নাতনিকে উত্ত্যক্তের প্রতিবাদ করায় দুই ভাইকে হত্যা, ৪ জনের মৃত্যুদণ্ড

কুষ্টিয়াঃ কুষ্টিয়া ভেড়ামারায় নাতনিকে উত্ত্যক্তের প্রতিবাদ করায় দাদা সহোদর দুই ভাইকে হত্যার দায়ে চারজনকে মৃত্যুদণ্ড, সাতজনের যাবজ্জীবন ও একজনকে ১০ বছরের কারাদণ্ড দিয়েছে আদালত। এছাড়া সব আসামিকে অর্থদণ্ডও করা হয়েছে।

রবিবার বেলা সাড়ে ১০টায় নারী ও শিশু নির্যাতন দমন বিশেষ আদালতের বিচারক মুন্সী মো. মশিয়ার রহমান এ রায় ঘোষণা করেন।

গত ২০১৬ সালের ২৬ এপ্রিল ভেড়ামারা থানায় দায়ের করা এ মামলায় তিন আসামি পলাতক থাকলেও বাকিরা রায় ঘোষণার সময় উপস্থিত ছিলেন।

মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্তরা হলেন- ভেড়ামারা উপজেলার গোলাপনগর গ্রামের নুরুল ইসলামের ছেলে কমল হোসেন মালিথা (২৯), ফকিরাবাদ গ্রামের কাবুল প্রামাণিকের ছেলে কামরুল প্রামাণিক (৪১) ও সুমন প্রামাণিক (৩১) এবং একই গ্রামের নজরুল ইসলামের ছেলে (পলাতক) নয়ন শেখ (২৭)।

যাবজ্জীবন কারাদণ্ডপ্রাপ্তরা হলেন- উপজেলার ফকিরাবাদ গ্রামের ছের আলী শেখের ছেলে নজরুল শেখ (৪৩) ও আবদুর রহিম ওরফে লালিম শেখ (৩৩), একই গ্রামের আকুল মণ্ডলের ছেলে মাহফুজুর রহমান ওরফে কবি (৩৩), বেনজির প্রামাণিকের ছেলে হৃদয় আলী (পলাতক), নাজির প্রামাণিকের ছেলে সম্রাট আলী (পলাতক) প্রামাণিক, গোলাপনগর গ্রামের মৃত নুরুল হক মালিথার ছেলে জিয়ারুল ইসলাম ও আশরাফ মালিথা।

এছাড়া প্রধান উত্ত্যক্তকারী আরিফের বয়স শিশু বিবেচনায় (বর্তমান বয়স ১৯) তাকে ১০ বছরের বিনাশ্রম কারাদণ্ড দিয়েছে আদালত।

দণ্ডপ্রাপ্ত সব আসামির প্রত্যেকের ৫০ হাজার টাকা অর্থদণ্ডেরও আদেশ দেয় আদালত।

মামলার বিবরণে জানা যায়, ২০১৬ সালের ২৫ এপ্রিল এলাকার বখাটে আরিফ কন্যাকে উত্ত্যক্তের প্রতিবাদ করার জের ধরে রাতে মসজিদে এশার নামাজ শেষে বাড়ি ফেরার পথে ভুক্তভোগী স্কুলছাত্রীর দাদা মজিবর রহমান মাস্টার ও মিজানুর রহমানকে উপর্যুপরি ধারালো অস্ত্র দিয়ে আঘাত করা হয়।

এতে ঘটনাস্থলেই মজিবর রহমানের মৃত্যু হয়। গুরুতর আহত অবস্থায় মিজানুর রহমানকে উদ্ধার করে হাসপাতালে ভর্তি করলে সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তারও মৃত্যু হয়।

ঘটনার পরদিন ওই স্কুলছাত্রীর ভাই জাহারুল ইসলাম ভেড়ামারা থানায় ১১ জনের নাম উল্লেখসহ অজ্ঞাত চারজনের বিরুদ্ধে হত্যা মামলা দায়ের করেন। মামলাটি তদন্ত শেষে একই বছরের অক্টোবর ১২ আসামির সংশ্লিষ্টতার অভিযোগ এনে আদালতে চার্জশিট দেয় পুলিশ।

সরকারি কৌঁসুলি আবদুল হালিম জানান, এ মামলার রায়ের মধ্য দিয়ে বিজ্ঞ আদালত একটি দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছেন। রাষ্ট্রপক্ষে এ মামলায় সব আসামির সর্বোচ্চ শাস্তি আশা করেছিল।

মামলার বাদী জাহারুল ইসলাম সন্তোষ প্রকাশ করে বলেন, রায়ে ন্যায়বিচার পেয়েছি। অপরাধীরা যত প্রভাবশালীই হোক তারা কেউই আইনে ঊর্ধ্বে নয়, আদালত তা প্রমাণ করেছেন।

তিনি বলেন, মামলার শুরু থেকেই নানা হুমকি ও ভয়ভীতি মোকাবেলা করে এ পর্যন্ত এসেছি। এখন হয়তো আমার পরিবারের প্রতি হুমকি ও নিরাপত্তাহীনতা আরও বেড়ে যাবে বলে আশঙ্কা করছি।