বিশ্বের রহস্যময় মৃত্যুগুলো

ফিচার: মানুষের জীবনে মৃত্যু অবধারিত। মৃত্যু নানা কারণে হতে পারে কিন্তু কিছু মৃত্যু-রহস্য আছে, যার সমাধান আজও মেলেনি। রহস্য দিয়ে ঘিরে রাখা এমন কিছু ঘটনা নিয়ে আজকের ফিচার।

লেকের পাড়ে আর্টিস্ট টম থমসনের মরদেহ

কানাডিয়ান আর্টিস্ট টম থমসনকে ১৯১৭ সালের ৮ জুলাই শেষবারের মতো ক্যানোয়িতে দেখা গিয়েছিল। আট দিন পর যখন তার মৃতদেহ ক্যানোয়ি লেক থেকে উদ্ধার করা হয়, তখন কেউ তার মৃত্যুর কারণ বুঝতে পারেননি। অনেক চেষ্টা করা হলেও কানাডার বিখ্যাত এই আর্টিস্টের মৃত্যু-রহস্য বিশ্ববাসীর কাছে আজও অজানা।

জানা যায়, থমসন লেকে গিয়েছিলেন মাছ ধরতে। তার মৃতদেহ যখন পাওয়া যায়, তখন সেই দৃশ্য দেখে অনেকেই বলেছিলেন এটা কোনো স্বাভাবিক মৃত্যু নয়। তার পায়ের গোড়ালিতে মাছ ধরার জাল ১৬টা প্যাঁচে মোড়ানো ছিল। আর কপালে ছিল গভীর ক্ষত। তদন্তকারীরা জানান, তার এই মৃত্যু ছিল দুর্ঘটনাজনিত। কিন্তু এরপরও প্রশ্ন রয়ে যায়। যদি এটি নিছক দুর্ঘটনাই হয়, তবে কীভাবে ঘটল এই দুর্ঘটনা? থমসন যে সময় লেকে উপস্থিত ছিলেন, তার পাশেই একটা প্রজেক্টের কাজ হচ্ছিল।

Spring Ice by Tom Thomson
আর্টিস্ট টম থমসনের আঁকা চিত্রকল্প

ধারণা করা হচ্ছে, সেখান থেকেই হয়তো বড় কোনো টুকরা পানিতে ভেসে এসেছিল, যার সঙ্গে ধাক্কা লেগে থমসনের নৌকার ক্ষতি হয় আর তিনি দুর্ঘটনার শিকার হন। এই সম্ভাবনার সঙ্গে অনেকেই সম্মত হলেও, কেউ কেউ বলছেন তিনি হয়তো টর্নেডোর মধ্যে পড়েছিলেন। থমসনের কপালের যে ক্ষত, সেটা সম্ভবত নৌকার বৈঠা থেকে পাওয়া আঘাত। এত কিছুর পরও তার আত্মহত্যা করার বিষয়টি একদম বাতিল করে দেওয়া যায় না। তিনি হয়তো স্বেচ্ছায় মৃত্যুকে বরণ করে নিতে দুই পায়ের গোড়ালি একসঙ্গে করে জাল দিয়ে বেঁধে নিয়েছিলেন যেন পানিতে সহজে ডুবে যান।

থমসনের ছবিতে আঁকা সেই অ্যালগোনকুইন পার্ক আর ক্যানোয়ি লেক কি সত্যিই এত ভয়ংকর হতে পারে? সবাই খুঁজে বের করতে চেয়েছিলেন এই মৃত্যুর পেছনের রহস্য।

সেই লেকে কি কোনো অপরাধমূলক কাজ হচ্ছিল, যা বহির্বিশ্ব জেনে গেলে অপরাধীদের ক্ষতির মুখে পড়তে হতো? আর এ কারণেই খুন হতে হয় থমসনকে? কারণ যাই হোক, থমসনের মৃত্যুর সঙ্গে সে প্রমাণ হারিয়ে গেছে। বিভিন্ন প্রমাণ একসঙ্গে করলে থমসনের জীবন নিয়ে অনেক কিছু জানা যায়।

তার অন্যান্য আর্টিস্ট বন্ধু, পার্কের ঘটনাবলি আর পার্কটি নিজেও সব মিলিয়েই একেকটি ঘটনা জন্ম দেয় একেকটি নতুন তথ্যের। কোনো তথ্যের সঠিক মেলবন্ধনই থমসনের মৃত্যুর কারণ বের করতে পারেনি।

টম থনসনের আঁকা ছবিগুলো এখনো কানাডার বিভিন্ন গ্যালারিতে প্রদর্শিত হয়। তার ছবির এক্সিবিশন আজও দর্শকদের মুগ্ধ করে। বিগত কয়েক বছরে থমসনের আঁকা ছবি নিলামে মিলিয়ন ডলারেও বিক্রি হয়েছে।

নিখোঁজ ফ্রেডরিক ম্যাকডোনাল্ড

১৯২৬ সালের ১৫ এপ্রিল অস্ট্রেলিয়ান এমপি ফ্রেডরিক ম্যাকডোনাল্ড নিখোঁজ হন। এরপর তাকে আর কখনো দেখা যায়নি। ধারণা করা হয়, তিনি সম্ভাব্য হত্যার শিকার হয়েছিলেন। তার মরদেহ কখনোই খুঁজে পাওয়া যায়নি। কিন্তু পাওয়া গিয়েছিল একটি সুইসাইডাল নোট।

তাই তার নিখোঁজ হওয়া নিয়ে কেউ কখনো প্রশ্ন তোলেনি। কিন্তু ম্যাকডোনাল্ডের নিখোঁজ হওয়া নিয়ে থমাস জন লে নামে একজন ব্যক্তির দিকে সন্দেহের তীর ছোড়া হয়েছিল।

Image result for ফ্রেডরিক ম্যাকডোনাল্ড
ফ্রেডরিক ম্যাকডোনাল্ড

ম্যাকডোনাল্ড পাবলিক স্কুল আর সিডনি বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়াশোনা শেষে শিক্ষক হিসেবে যোগ দেন। পরে নিউ সাউথ ওয়েলসের টিচার্স ফাউন্ডেশনের প্রেসিডেন্ট হিসেবে নিযুক্ত হন।

১৯২২ সালের ফেডারেল নির্বাচনে তিনি লেবার পার্টির হয়ে লড়েন। তার কাছে নির্বাচনে হেরে যান ইল্লাওয়ারার হেক্টর ল্যামন্ড। ১৯২৫ সাল পর্যন্ত পার্লামেন্টে নিজের পদ ধরে রেখেছিলেন ম্যাকডোনাল্ড।

সে বছরই থমাস লে ফেডারেল পার্লামেন্টের সদস্য হলে তার কাছে হেরে যান ম্যাকডোনাল্ড। নির্বাচনে থমাসের জয় লাভ করার খুব অল্প সময় পরই ম্যাকডোনাল্ড কোর্টে এই রেজাল্ট নিয়ে চ্যালেঞ্জ করেন এবং সেখানে সরাসরি জানান থমাস তাকে পরবর্তী নির্বাচন থেকে পিছু সরে যাওয়ার জন্য ২০০০ ডলার অফার দিয়েছেন।

পরে কোর্টের সেই শুনানির পর ম্যাকডোনাল্ড আত্মহত্যার সিদ্ধান্ত নেন। এদিকে লে’র আরেকজন শত্রু হাইম্যান গোল্ডস্টেইন ১৯২৮ সালে আত্মহত্যা করেন। গোল্ডস্টেইনও একজন এমপি ছিলেন। তিনিও থমাস লে’র তৈরি করা একটি স্ক্যাম কোম্পানির কেলেঙ্কারির শিকার হন।

কথা ছিল গোল্ডস্টেইনের এ ঘটনার তদন্ত হবে। কিন্তু তদন্ত সম্পন্ন হওয়ার আগেই তার মরদেহ সমুদ্রের একটি মাছ ধরার ট্রলার থেকে উদ্ধার করা হয়। ১৯৪৬ সালে এই হত্যার কথা স্বীকার করেন থমাস লে। ঠিক সে সময়ই তিনি ইংল্যান্ডে চলে যান। তখন তিনি জানতে পারেন তার স্ত্রীর জন মুডি নামে এক তরুণ যুবকের সঙ্গে প্রণয়ের সম্পর্ক তৈরি হয়েছে।

এ খবর জানতে পেরে থমাস লে সেই তরুণকে শ্বাসরোধে হত্যা করে কুয়ায় ফেলে দেন। এর এক বছর পর লে স্ট্রোক করেন এবং সব অপরাধের দায় নিয়ে হাসপাতালে মারা যান। অনেকেই বলেন, লে মারা যাওয়ার সঙ্গে সঙ্গে ম্যাকডোনাল্ডের মৃত্যু-রহস্যও সঙ্গে করে নিয়ে গেছেন।

জ্বলন্ত গাড়িতে পুড়িয়ে হত্যা

১৯৩০ সালের ৬ নভেম্বর সকালে নর্থঅ্যাম্পটনশায়ারে দুই ব্যক্তি কিছুদূর থেকে আগুন জ্বলতে দেখতে পান। সেদিক থেকে আসা কেউ একজন তাদের জানান, সেখানে হয়তো কোনো ব্যক্তি অগ্নি-উৎসব করছে। ঘটনার প্রত্যক্ষদর্শী দুই ব্যক্তি সত্যতা যাচাইয়ে সেই আগুনের দিকে এগিয়ে যান। সেখানে তারা জ্বলন্ত একটি গাড়িতে একজন মানুষকে আগুনে পুড়তে দেখেন।

গাড়িটির নম্বর প্লেট থেকে নিশ্চিত হওয়া যায় গাড়িটির মালিক উত্তর লন্ডনের আলফ্রেড রোজ। ঘটনার পরই রোজ ওয়েলসে গিয়েছিলেন তার বান্ধবীর সঙ্গে দেখা করতে কিন্তু এক দিন পরই ফিরে আসেন তিনি। পরে তাকে আটক করা হলে তিনি স্বীকার করেন একজন ব্যক্তিকে তার গাড়িতে লিফট দেওয়ার জন্য উঠিয়েছিলেন। রোজ আরও জানান, তিনি যখন গাড়ি থামিয়ে বাথরুমের দিকে যান, তখনই সেই ব্যক্তি গাড়িতে সিগারেট জ্বালান। আর সিগারেট জ্বালানোর অল্প সময়ের মধ্যেই গাড়িতে আগুন ধরে যায়।

এ ঘটনার পর ১৯৩১ সালে রোজকে আদালতে নেওয়া হয়। সেখানে তিনি বিচারে দোষী সাব্যস্ত হন এবং তাকে খুনের দায়ে মৃত্যুদণ্ড দেওয়া হয়। ১৯৩১ সালের ১০ মার্চ বেডফোর্ডে তাকে ফাঁসিতে ঝোলানো হয়। মারা যাওয়ার কিছুদিন আগে তিনি স্বীকার করেন এই হত্যা তিনিই ঘটিয়েছেন। মূলত নিজের মৃত্যুর নাটক সাজাতেই এই হত্যাকাণ্ড করেন রোজ।

রোজ যেই ব্যক্তিকে হত্যা করেন সেই ব্যক্তির পরিচয় তখন পাওয়া যায়নি। দীর্ঘ সময় পর ধারণা করা হয় নিহত সেই ব্যক্তির নাম ছিল উইলিয়াম থমাস ব্রিগস। কারণ হত্যা ঘটনার সেই দিন রাতে উইলিয়াম ডক্টরের সঙ্গে দেখা করতে সেই পথ ধরেই যাচ্ছিলেন। রোজ হয়তো তাকেই হত্যা করে নিজের মৃত্যুর নাটক রচনা করতে চেয়েছিলেন।

সেই ঘটনার পর পার হয়ে যায় অনেকগুলো বছর। সবাই উইলিয়ামের মৃত্যুর কথা ভুলে গেলেও ভুলতে পারেনি তার পরিবার। ২০১৪ সালের দিকে, তার পরিবার এই ঘটনার রহস্য উদ্ধারে একটি ডিএনএ টেস্ট করায়। যখন এই ডিএনএ টেস্টের ফল সামনে আসে তখন ঘটনার রহস্য সমাধান হওয়ার বদলে আরেকটি রহস্যের জন্ম দেয়।

কারণ সেই দেহটি উইলিয়ামের ছিল না। তখনই প্রশ্ন চলে আসে তবে রোজের হাতে যেই ব্যক্তি খুন হয়েছিলেন তিনি কে ছিলেন? আর উইলিয়ামের সঙ্গে আসলেই কী ঘটেছিল? এই প্রশ্নের উত্তর আজ মেলেনি। হয়তো এই রহস্যটাও রোজের মৃত্যুর সঙ্গে সঙ্গে হারিয়ে গিয়েছে।

মেঝেতে জুলিয়া ওয়ালেসের মরদেহ

একটি মৃত্যুর ঘটনা কখন লেখকদের সেটি নিয়ে লিখতে উৎসাহিত করে? যখন সেই মৃত্যু-রহস্য পূর্ণ থাকে অনেক না জানা এবং অবিশ্বাস্য ঘটনা দিয়ে। ঠিক এমনই এক মৃত্যু রহস্যের ঘটনা ঘটেছে লিভারপুলের জুলিয়া ওয়ালেসকে কেন্দ্র করে। তার মৃত্যুর ঘটনা এখনো ব্রিটিশ লেখকদের জন্য লেখার রসদ হিসেবে কাজ করে। রহস্যের সমাধান না হওয়া সেই মৃত্যুকে তুলনা করা হয় কুখ্যাত খুনি জ্যাক রিপারের করা খুনের সঙ্গে।

দিনটি ছিল ১৯৩১ সালের ২০ জানুয়ারি। আরএম কুয়ালট্রো নামে এক ব্যক্তি লিভারপুল সেন্ট্রাল চেস ক্লাবের উইলিয়াম হার্বার্ট ওয়ালেসকে একটি খবর দেওয়ার জন্য ফোন করেন। ফোনটি রিসিভ করেন ক্লাবের সেক্রেটারি এবং তিনি ওয়ালেসকে জানান, সেই ব্যক্তি তাকে সন্ধ্যায় ২৫ ইস্ট মেনলাভ গার্ডেনে যেতে বলেছেন। ওয়ালেস কাজ করতেন ইন্স্যুরেন্স এজেন্ট হিসেবে। তাই এ ধরনের ফোনে তিনি মোটেই অবাক হলেন না।

কথামত, সন্ধ্যায় ওয়ালেস সেই জায়গায় চলে গেলেন। ফোনে পাওয়া তথ্য মতে রাস্তা খুঁজতে গিয়ে ওয়ালেস একটি অদ্ভুত বিষয় খেয়াল করলেন। সেখানে নর্থ আছে, সাউথ আছে, এমনকি সাউথ গার্ডেনও আছেÑ কিন্তু কোনো ইস্ট নেই। তিনি ভাবলেন কেউ হয়তো তার সঙ্গে মজা করেছে, নইলে কেন কেউ ইচ্ছা করে ভুল ঠিকানা দেবে? এই ভেবে ওয়ালেস বাড়ি ফিরে এলেন। আর সেখানে বসার ঘরে দেখতে পেলেন তার স্ত্রীর ক্ষতবিক্ষত লাশ। হত্যার ঘটনায় ওয়ালেসকে দায়ী করা হলেও আপিলের পর রায়টি বাতিল করা হয়। পরে দুজনকে এ ঘটনার সন্দেহভাজন করা হয়। একজন হলেন ২২ বছর বয়সী রিচার্ড প্যারি।

ইন্স্যুরেন্সে কাজ করার সময় উইলিয়াম ওয়ালেস তাকে রশিদ নকল করার দায়ে ধরে ফেলেন আর এই কারণে চাকরি হারায় রিচার্ড। প্রথমে ভাবা হয়েছিল ওয়ালেসের ওপর প্রতিশোধ নিতেই হয়তো জুলিয়াকে হত্যা করেন রিচার্ড। তবে পরে এই ধারণার সত্যতা প্রমাণ করা যায়নি। সন্দেহভাজন অপর ব্যক্তির নাম জোসেফ মার্সডেন। জুলিয়া ওয়ালেসের সঙ্গে জোসেফের পরকীয়ার সম্পর্ক ছিল। আর এ জন্য পয়সাও পেতেন জুলিয়া। জোসেফ হয়তো তার মুখ বন্ধ করে পরে ধনী পরিবারে বিয়ে করতে জুলিয়াকে নৃশংসভাবে হত্যা করেন। তবে এই ধারণারও কোনো সাক্ষ্য-প্রমাণ না পাওয়ায় মৃত্যুর ঘটনাটি রহস্যাবৃত রয়ে যায়। এই হত্যাকাণ্ড নিয়ে পরবর্তী সময়ে অনেক বই লেখা হয়েছে। লেখা শেষে প্রত্যেকেই বলেছেন, তারা শেষ পর্যন্ত এ ঘটনার সমাধান করেছেন। অবশ্য সম্পূর্ণরূপে এই ঘটনাকে সত্য বলে মেনে নেননি কেউই।

ম্যারি মানির খণ্ডিত লাশ

১৯০৫ সালের ২৪ সেপ্টেম্বর সন্ধ্যায় দক্ষিণ-পশ্চিম ইংল্যান্ডের মার্সথাম রেলওয়ের টানেলে এক যুবতী নারীর খণ্ডিত লাশ পাওয়া যায়। প্রথমে পুলিশ ভেবেছিল সেখানে সেই নারী হয়তো আত্মহত্যার উদ্দেশ্যেই গিয়েছিলেন কিন্তু লাশ পরীক্ষা করে দেখা যায়, তার গলায় একটি স্কার্ফ শক্ত করে বাঁধা ছিল। লাশ যে সময় উদ্ধার করা হয়, তখনো তার শরীর গরম ছিল। অর্থাৎ খুব বেশি সময় আগে তার মৃত্যু হয়নি, খুব বেশি হলে মাত্র ৩০ মিনিট আগে। খোঁজ নিয়ে জানা যায়, নিহত নারীর নাম ম্যারি মানি।

তার লাশ শনাক্ত করেন ভাই রবার্ট। ম্যারির শেষ অবস্থান জানার জন্য পুলিশ খোঁজ নেওয়া শুরু করে। জানা যায়, সন্ধ্যা ৭টার দিকে ম্যারি তার একজন বন্ধুকে জানান, তিনি হাঁটতে যাচ্ছেন আর খুব তাড়াতাড়ি ফিরবেন। সে রাতেই ১০টা ৫৫ মিনিটে ম্যারির লাশ পাওয়া যায়। এ ঘটনায় দুজন সাক্ষীর জবানবন্দি নেওয়া হয়। তাদের মধ্যে একজন জানান, সন্ধ্যায় তারা ম্যারিকে লোকাল ট্রেন স্টেশনে দেখেছেন। অপরজন বলেন, প্রথম শ্রেণির কামরায় একজন পুরুষের সঙ্গে ম্যারিকে দেখেছেন তিনি। রাত ১০টা ১৯ মিনিটে যে ট্রেন সেই স্টেশন পার হয়েছে, সেই ট্রেনেই এ ঘটনা ঘটেছে বলে ধারণা করা হয়।

সাক্ষীদের দেওয়া ভাষ্য মতে, কামরায় দুজনকে একসঙ্গে দেখা গেলেও পরে পুরুষটিকে রেললাইন ধরে একা চলে যেতে দেখা যায়। তার পরিচয় নিয়ে তখন প্রশ্ন ওঠে। ধারণা করা হয়, সে-ই ম্যারির বয়ফ্রেন্ড ছিল যে তাকে চলন্ত ট্রেনের কামরা থেকে ছুড়ে ফেলে দিয়েছিল। এ সন্দেহে ম্যারির জীবনের সঙ্গে জড়িত সব পুরুষকেই পুলিশ জিজ্ঞাসাবাদ করলেও সন্দেহভাজন কাউকে পাওয়া যায়নি।

১৯১২ সালে ম্যারির ভাই রবার্ট আত্মহত্যা করেন। মারা যাওয়ার আগে দুই নারী এবং তিন শিশুকে হত্যা করেন রবার্ট। নিহত দুই নারী ছিলেন আপন দুই বোন। ধোঁকা দিয়ে তাদের দুজনকেই বিয়ে করেন রবার্ট। দুই বোন এ ঘটনা জানতেন না। তাদের মৃত্যুর পর প্রমাণিত হয় রবার্ট একই সঙ্গে খুনি এবং ধোঁকাবাজ ছিলেন। ম্যারি হয়তো এ সত্য জেনে গিয়েছিলেন, যার কারণে খুন হতে হয় তাকে। রবার্টের মৃত্যুর সঙ্গে সঙ্গে ম্যারি হত্যার রহস্যও চাপা পড়ে যায়।

আইনিউজ/এইচএ