অকপট সত্য-২
শিশুমনে ভীতি থেকে ঘৃণা

পূর্ণা রায় ভৌমিক

কেস স্টাডি : ২

নিশান। শৈশবে স্থিরতা খুব কমই ছিলো তার। অসম্ভব চঞ্চল ছেলেটি প্রাণ প্রাচুর্যে ছিলো ভরপুর। চাঞ্চল্য আর উচ্ছলতায় তার দিন কেটে যেতো; দুরন্তপনায়, সাঁতার কেটে, গাছে চড়ে, ঘুরেফিরে, আর খাবার খেয়ে লুকিয়ে অথবা সদরি। লুকিয়ে খেয়ে ফেলতো বলে প্রচণ্ড বকা খেতো, কখনও প্রচণ্ড মারধোর। মায়ের বকুনি পিটুনি ছিলো নিত্যদিনের। পরিবারের অন্যান্য সদস্যরাও একইভাবেই শাসন করতেন।

একদিন লুকিয়ে রসগোল্লা খেয়ে ফেলার অপরাধে ৭ থেকে ৮ বছরের নিশানকে ঢুকানো হয় বস্তায়। আনা হয় বটি-দা, জিহ্বা কেটে ফেলার জন্য।

ছোট্ট নিশান বুঝতে পারেনি এটা ছিলো শুধুই ভয় দেখানো। নিশান কেঁদে কেটে হাতে পায়ে ধরে বললো “আর খাবো না…”, “আর করবো না…”,  “আমার জিহ্বা কেটো না…”।  অনেক কেঁদে ভেবেছিলো প্রাণে তো বাঁচলো, “রসগোল্লা” আর না খেলেও চলবে।

ছবি : প্রতীকি

মন থেকেই বলেছিলো বলেই হয়তো আর কোনোদিনও সে “রসগোল্লা” খায় নি; খেতে পারে নি। প্রৌঢ়ত্বের দ্বারে এসে এখন সে বুঝতে পারে, সেই দিনের ভয় থেকে “রসগোল্লা”র প্রতি এতোটাই ঘৃণা জন্মেছে যে,”রসগোল্লা” তার অপছন্দের তালিকার শীর্ষে।

আজকের প্রতিষ্ঠিত নিশান, নিজের টাকায় নানা ধরনের দুগ্ধজাত মিষ্টিদ্রব্য কিনে খাওয়ার মতো সক্ষম হলেও, শৈশবের সেই “রসগোল্লা” খাওয়ার ভীতিকর শাস্তি, তাকে এনে দিয়েছে দুগ্ধজাত দ্রব্যের প্রতি অরুচি আর ঘৃণা।

তাই শিশুর প্রতি শাসনের মাত্রা, ভয় দেখানোর মাত্রা খেয়াল রাখা প্রয়োজন। কারণ শিশুমনে ভয় থেকে জন্মাতে পারে ঘৃণা।

চলবে

পূর্ণা রায় ভৌমিকপ্রধান শিক্ষক, আলী আমজদ সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়, মৌলভীবাজার সদর

শিশুর নিরাপদ চলাফেরা