যে গ্রামে পেঁয়াজ খাওয়া নিষেধ

ফিচার ডেস্ক: দেশ জুড়ে পেঁয়াজের দাম বৃদ্ধির ফলে নাকানিচুবানি খাচ্ছেন সাধারণ ক্রেতারা। মধ্যবিত্ত আর নিম্নবিত্ত পরিবারের অনেকেই পেঁয়াজ নেওয়া বন্ধ করে দিয়েছেন সাময়িক সময়ের জন্য। আর যারা কিনছেন তাদের কাঁধে রেখে প্রচুর টাকা কামিয়ে নিচ্ছেন সমাজের অসাধু শ্রেণীর ব্যবসায়ীরা। পেঁয়াজ কিনুন বা নাই কিনুন পেঁয়াজের প্রভাব পড়েছে গোটা বাংলাদেশেই।

কিন্তু বিশ্বে এমন একটি গ্রাম আছে যেখানে কেউ পেঁয়াজই খান না। সেই গ্রামে পেঁয়াজ খাওয়া নিষিদ্ধ বলা যেতে পারে। ফলে বিশ্বব্যাপীও যদি পেঁয়াজের দাম হাতের নাগালের বাইরেও চলে যায় আর তা নিয়ে যদি বিশ্বে তুমুলকাণ্ডও ঘটে তবুও সে গ্রামের মানুষদের ওপর এর কোনও প্রভাব পড়ে না।

গ্রামটি ভারতের বিহারের জাহানাবাদ জেলায় অবস্থিত। চিরী পঞ্চায়েতের এই গ্রামে পেঁয়াজের দাম বেড়ে যাওয়ায় সামান্য প্রভাবও পড়েনি বলে খবর প্রকাশ করেছে ভারতীয় সংবাদমাধ্যম এনডিটিভির।

কারণ হিসেবে এনডিটিভির প্রতিবেদনে লিখা হয়েছে ওই গ্রামে কেউই কখনও পেঁয়াজ খান না। রাজ্যের অন্য গ্রামে যেখানে পেঁয়াজের দাম বেড়ে যাওয়ায় রান্নাঘরের বাজেটে কাটছাঁট করতে হচ্ছে সবাইকে, পাটনার খুচরা বাজারে পেঁয়াজের দাম ৮০ টাকা কেজি হয়ে যাওয়ায় সেখানকার মানুষ নিদারুণ দুর্ভোগ পোহাচ্ছেন।

জাহানাবাদ জেলার সদর থেকে ৩০ কিলোমিটার দূরে ত্রিলোকি বিগহা গ্রামে পেঁয়াজের দাম বৃদ্ধির কোনো প্রভাব পড়েনি। কারণ এই গ্রামের কেউই পেঁয়াজ খান না।

৩০ থেকে ৩৫ ঘরের এই গ্রামটিতে অধিকাংশই যাদব পরিবারের। যারা পেঁয়াজ-রসুন কিছুই খান না। এই পুরো গ্রামে পেঁয়াজ ও রসুন বাজার থেকে নিয়ে আসাও নিষেধ।

গ্রামের এক প্রবীণ রামবিলাস জানান, পেঁয়াজের দাম বেড়েছে বলে যে এখানকার বাসিন্দারা পেঁয়াজ খাচ্ছেন না, এমন নয়।

বহু বছর ধরেই এখানে পেঁয়াজ-রসুন খাওয়া হয় না। তাদের পূর্বপুরুষরাও পেঁয়াজ খেতেন না। এবং আজও সেই পরম্পরা চলে আসছে।

গ্রামের আরেক বাসিন্দা সুবরীতি দেবী বলেন, এই গ্রামেই ঠাকুরের একটি মন্দির আছে। তাদের পূর্বপুরুষরা পেঁয়াজ না খাওয়ার নিয়ম তৈরি করেছিলেন, তাই যা আজও বজায় রয়েছে।

তিনি আরও বলেন, ৪০-৪৫ বছর আগে কোনো একটি পরিবার এই পরম্পরা ভাঙার চেষ্টা করেছিল। কিন্তু তা করার ফলে তার পরিবারের অশুভ এমন কিছু ঘটনা ঘটেছিল তার পর থেকেই পেঁয়াজ খাওয়ার সাহস আর কেউই করেন না।

চিরী গ্রাম পঞ্চায়েতের প্রধান সঞ্জয় কুমার জানিয়েছেন, বহু বছর ধরেই এ গ্রামে এই পরম্পরা চলে আসছে। তিনি আরও বলেন, এটি অন্ধবিশ্বাসও হতে পারে। কিন্তু এটিই পরম্পরা হয়ে গেছে এখন।

তবে শুধু পেঁয়াজ আর রসুন নয়, এই গ্রামে নিয়ম এতটাই কড়া যে মাংস, মদ কেউ ছুঁয়েও দেখেন না। এই গ্রামে এমন অনেক মানুষ আছেন, যারা জানেনই না যে পেঁয়াজের দাম এতটা বেড়ে গেছে।

আইনিউজ/এইচএ