সব্যসাচী লেখক সৈয়দ শামসুল হকের তৃতীয় মৃত্যুবার্ষিকী

আজ সব্যসাচী লেখক সৈয়দ শামসুল হকের তৃতীয় মৃত্যুবার্ষিকী। ২০১৬ সালের এই দিনে লেখক ফুসফুসের ক্যান্সারে আক্রান্ত হয়ে রাজধানীর ইউনাইটেড হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা যান।

মৃত্যুর পরে খ্যাতিমান এই লেখকের ইচ্ছানুযায়ী তাকে তার জন্ম-শহর কুড়িগ্রামের সরকারি কলেজের মূল ফটকের পাশেই রাষ্ট্রীয় মর্যাদায় তাকে দাফন করা হয়।

সৈয়দ শামসুল হক ১৯৩৫ সালের ২৭ ডিসেম্বর কুড়িগ্রাম শহরের থানাপাড়ার পৈত্রিক নিবাসে জন্মগ্রহণ করেন। তার বাবা সৈয়দ সিদ্দিক হুসাইন ও মা হালিমা খাতুন। বাবা পেশায় ছিলেন হোমিওপ্যাথিক ডাক্তার। সৈয়দ হক তার বাবা-মায়ের আট সন্তানের মধ্যে সবার বড়।

কুড়িগ্রামের মানুষ আজও তাকে শ্রদ্ধার সাথে স্মরণ করে। আজ শুক্রবার (২৭ সেপ্টেম্বর) তার মৃত্যুবার্ষিকী উপলক্ষে সকা‌লে জেলা প্রশাসন, জেলা আইনজীবী সমিতি ও সম্মিলিত সাংস্কৃতিক জোটসহ বিভিন্ন সামাজিক ও সাংস্কৃতিক সংগঠন কবির সমাধিতে পুষ্পার্ঘ্য অর্পণ করে। পরে একটি র‌্যালি বের হয়ে জেলা প্রশাসন চত্বরে শেষ হয়। সেখানে নবনির্মিত ‘স্বপ্ন কুঁড়ি’ নামক হলরুমে ক‌বির জীবন ও সা‌হিত্য নি‌য়ে আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়।

সৈয়দ শামসুল হককে সব্যসাচী লেখক বলা হয়ে থাকে। কেননা বাংলা সাহিত্যের প্রায় সব শাখায় তিনি সমানভাবে বিচরণ করতে পেরেছিলেন। এছাড়াও ১৯৬৪ সালে যখন তার বয়স মাত্র ২৯ বছর, তখনই তিনি বাংলা একাডেমী পুরস্কার অর্জন করতে পেরেছিলেন। তার আগে কেউ এই পুরস্কার এতো কম বয়সে অর্জন করতে পারেনি। এছাড়াও তার ঝুলিতে অন্যান্য আরো সম্মাননার সাথে রয়েছে একুশে পদক ও স্বাধীনতা পদক।

সব্যসাচী লেখক খ্যাত সৈয়দ শামসুল হক

১৯৫০-এর দশকে প্রকাশিত হয় তার প্রথম উপন্যাস ‘দেয়ালের দেশ’। সে ধারাবাহিকতায় প্রকাশিত তার অন্যান্য উপন্যাসগুলো হলো– খেলারাম খেলে যা, নিষিদ্ধ লোবান, সীমানা ছাড়িয়ে, নীল দংশন, বারো দিনের জীবন, তুমি সেই তরবারি, কয়েকটি মানুষের সোনালি যৌবন ও নির্বাসিতা।

তার বিখ্যাত কাব্যগ্রন্থগুলোর মধ্যে রয়েছে– একদা এক রাজ্যে, বৈশাখে রচিত পঙক্তিমালা, পরানের গহীন ভিতর, অপর পুরুষ, অগ্নি ও জলের কবিতা।পায়ের আওয়াজ পাওয়া যায় ও নুরুলদীনের সারাজীবন সৈয়দ শামসুল হকের বিখ্যাত কাব্যনাট্য।

নাটকীয়তায় ভরা তারুণ্যে ম্যাট্রিকুলেশন পাস করার পর ১৯৫১ সালে মুম্বাই পালিয়ে যান এ সব্যসাচী লেখক। সিনেমা প্রোডাকশন হাউসের সহকারী হিসেবে বছরখানেক কাজ করার পর ঢাকায় ফিরে আবারও লেখাপড়া শুরু করলেও তার প্রাতিষ্ঠানিক শিক্ষা অসম্পূর্ণই থেকে যায়।

মুক্তিযুদ্ধের আগ পর্যন্ত তিনি বেশ কিছু সিনেমার চিত্রনাট্য লিখে সুনাম কুড়িয়েছেন। যেমন– মাটির পাহাড়, তোমার আমার, কাচ কাটা হীরে, বড় ভালো লোক ছিল ইত্যাদি। তিনি শ্রেষ্ঠ চিত্রনাট্যকার হিসেবে জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কারও লাভ করেন।

১৯৭১ সালের নভেম্বরে তিনি লন্ডন চলে যান। সেখানে বিবিসি বাংলার সংবাদ পাঠক হিসেবে চাকরি করেন।

উল্লেখ্য, ১৬ ডিসেম্বর পাকিস্তান সেনাবাহিনীর আত্মসমর্পণের খবর বিবিসি থেকে তিনিই পাঠ করেছিলেন।

আইনিউজ/এসডি