নীল চোখের অভিনেতা তাসকিনের হাতে দুই ছবি

বিনোদন: ঢালিউডের অ্যাকশন থ্রিলার সিনেমা ‘ঢাকা অ্যাটাক’ এর মাধ্যমে দর্শকদের চোখে পরেণ ঢাকাই সিনেমার নীল চোখের অভিনেতা তাসকিন রহমান।

সিনেমায় ‘জিসান’ চরিত্রের মাধ্যমে সবাইকে তাক লাগিয়ে দেন তাসকিন রহমান। ঢাকাই সিনেমার নীল চোখের এ অভিনেতা জানালেন নতুন খবর। তাসকিন বলেন, ‘দীপঙ্কর দীপনের নতুন দুই মুভি “ঢাকা ২০৪০” ও “অপারেশন সুন্দরবন”-এ কাজ করতে যাচ্ছি।

মাসখানেক আগে মুভি দুটিতে চুক্তিবদ্ধ হয়েছি। পূজার আমেজ শেষ হলেই ঢাকা ২০৪০ শ্যুটিং শুরু করব। এখানে চরিত্রে চমক থাকবে।’ কী সেই চমক? তাসকিন বললেন, ‘দীপনের সিনেমার মাধ্যমেই দর্শক আমাকে স্টাইলিশ ভিলেন হিসেবে সাদরে গ্রহণ করে।

ফলে আমি চলচ্চিত্রে নিজের অবস্থান করতে পেরেছি ঠিকই, কিন্তু একই সঙ্গে কাজের ক্ষেত্রে একটু অসুবিধাও হয়েছে। আমাদের এখানে একটা বিষয় খুব কাজ করে। তা হলো কেউ কোনো চরিত্রে ভালো করলে তাকে ওই ছকে বেঁধে ফেলা হয়।

আমাকেও এরপর শুধু ভিলেনের চরিত্রই করতে বলা হতো। ‘যদি একদিন’ সিনেমাতে আমি আবারও ভিলেন হয়েছি। সেটাও সফল হয়েছে। কিন্তু আমি নিজেকে কোনো নির্দিষ্ট ছকে বেঁধে রাখতে চাই না। তাই এমন কিছু খুঁজছিলাম যেখানে অভিনেতা হিসেবে নিজের নতুন দিক উন্মোচন করতে পারব। ঠিক সে সুযোগটিই আবার আমাকে দিয়েছেন দীপন।’

সেটি কী? ‘দীপন দা আমাকে বললেন, তোমার যে ইমেজ আমি তৈরি করেছিলাম ঢাকা অ্যাটাকে, সেই ইমেজ আমিই আবার ভাঙব। বুঝতেই পারছেন ঢাকা ২০৪০-এ আমি ভিলেনের চরিত্র করছি না। তবে আমার চরিত্রটি এখনই পুরোপুরি বলে দিতে চাই না।

এতটুকু বলব, পুরোপুরি নতুনত্ব থাকবে। এতদিন আমাকে যে শহুরে, স্টাইলিশ চরিত্রে দেখা গেছে এখানে সম্পূর্ণ তার বিপরীত চরিত্রে দেখা যাবে’ বললেন তাসকিন।

‘অপারেশন সুন্দরবন’ সিনেমাটি নিয়ে বলছিলেন, ‘এ মুভির শ্যুটিং কবে শুরু হচ্ছে সে বিষয়ে এখনো কোনো তারিখ চূড়ান্ত হয়নি। সিনেমাটি নিয়ে আমি সবচেয়ে এক্সাইটেড। এখানে আমাকে অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ চরিত্রে দেখা যাবে।’

প্রতি বছর ঢালিউডে অনেক নতুন মুখ আসে, কিন্তু সবাই টিকে থাকতে পারে না। তাসকিন ব্যতিক্রম। ভালো মানের সিনেমাতেই শুধু তাকে দেখা যাচ্ছে।

এ প্রসঙ্গে এ অভিনেতা বলেন, ‘বুঝেশুনে পা ফেলছি। অভিনয় ভালোবাসি বলেই অস্ট্রেলিয়ার একটি ভালো ক্যারিয়ার ছেড়ে চলে এসেছি। গত বছর নভেম্বর থেকে বাংলাদেশেই আছি। নিজেকে একজন ভালো অভিনেতা হিসেবে প্রমাণ করতে চাই। সব ধরনের চরিত্রেই কাজ করা আমার লক্ষ্য।’

তাসকিন এখন ‘ঢাকা ২০৪০’-এর প্রস্তুতি নিয়ে ব্যস্ত। বললেন, ‘আমি একজন মেথড অ্যাকটর। তাই প্রতিটি চরিত্র যখন করি তা নিজের মধ্যে ধারণ করতে অনেক প্রস্তুতির দরকার হয়।

এছাড়া একটি সিনেমার চরিত্র থেকে আরেকটিতে ঢুকতেও আমার বেশ সময় লাগে। তাই অনেকের মতো বছরে অনেক সিনেমা আমি করতে পারি না। সময় নিয়ে ভালো গল্পের সিনেমাই করতে চাই।’

তাসকিনকে এ পর্যন্ত গল্পনির্ভর তারকাবহুল সিনেমায় দেখা গেছে। কিন্তু একজন সফল অভিনেতা হতে গেলে একক হিরো হিসেবেও ব্যবসাসফল সিনেমা উপহার দিতে হয়। এ নিয়ে তিনি বলেন, ‘আমি আসলে সিনেমার গল্প, আমার চরিত্র আর পরিচালকের দক্ষতা দেখে কাজ করি।

এ পর্যন্ত যে কাজগুলো করেছি সেটা ভাগ্যক্রমে সব মাল্টিকাস্টিং সিনেমা। তবে ‘বয়ফ্রেন্ড’ নামের একটি সিনেমায় একক হিরো হিসেবে কাজ করেছি। ফলাফল ভালো হয়নি। তাই নিজেকে আরও সময় দিচ্ছি, প্রস্তুত হচ্ছি। এরই মধ্যে দু-তিনটি একক হিরোনির্ভর সিনেমা ফিরিয়ে দিয়েছি গল্প বা পরিচালক পছন্দ হয়নি বলে।’

তাসকিনের হাতে আরও রয়েছে বিগ বাজেটের সিনেমা ‘মিশন এক্সট্রিম’। সাইফ চন্দন তার ‘আব্বাস’ সিনেমার সিক্যুয়েলেও তাসকিনকে চেয়েছেন। এছাড়া একাধিক সিনেমা নিয়ে কথা চলছে। শিগগিরই সেসব ঘোষণা দেবেন তিনি।

এখন ঢাকায় থাকলেও হাতের কাজগুলো গুছিয়ে তাসকিন আবারও অস্ট্রেলিয়া ফিরে যাবেন। সেই সঙ্গে ফিরে যাবেন আবারও পুরনো পেশায় (সেখানকার সরকারি একটি আইনি সংস্থা)। ফাঁকে ফাঁকে দেশে ফিরে বেছে বেছে সিনেমায় কাজ করবেন।

আইনিউজ/এইচএ