রেনিটিডিনে ক্যানসার উপাদান, উৎপাদন ও বিক্রি নিষিদ্ধ 

নিজস্ব প্রতিবেদক, ঢাকা : গ্যাস্ট্রিকের ঔষধ রেনিটিডিনে উৎপাদন, আমদানি ও বিক্রি নিষিদ্ধ করেছে বাংলাদেশ ওষুধ প্রশাসন অধিদপ্তর।

সাময়িক এই নিষেধাজ্ঞা কেবল ভারতের সারাকা ল্যাবরেটরিজ ও ডা. রেড্ডির কাঁচামালের উপর। অন্য উৎস থেকে আনা রেনিটিডির হাইড্রোক্লোরাইড আমদানিতে কোনো বাধা নেই। ওষুধ প্রশাসন অধিদপ্তরের মহাপরিচালক মেজর জেনারেল মো. মাহবুবুর রহমান গণমাধ্যমকে এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন।

রোববার (২৯ সেপ্টেম্বর) ওষুধ প্রশাসন অধিদপ্তরের পক্ষ থেকে এ সাময়িক নিষেধাজ্ঞা জারি করা হয়। রেনিটিডিন ওষুধে ক্যানসার সৃষ্টিকারী উপাদান রয়েছে যুক্তরাজ্যে এমন প্রতিবেদন প্রকাশের ভিত্তিতে ওষুধটি নিষিদ্ধের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়।

ওষুধ প্রশাসন অধিদপ্তরের মহাপরিচালক মেজর জেনারেল মো. মাহবুবুর রহমান গণমাধ্যমকে বলেছেন, ওষুধ খাতের নেতৃস্থানীয়দের সঙ্গে বৈঠক করে সার্বিক পরিস্থিতি বিশ্লেষণ করে সারাকা ল্যাবরেটরিজ ও ডা. রেড্ডির কাঁচামাল আমদানিতে সাময়িক নিষেধাজ্ঞা দেওয়া হয়েছে। পাশাপাশি ওই কাঁচামালে তৈরি ট্যাবলেটও নিষিদ্ধ করা হয়েছে।

তিনি বলেন, “এই নিষেধাজ্ঞা সাময়িক, কারণ যুক্তরাষ্ট্রের ফেডারেল ড্রাগ অ্যাডমিনস্ট্রেশন এটা (রেনিটিডিন) নিষিদ্ধ করেনি, কিংবা নিষিদ্ধের সুপারিশও করেনি। কোম্পানিগুলো স্বউদ্যোগেই ওষুধ বাজার থেকে তুলে নিচ্ছে।”

সারাকার কাঁচামাল আমদানি আপাতত বন্ধ রাখার পাশাপাশি আগে ওই কাঁচামালে উৎপাদিত ওষুধ ‘কোয়ারেন্টাইন’ করে রাখতে বলা হয়েছে। অর্থাৎ এসব ওষুধ বিক্রি বা বিতরণ করা যাবে না।

সম্প্রতি অন্যতম শীর্ষ ওষুধ প্রস্তুতকারী বহুজাতিক প্রতিষ্ঠান গ্ল্যাক্সোস্মিথক্লাইন (জিএসকে) তাদের তৈরি রেনিটিডিন ট্যাবলেটে ক্যান্সার সৃষ্টিকারী উপাদানের উপস্থিতির কারণে বিশ্ববাজার থেকে এটি তুলে নেওয়ার ঘোষণা দেয়। এ কারণে বাংলাদেশেও এই ওষুধ নিষিদ্ধ করলো ওষুধ প্রশাসন অধিদপ্তর।

তবে, গ্যাস্ট্রিকের জন্য ওমিপ্রাজল বা অন্য ওষুধে এ ধরনের জটিলতা রয়েছে কি-না, সে বিষয়ে এখনো নিশ্চিত হওয়া যায়নি।

এ বিষয়ে ঔষধ প্রশাসনের মহাপরিচালক বলেন, আমাদের নির্দেশনা অনুসারে রোববার (২৯ সেপ্টেম্বর) থেকেই বাজারে রেনিটিডিন বিক্রি নিষিদ্ধ। ব্যবসায়ীদের উদ্যোগেই বিভিন্ন নামে থাকা ওষুধগুলো প্রত্যাহার করা হবে। বাংলাদেশের ৩১টি ওষুধ কোম্পানি ভারতের সারাকা ল্যাবরেটরিজ থেকে রেনিটিডিন ট্যাবলেটের কাঁচামাল আমদানি করে।

এছাড়া, ডা. রেড্ডি নামে আরেকটি কোম্পানি থেকেও কাঁচামাল আমদানি করা হয়, যদিও তাদের কাছ থেকে আমদানি নিষিদ্ধ ছিল। এবার দু’টি কোম্পানি থেকেই রেনিটিডিনের কাঁচামাল আমদানি নিষিদ্ধ করা হয়েছে। বাংলাদেশ ওষুধ শিল্প সমিতির নেতারা জনস্বার্থেই বাজার থেকে রেনিটিডিন প্রত্যাহার, কাঁচামাল আমদানি ও উৎপাদন না করার বিষয়ে রাজি হয়েছেন।

বৈঠকে উপস্থিত জিএসকে কোম্পানির প্রতিনিধিরাও বাজার থেকে রেনিটিডিন তুলে নেওয়ার কথা বলেছেন বলে জানান মেজর জেনারেল মাহবুবুর রহমান।

এছাড়া, বাজার থেকে নমুনা সংগ্রহ করে ঔষধ প্রশাসনের পরীক্ষাগারে এগুলোর গুণগত মান পরীক্ষা করা হবে। সে অনুসারেই এ বিষয়ক পরবর্তী কার্যক্রম পরিচালিত হবে।