বড়লেখায় পাখি শিকারীদের বিষটোপে শতাধিক হাঁসের মৃত্যু

বড়লেখা: মৌলভীবাজারের বড়লেখায় পাখি শিকারীদের বিষটোপে জাহাঙ্গির আলম নামে এক খামারির শতাধিক হাঁস মারা গেছে বলে পাওয়া গেছে।

শুক্রবার (৬ মার্চ) সকাল আনুমানিক সাড়ে আটটার দিকে উপজেলার তালিমপুর ইউনিয়নের হাকালুকি হাওরের হাল্লা গ্রামের অদূরে বটরকিত্তা এলাকায় এই ঘটনাটি ঘটেছে। এ ঘটনায় খামারের মালিক জাহাঙ্গির আলম শুক্রবার বিকেলে বড়লেখা থানায় লিখিত অভিযোগ দিয়েছেন।

প্রায়ই বিষটোপে পাখিদের পাশাপাশি খামারির হাঁস মারা যায়। শিকারীরা স্থানীয় প্রভাবশালী হওয়ায় এদের বিরুদ্ধে প্রকাশ্যে কেউ প্রতিবাদ করেন না।

অভিযোগ ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, উপজেলার তালিমপুর ইউনিয়নের হাল্লাগ্রামের অদূরে হাকালুকি হাওরের বটরকিত্তা নামক স্থানে জাহাঙ্গির আলমের একটি হাঁসের খামার রয়েছে। বৃহস্পতিবার রাতে তিনি হাঁসগুলোকে খামারের ঘরে রেখে বাড়িতে যান। শুক্রবার ভোরে হাঁসগুলোকে হাওরে নেওয়ার জন্য ঘর থেকে বের করেন। ঘর থেকে বের হওয়ার পর হাঁসগুলো হাওরের বটরকিত্তা এলাকায় নিয়ে যাওয়া হয়। সেখানে খাবার খাওয়ার পর হাঁসগুলো মারা য়ায়। এ ঘটনায় জাহাঙ্গিরের প্রায় শতাধিক হাঁস মারা যায়। এছাড়া আরো প্রায় ৪০টি হাঁস অসুস্থ অবস্থায় আছে। এ ঘটনায় ওইদিন বিকেলে খামারের মালিক জাহাঙ্গির আলম বড়লেখা থানায় চারজনের নাম উল্লেখ করে লিখিত অভিযোগ দিয়েছেন। এই চার ব্যক্তি স্থানীয়ভাবে পাখি শিকারী হিসেবে পরিচিত। হাওরে পাখি শিকারের জন্য তাদের ছিটানো বিষযুক্ত ধান বা গম জাতীয় কিছু খেয়ে হাঁসগুলো মারা গেছে বলে ধারণা করা হচ্ছে।

Related Posts
1 এর 647

স্থানীয়রা জানিয়েছেন, হাওরে বেশ কয়েকজন চিহ্নিত ব্যক্তি রয়েছেন। যারা প্রতিনিয়িত বিষটোপ দিয়ে বিভিন্ন প্রজাতির পাখি নিধন করেন। প্রায়ই তাদের দেওয়া বিষটোপে পাখিদের পাশাপাশি খামারির হাঁস মারা যায়। শিকারীরা স্থানীয় প্রভাবশালী হওয়ায় এদের বিরুদ্ধে প্রকাশ্যে কেউ প্রতিবাদ করেন না।

বড়লেখা থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মো. ইয়াছিনুল হক বলেন, ‘বিষটোপে হাঁস মারা যাওয়ার বিষয়ে একজন খামারি লিখিত অভিযোগ দিয়েছেন। এতে চারজনের নাম উল্লেখ করেছেন। তাঁর সন্দেহ এদের ছিটানো বিষযুক্ত খাবার খেয়ে হাঁসগুলো মারা গেছে। অভিযোগটি তদন্ত করে দেখা হচ্ছে ।’


লাবলু/এসডি