মৌলভীবাজার ম্যারাথনে দৌড়ালেন দেশ-বিদেশের ৩৫০ দৌড়বিদ

নিজস্ব প্রতিবেদক, মৌলভীবাজার : পর্যটন ও প্রবাসি জেলা মৌলভীবাজারে প্রথমবারের মতো অনুষ্ঠিত হলো ম্যারাথন। এতে বাংলাদেশ, শ্রীলংকা, কোরিয়া এবং ভারতের ৩৫০ জন দৌড়বিদ অংশগ্রহণ করেন। দৌড়ান ছিমছাম-পরিচ্ছন্ন শহরের প্রশস্ত সড়কে, চা-বাগান, পাহাড় আর সবুজ বনানীর পাদদেশে পিচঢালা পথে।

দৌড় শেষে দেশ-বিদেশের দৌড়বিদেরা বলেন, ‘কলকাতার পরই মৌলভীবাজার ট্র্যাকিং, এটা রানারদের জন্য ওয়ান্ডারফুল জায়গা।’ আয়োজক ও স্বেচ্ছাসেবীদের আন্তরিকতা, শৃঙ্খলা; সবমিলে মুগ্ধতা প্রকাশ করেন দৌড়বিদেরা।

সাইক্লিং কমিউনিটি এবং মৌলভীবাজার রানার্স ক্লাবের আয়োজনে শুক্রবার (২২ নভেম্বর) অনুষ্ঠিত হয় ২১ কিলোমিটার হাফ এবং সাড়ে ৭ কিলোমিটারের “সুমাফুড মৌলভীবাজার ম্যারাথন ২০১৯”।

মৌলভীবাজার শহর মুখরিত হয়ে ওঠে সারা দেশ থেকে আসা প্রতিযোগিদের পদাচরণে। এই প্রতিযোগিতার মাধ্যমে পর্যটন জেলা মৌলভীবাজারকে সারা দেশের সামনে তুলে ধরতে চান আয়োজকরা।

পৌর শহরের মেয়র চত্বর থেকে ২১ কিলোমিটারের হাফ ম্যারাথনটি শুরু হয়ে কমলগঞ্জের ছয়চিড়ি দিঘী পর্যন্ত যায়। সেখান থেকে আবার মৌলভীবাজার জেলা স্টেডিয়ামে ফিরে শেষ হয় দৌড়। মিনি ম্যারাথনটি মেয়র চত্বর থেকে শুরু হয়ে কালেঙ্গা বাজার ঘুরে মৌলভীবাজার জেলা স্টেডিয়ামে ফিরে শেষ হয়।

ম্যারাথনে অংশ নেয়া প্রতিযোগিরা মৌলভীবাজার শহর, স্টেডিয়াম, চা-বাগান, দৃষ্টিনন্দন সড়ক, ধলাই নদী ও ঐতিহাসিক দীঘিসহ বিভিন্ন পর্যটন স্পট অতিক্রম করেন। যা মৌলভীবাজার জেলার পর্যটন সম্ভাবনাকে আরো একধাপ এগিয়ে নেবে বলেন মনে করেন আয়োজকরা। এই আয়োজনকে ঘিরে গত ১ মাস ধরে প্রচার কাজ এবং সফল ভাবে সম্পন্ন করার জন্য প্রস্তুতি নেন আয়োজকরা।

২১ কিলোমিটারের হাফ ম্যারাথনে পুরুষদের প্রতিযোগিতায় প্রথম হন ইমান হোসেন, দ্বিতীয় মো. সাজ্জাদ হোসেন এবং তৃতীয় হয়েছেন মো. সিজান হোসেন।

২১ কিলোমিটারের হাফ ম্যারাথনে নারীদের প্রতিযোগিতায় প্রথম হয়েছেন মৌসুমী আক্তার এপি, দ্বিতীয় হামিদা আক্তার জেবা এবং তৃতীয় হয়েছেন সাদিয়া মোনা।

সাড়ে ৭ কিলোমিটারের কিলোমিটারের হাফ ম্যারাথনে পুরুষদের প্রতিযোগিতায় প্রথম হয়েছেন আবুল কাশেম, দ্বিতীয় হারুনুর রশীদ এবং তৃতীয় মনসুর আহমেদ।

সাড়ে ৭ কিলোমিটারের কিলোমিটারের হাফ ম্যারাথনে নারীদের প্রতিযোগিতায় প্রথম হয়েছেন মরিয়ম আক্তার, মভি সূত্রধর অনু এবং তৃতীয় হয়েছেন রাবেয়া বুশরা।

প্রতিযোগিতা শেষে প্রধান অতিথি হিসেবে পুরষ্কার বিতরণ করেন সংসদ সদস্য নেছার আহমদ। বিশেষ অতিথি ছিলেন পুলিশ সুপার ফারুক আহমদ, পৌর মেয়র ফজলুর রহমান, জেলা আওয়ামী লীগ সাধারণ সম্পাদক মিছবাহুর রহমান প্রমুখ।

ম্যারাথনে অংশ নিতে আসেন সোয়ান ফোমের চেয়ারম্যান ৬৭ বছর বয়সী বির উদ্দিন। তিনি বলেন, মৌলভীবাজারের ম্যারাথন ট্র্যাক অসাধারণ একটা ট্র্যাক। পুরো আয়োজনটা রীতিমতো মুগ্ধ হওয়ার মতো।
ভারতের দৌড়বিদেরা বলেন, মৌলভীবাজারে বারবার আসতে চাই। এখানকার ট্র্যাক, এনভায়রনমেন্ট, আয়োজন, আতিথেয়তা সবকিছু অসাধারণ।

শ্রীলংকার দৌড়বিদেরা বলেন, আশা করছি আগামী বছরও মৌলভীবাজারে ম্যারাথনের আয়োজন হবে। সে আয়োজনেও অংশগ্রহণ করতে চাই।

বরগুনা থেকে এই ম্যারাথনে যোগ দিতে মৌলভীবাজার এসেছেন আসিফ মীর। তিনি বলেন, প্রাকৃতিক সৌন্দর্য’র এই জেলায় এত সুন্দর আয়োজন, তাই আসার লোভ সামলাতে পারিনি। প্রতিটি মানুষের সুস্থ থাকার জন্য, সুন্দর মানসিকতার জন্য নিয়মিত দৌড়া উচিত বলে মনে করেন এই প্রতিযোগী।

মৌলভীবাজার সাইক্লিং কমিউনিটির মডারেটর ইমন আহমদ বলেন, এ বছর সুন্দরভাবে ম্যারাথন সম্পন্ন হয়েছে। প্রতি বছর ম্যারাথন আয়োজনের ইচ্ছা রাখি। প্রাকৃতিক সৌন্দর্যের লীলাভূমি, খনিজ সম্পদে ভরপুর প্রবাসী অধ্যুষিত মৌলভীবাজার জেলা। জেলার পর্যটনকে তুলে ধরতেই এই আয়োজন। ম্যারাথনে অংশগ্রহণকারী প্রত্যেককে একটি মেডেল এবং আয়োজকদের পক্ষ থেকে জার্সি দেওয়া হয়েছে। ম্যারাথনের শৃঙ্খলা রক্ষায় শতাধিক স্বেচ্ছাসেবক কাজ করেছেন। সকলকে ধন্যবাদও কৃতজ্ঞতা জানাই।

মৌলভীবাজার জেলা ক্রিকেট কোচ এবং ম্যারাথন আয়োজক কমিটির সদস্য রাসেল আহমদ বলেন, ‘মৌলভীবাজারের তরুণদের মেধা ও মননের বিকাশ আমরা নিরন্তর কাজ করে যেতে চাই। সুমাফুড মৌলভীবাজার ম্যারাথন ২০১৯ এমনই একটি উদ্যোগ।

মৌলভীবাজার সাইক্লিং কমিউনিটির মডারেটর সায়েম আহমদ বলেন, ‘আমরা প্রতিবছর ম্যারাথন প্রতিযোগিতার আয়োজন করতে চাই। তবে এক্ষেত্রে আর্থিক সংকট সামনে এসে দাাঁড়ায়। এ রকম আয়োজনে শিল্পপতি, ব্যবসায়ী ও ধনাঢ্যদের এগিয়ে আসা খুবই প্রয়োজন।

এই ম্যারাথনের টাইটেল স্পন্সর সুমাফুড মৌলভীবাজার। হাফ ম্যারাথনকে সফল করতে জেলা ক্রীড়া সংস্থা ও পৌরসভা আয়োজকদের সহযোগিতা করে।