রাজধানীতে নৌকাডুবে দুই স্কুল ছাত্রের মৃত্যু

ঢাকা : রাজধানীর বাড্ডার আফতাবনগরে একটি ঝিলে নৌকায় সাত বন্ধু ঘুরতে বের হয়। একপর্যায়ে নৌকা ডুবে গেলে পাঁচ জন সাঁতরে উপরে উঠলেও দুইজন পানিতে তলিয়ে যায়। নিহত দুই স্কুলছাত্রের নাম, শাকিব ও সামী।

বৃহস্পতিবার (৩ অক্টোবর) সন্ধ্যা পৌনে ছয়টার দিকে ফায়ার সার্ভিসের ডুবুরিরা দুই ছাত্রের মৃতদেহ উদ্ধার করে বাড্ডা থানায় হস্তান্তর করে।

ফায়ার সার্ভিস সদর দফতরের ডিউটি অফিসার মো. এরশাদ বলেন, আফতাব নগরের শেষ মাথায় একটি ঝিলে নৌকাডুবির সংবাদ পেয়ে আমাদের ডুবুরিরা ঘটনাস্থলে যায়। পরে পানির নিচ থেকে দুই জনকে মৃত অবস্থায় উদ্ধার করে।

বাড্ডা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) রফিকুল ইসলাম ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে বলেন, নিহত দুইজন স্কুলছাত্র। বৃহস্পতিবার বিকাল সাড়ে ৫টার দিকে একটি নৌকায় সাতজন বন্ধু ঘুরতে বের হয়। একপর্যায়ে নৌকা ডুবে গেলে পাঁচ জন সাঁতরে উপরে উঠলেও দুইজন পানিতে তলিয়ে যায়। পরে ডুবুরিরা তাদের মৃতদেহ উদ্ধার করে। নিহত দুজনই নবম শ্রেণীর ছাত্র।

বাড্ডা থানার উপ পরিদর্শক (এসআই) মো. শহিদুল আলম বলেন, স্কুলের সাত বন্ধু ফুটবল খেলার জন্য আফতাব নগর আলমগীরের মাছের খামারে নৌকা দিয়ে পার হচ্ছিল তারা। তখন নৌকাটি ডুবে গেলে সাতরে পাঁচজন পাড়ে উঠতে পারলেও তারা সামি ও সাকিব তলিয়ে যায়। পরে ফায়ার সার্ভিসের ডুবুরি দল দুজনের মৃতদেহ উদ্ধার করে।

নিহত শিক্ষার্থীদের একজনের নাম মো. সাকিব (১৬)। তার বাবার নাম জসিম বাবুর্চি। তাঁরা কুমিল্লার বুড়িচং উপজেলার পিরাতলী গ্রামের বাসিন্দা। বর্তমানে জসিম পরিবার নিয়ে বাড্ডা পোস্ট অফিস গলির পাঁচতলা বাজার এলাকায় থাকেন।

আরেক শিক্ষার্থীর নাম তানভির সামি (১৬)। সামির বাবা মালয়েশিয়াপ্রবাসী বিপ্লব ব্যাপারী। তাঁরা মাদারীপুরের শিবচর এলাকার বাসিন্দা। সামির পরিবার বাড্ডা এলাকায় সাকিবদের বাসার পাশাপাশি থাকে।

দুই শিক্ষার্থীই পূর্ব বাড্ডার হাজী আলমাস উচ্চবিদ্যালয়ের নবম শ্রেণির শিক্ষার্থী।

সাকিবের বাবা জসিম বাবুর্চি বলেন, ‘আজ সকালে ছেলে আমার কাছে খেতে চায়। আমি তাকে নিজে হাতে ভাত খাইয়ে দিই। পরে সে স্কুলে যায়। আজ অর্ধদিবস স্কুল ছিল। স্কুল থেকে বাসায় ফিরে বন্ধুদের সঙ্গে খেলতে যায়। আমি দুপুরে মসজিদ থেকে নামাজ পড়ে বাসায় এসে শুনি, সে বন্ধুদের সঙ্গে খেলত গিয়ে পানিতে ডুবে মারা গেছে।’