোনার নথ ৮০০-৫০০ টাকা, অ্যারাবিয়ানসে জয়পুরি কুন্দনের নথ ২০০০-৩০০০ টাকা, ইমিটেশনের টিপ নাকফুল ও নথ ৪০-১৫০ টাকা।

তাহলে এখনই মনের মত কিনে নিন। পরিবেশ ও চেহারার সঙ্গে মানিয়ে পরতে পারলেই সবাইকে তাক লাগাতে পারবেন অনায়াসে।