অকপট সত্য ১৬
শিশুর প্রারম্ভিক শৈশবই কথা শেখানোর সময়

পূর্ণা রায় ভৌমিক

কেস স্টাডি-১৬

নিতুর এখন সাত আট বছর বয়স। ওর কথাগুলো অনেকেরই পছন্দ নয়। কিন্তু ও যা বলে সবই রূঢ় সত্য। একদিন খাবার টেবিলে একজন অতিথিকে বলে উঠলো ” আপনি তো সবচেয়ে বেশি ভাত খেয়েছেন “। নিতুর মা ঠাস করে নিতুকে চড় মারলেন। নিতু কাঁদলো। উপস্থিত সবাই লজ্জিত হলেন। অতিথি অপ্রস্তুত হলেও সামলে নিলেন নিজেকে। হেসে উড়িয়ে দিলেন।

প্রথমবার এমন পাকা কথা যদি মায়ের পক্ষেও যায় তবুও শিশুকে বারণ করা উচিৎ। কারণ, এমন কথার জন্য নিজেকেও ভবিষ্যতে লজ্জিত হতে হবে।

অতিথিরা যদিও বললেন ছোট্ট মানুষ। কিন্তু মনে মনে খুব রাগ করলেন। রাগ করলেন তার পরিবারের বড়রা কথা বলতে শেখায় নি বলে। ফিরে যাওয়ার সময় একজন বলেও গেলেন কথা ফোটার সময়ই শিশুকে এসব কথা বলতে বারণ করা উচিৎ ছিলো। তখন মা অথবা বড়রা খেয়াল করেন নি।

পরিবারের মধ্যে ঝগড়াঝাটি শুরু হলো। শুরু হলো কে কি করেছেন এ নিয়ে বাক বিতন্ডা।

কি সমস্যা ছিলো এখানে

  • শিশুর প্রারম্ভিক শৈশবে যখন প্রথম পাকা পাকা কথা বলে তখন পরিবারের সবাই খুব উপভোগ করে। কিন্তু কেউ শুধরে দেয় নি। বারণ করে নি।
  • পরিবারের শিশুর প্রথম শিক্ষক এবং প্রধান শিক্ষক “মা”। মা অতিরিক্ত আবেগে আদরে শিশুকে ভালো কথা মন্দ কথা শেখান নি।
  • কোন কথা বলা উচিৎ কোনটা নয় সেই শিক্ষাটা সঠিক সময়ে না দিয়ে তার এমন কথা বলাতে আনন্দে আত্মহারা হয়েছেন। শিশুটি সবাইকে আনন্দ দেয়া ও জব্দ করার মানসিকতা থেকেই এমন কথা রপ্ত করতে থাকে।

করণীয়

  • শিশুর মুখে তেমন কথাই তুলে দেয়া উচিৎ যা ভবিষ্যতের এই মানুষটির মধ্যে দেখতে পাওয়া যাবে বা তার মুখে শোনা যাবে।
  • প্রথমবার এমন পাকা কথা যদি মায়ের পক্ষেও যায় তবুও শিশুকে বারণ করা উচিৎ। কারণ, এমন কথার জন্য নিজেকেও ভবিষ্যতে লজ্জিত হতে হবে।

পূর্ণা রায় ভৌমিক, প্রধান শিক্ষক, আলী আমজাদ সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়