মৌলভীবাজারে দুর্গোৎসব
মানুষের ঢলেও ছিলনা যানজট

নিজস্ব প্রতিবেদক, মৌলভীবাজার : এবারের শারদীয় দুর্গা পূজায় মৌলভীবাজার শহরে ছিলো উৎসবমুখর, লোকে-লোকারণ্য। অতীতের যেকোনো সময়ের তুলনায় এবছর লোকসমাগম ছিলো কয়েকগুন বেশি। শহরের গুরুত্বপূর্ণ স্থান চৌমোহনা ও আশেপাশের সড়কগুলোতে দিনরাত ছিলো উপচে ভিড়।

তবুও শহরে যানজট চোখে পড়েনি। পুরো পূজা জুড়ে ছিলো শৃংখলা, ঘটেনি কোনো অঘটন। যে কারণে পূজারিরা শান্তিপূর্ণভাবে উৎসবমুখরতায় পূজা উদযাপন করতে পেরেছেন। এমনিক বিজয়া দশমীর বিকেলে প্রতিমা বিসর্জনেও যানজটমুক্ত ছিলো শহর। প্রতিমা বিসর্জনে ছিলো শৃংখলা। ফলে প্রশংসায় ভাসছেন পুলিশ বাহিনী, স্থানীয় সংসদ সদস্য এবং পৌর মেয়রসহ সংশ্লিষ্টরা।

দুর্গা পূজাকে ঘিরে অন্যান্য বছর যানজট থাকলেও, এ বছর যানজট না থাকার পেছনের কারণ অনুসন্ধান করেছে আই নিউজ

খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, এই শৃংখলার পেছনে রয়েছে খুব সহজ এবং গুরুত্বপূর্ণ কারণ।

মৌলভীবাজারের পুলিশ সুপার ফারুক আহমেদ (পিপিএম, বার) এবং পৌর মেয়র ফজলুর রহমানের নেতৃত্বে পূজাকে ঘিরে নেওয়া হয় পূর্ব পরিকল্পনা। শহরকে যানজটমুক্ত এবং পূজা মণ্ডপ নির্বিঘ্ন রাখতে আঁকা হয় ছক। আর সেটা আন্তরিকভাবে বাস্তবায়নের কারণে আসে সফলতা, জানালেন পুলিশ কর্মকর্তা এবং জনপ্রতিনিধিরা।

কিভাবে এই শৃংখলা রাখা সম্ভব হল জানাতে চাইলে মৌলভীবাজারের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার রাশেদুল ইসলাম আই নিউজকে বলেন, ‘পূজার আগে থেকেই হোম ওয়ার্ক করা হয়েছে। যে যে পরিকল্পনা ছিল, তা মাঠে থেকে বাস্তবায়ন করেছি। পৌর মেয়র সহযোগিতা করেছেন। পরিবহন শ্রমিক এবং পূজা মন্ডপ থেকে সহযোগিতা পেয়েছি। যা আমাদের পরিকল্পনাকে সহজ করেছে। আন্তরিকতার সাথে দলগতভাবে যেকোন কাজ সহজ হয়, আর এক্ষেত্রে তাই হয়েছে ।

মৌলভীবাজার জেলা পূজা উদযাপন পরিষদের সাধারণ সম্পাদক মুন্না রায় বলেন, বছর কয়েক আগেও এত দর্শনার্থী মৌলভীবাজারে থামতেন না, পুজাও ছিল হাতেগুণা। কিন্তু গত কয়েক বছরে সিলেট বিভাগের প্রতিটা জেলার মানুষের মিলনস্থল হয়ে ওঠেছে মৌলভীবাজার। কুলাউড়া উপজেলার কাদিপুর এবং রাজনগরের পাঁচগাঁও পুজা মন্ডপের দর্শনার্থীরা আসা যাওার পথে মৌলভীবাজার শহরে নামছেন। কারণ বিভিন্ন থিম নিয়ে ত্রিনয়নী, আবাহন, মহেশ্বরীসহ বিভিন্ন পুজা মণ্ডপ দর্শনার্থীদের মনে দাগ কেটেছে। ফলে বছর কয়েক আগেও যারা শহরে থামতেন না, তারা থামছেন। মৌলভীবাজার শহরের পূজার নান্দনিক রূপের কারণেও দর্শনার্থীরা আসছেন।

এবারের পূজায় ভিড় ছিল অন্য যে কোন বছরের তুলনায় বেশী। কিন্তু এত ভিড় থাকার পরেও পূজার প্রথম দিন থেকে শহরের কোথাও যানজট ছিলোনা, ছিলোনা কোন বিশৃঙ্খলা। এ বিষয়ে পুলিশের গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা এবং পৌরসভাসহ সংশ্লিষ্টদের সহযোগিতার কারণের সম্ভব হয়েছে বলেই মনে করেন পূজা মণ্ডপের দ্বায়িত্বশীলরা।

এদিকে সরেজমিনে দেখা গেছে পূজায় নিরাপত্তা ও শৃংখলা নিশ্চিত করতে পুলিশ সদস্যরা ১৭ থেকে ১৮ ঘন্টা পর্যন্ত দায়িত্ব পালন করেছেন। নির্ঘুম রাত কাটিয়েছেন।পৌর মেয়র ফজলুর রহমান প্রতিদিন গভীর রাত পর্যন্ত মণ্ডপে মণ্ডপে ঘুরে সার্বিক নিরাপত্তা ব্যবস্থা এবং অন্যান্য সহযোগিতা করে গেছেন।

স্থানীয় সংসদ সদস্য নেছার আহমদ, জেলা প্রশাসক নাজিয়া শিরিন, পুলিশ সুপার ফারুক আহমেদ, পৌর মেয়র ফজলুর রহমানসহ জেলা আওয়ামী লীগ নেতৃবৃন্দ বিভিন্ন মণ্ডপ পরিদর্শন করেছেন। সার্বিক খোঁজ-খবর নিয়েছেন।

সিলেটের ডিআইজি মৌলভীবাজারের বিভিন্ন পূজা মণ্ডপ পরিদর্শন করে নিরাপত্তা ব্যবস্থা প্রত্যক্ষ করে গেছেন।

বিজয়া দশমীতে বিসর্জন পর্যন্ত পৌর মেয়র এবং পুলিশ প্রশাসনের উপস্থিতি এবং তৎপরতরা ছিলো বেশ প্রশংসনীয়।

অতিরিক্ত পুলিশ সুপার আনোয়ারুল হক (অপরাধ), অতিরিক্ত পুলিশ সুপার রাশেদুল ইসলাম (সদর সার্কেল)  এবং সদর মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আলমগীর হোসেন সার্বক্ষণিক উপস্থিত থেকে প্রতিমা বিসর্জন কার্যক্রম সু-শৃংখল এবং শান্তিপূর্ণভাবে পরিচালনা করেন।

এ ব্যাপারে পৌর মেয়র ফজলুর রহমান বলেন, প্রতি বছর যেমন মৌলভীবাজারে নতুন নতুন পূজা মন্ডপ বৃদ্ধি পাচ্ছে, সেই সাথে পাল্লা দিয়ে বাড়ছে দর্শনার্থী । চলতি পূজার দূর্গা পূজায় সিলেটের প্রতিটি জেলা থেকে মৌলভীবাজারে দর্শনার্থীদের ব্যাপক আগমন ঘটেছিল। বিগত বছরের তুলনায় কয়েকগুণ যানবাহন ও দর্শনার্থী বাড়লেও এই বছর পূর্ব পরিকল্পিত ব্যবস্থা গ্রহণ এবং সংশ্লিষ্ট সকলের এবং আন্তরিকভাবে তা বাস্তবায়নের কারণে পূজায় শহরের কোথাও বিশৃঙ্খলা ছিলোনা, ছিলোনা যানজট।