মৌলভীবাজারের মানুষ ভাগ্যবান!

সোশ্যাল ডেস্ক: বিশ্বের শ্রেষ্ঠ দূষিত শহরের একটি বাংলাদেশের ঢাকা। জলবায়ুর প্রভাবে দ্রুত বাড়ছে বৈশ্বিক উষ্ণতা যার ফলে প্রতিনিয়ত আসছে একের পর এক বড় বড় ঘূর্ণিঝড়। দুষিত বায়ু, দুষিত বাতাস এই সব কিছুর মূলে বৃক্ষ নিধন এবং পর্যাপ্ত বনায়ন না করা। সারাদেশের মধ্যে প্রাকৃতিক বনের মধ্যে এগিয়ে সিলেট এবং চট্টগ্রাম। সিলেটের সমৃদ্ধ একটি জেলা মৌলভীবাজার। হাওর-বাওর, পাহাড়-নদী আর নানা বৃক্ষরাজি নিয়ে ঘটিত এই জেলা যে কাউকে আপন করে নিতে পারে। আর তার থেকেও বড় বিষয় হচ্ছে এখানে প্রকৃতি দুই হাতে আপন করে বিলিয়ে দিয়েছে তার ছায়া। যার ফলে পরিবেশগত দিক দিয়ে দেশের অন্যতম সমৃদ্ধ একটি জেলা মৌলভীবাজার । এ বিষয়টি সামনে এনেই মৌলভীবাজারের মানুষকে ভাগ্যবান মনে করছেন মৌলভীবাজারের ট্রাফিক পরিদর্শক সালাউদ্দিন কাজল।  এ নিয়ে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে তিনি লেখেন –

আমার চাকুরী জীবনের নয় বছর! প্রকৃতির অপার সৌন্দর্যের লীলাভূমি শ্রীমঙ্গল দিয়ে আমার কর্মকাল শুরু হয় ২০০৫ এ।তারপর কয়েক বছর বিরতি দিয়ে আবার ভাগ্য দেবতা টেনে নিয়ে আসে শ্রীহট্ট খ্যাত সিলেট রেঞ্জে।পোস্টিং এর ক্ষেত্রে আমাদের অধিকর্তাগণ অধস্তনদের চাওয়া পাওয়াকে অনেক সময় গুরুত্ব দিয়ে থাকেন।সেই সুবাদে দ্বিতীয়বারে মতও মৌলভীবাজারেই পদায়ন হয়।ইউনিট বণ্টনের ক্ষেত্রেও শ্রীমঙ্গল পছন্দের তালিকায় থাকায়,আর কর্মরত কর্মকর্তার কার্যকাল সমাপ্তি সাপেক্ষে,আবারও শ্রীমঙ্গলে চাকুরী করার সুযোগ পাই।আগের বার যিনি আমাকে বদলী দিয়েছিলেন,এবার আমিই তাকে বদলী দেই,কারণ তিনি এই কর্মস্থলে জ্যৈষ্ঠটা লাভ করেছিলেন।যা হোক,২০০১৪ তে চলে যাই সুনামগঞ্জ। শ্রীমঙ্গল ছেড়ে যাওয়ার সময় অনেক খারাপ লেগেছিল।সুনামগঞ্জে গিয়ে আমার পূর্বের ষ্টেশনের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা,যিনি নিজের পছন্দের মানুষও,সেই স্যারকে পেয়ে বদলী জনিত কষ্টটা স্থায়িত্ব পায়নি।সৌন্দর্যের আরেক নীলাভূমি সুনামগঞ্জ। প্রতিমাসের ছুটিতে সীমান্ত রাস্তায় আনাগোনা করে যে আনন্দ পেয়েছি,তা ভাষায় প্রকাশ করার মত জ্ঞান আমার নেই।বারেকের টিলা,টাঙ্গুয়ার হাওর হয়ে মহিষখোলার মিষ্টি খেয়ে মোহনগঞ্জ থেকে মাছ কিনে বাসায় যেয়ে উঠতাম।

ঘুরে ফিরে চাকুরী করার মজাই আলাদা।তবে সেটা যদি হয় মৌলভীবাজার আর সুনামগঞ্জের মত জেলা।গানের দেশ প্রাণের দেশ সুনামগঞ্জে চাকুরী না করলে আমার জীবন ব্যার্থ হতো।আর মৌলভীবাজার ও শ্রীমঙ্গলে ১৯ বছরের ৯ বছর কাটানোতে জীবন স্বার্থক হয়েছে।
আজ ঢাকায় একটা বিশেষ কাজে এসে এমন উপলব্ধি হয়েছে।একদিনের জন্য ঢাকায় এসে বিষাক্ত বাতাস,তীব্র যানজট,মানুষের বেপরোয়া চলাফেরা অসুস্থতা বোধ করছি।দুপুরের খাবারে চাষ করা কই মাছ খেতে গিয়ে,অরুচি হয়েছে।মনে পড়েছে হাওরের সুস্বাদু মাছের কথা।এককাপ চা খেতে গিয়ে খুজেছি শ্রীমঙ্গলের চায়ের স্বাদ,তবে পাইনি।সারাদিনের ক্লান্তি শেষে মৌলভীবাজারের বর্ষীজোড়া ইকো পার্কের নির্মল বাতাস খুজেছি পাইনি।সন্ধ্যাবেলায় পাখির কলরবের পরিবর্তে,শুনেছি অটোরিক্সার চিউচিউ শব্দ আর হর্ণ।
প্রকৃতির দয়া সবাই যেমন পায় না,তেমনি সব জায়গায় থাকেও না।  মৌলভীবাজার ও সুনামগঞ্জের মানুষ ভাগ্যবান।সেই সাথে শহরগুলোতে নেই কোন যানজট আর দুষিত পরিবেশ। আমরা শুধু আপনাদের সৌভাগ্যের পথচলায় ক্ষণিকের সাথী হয়েছি।  সময় ও ভাগ্যের চরকা হয়ত নিয়ে যাবে অন্য কোন ঠিকানায়। কিন্তু অন্তরের মণিকোঠায় থেকে যাবে আপনাদের ভালোবাসা টুকু।