স্বাস্থ্যকর্মীদের সুরক্ষায় সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দেওয়া হয়েছে : প্রধানমন্ত্রী

ঢাকা : চিকিৎসক ও স্বাস্থ্যকর্মীদের জন্য প্রয়োজনীয় সুরক্ষা সরঞ্জামের পর্যাপ্ত মজুত আছে বলে জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা।

বুধবার (২৫ মার্চ) জাতির উদ্দেশে দেওয়া ভাষণে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা এ তথ্য জানান।

করোনাভাইরাস (কোভিড-১৯) মোকাবেলায় চিকিৎসকদের ভূমিকা তুলে ধরে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেন, আক্রান্ত ব্যক্তিদের চিকিৎসাসেবা দিতে স্বাস্থ্যকর্মীদেরই সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করতে হবে। তাদের সুরক্ষার জন্য পর্যাপ্ত পরিমাণ সরঞ্জাম সরবরাহ করা হয়েছে এবং যথেষ্ট পরিমাণ সরঞ্জাম মজুত আছে।

ব্যক্তিগত সুরক্ষা সামগ্রীরও পর্যাপ্ত মজুত রয়েছে। এ নিয়ে বিভ্রান্ত হবেন না। স্বাস্থ্যকর্মীদের সুরক্ষার বিষয়ে সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দেওয়া হয়েছে।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, গতকাল পর্যন্ত ১৩ হাজার পরীক্ষা কিট মজুদ ছিল। আরও ৩০ হাজার কিট শিগগিরই দেশে পৌঁছাবে। ঢাকায় আটটি পরীক্ষার যন্ত্র রয়েছে। দেশের অন্য সাতটি বিভাগেও করোনাভাইরাস পরীক্ষাগার স্থাপনের কাজ চলছে।

স্বাস্থ্যকর্মীসহ আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী, সশস্ত্র বাহিনী ও প্রশাসনের সদস্যদের এই ভাইরাসের সংক্রমণ বিস্তার রোধে একযোগে কাজ করার জন্য ধন্যবাদ জানান প্রধানমন্ত্রী।

তিনি বলেনম, বেতার-টেলিভিশন ও সংবাদপত্রসহ অন্যান্য সামাজিক মাধ্যমে করোনাভাইরাস সংক্রান্ত জনসচেতনতামূলক প্রচারণা জোরদার করা হয়েছে। জেলা, উপজেলা পর্যায়ে লিফলেট বিতরণ করা হচ্ছে। তবে কেউ গুজব ছড়াবেন না। গুজব রটনাকারীদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

বিভিন্ন দেশ থেকে বাংলাদেশে আসা ব্যক্তিদের হোম কোয়ারেনটাইনে রাখা হচ্ছে জানিয়ে প্রধানমন্ত্রী বলেন, গত ১৯ মার্চ থেকে বিদেশ থেকে আসা সব যাত্রীর সেনাবাহিনীর মাধ্যমে বিমানবন্দর থেকে বাধ্যতামূলক কোয়ারেনটাইনে রাখার ব্যবস্থা করা হয়েছে। এছাড়া সেনাবাহিনীর তত্ত্বাবধানে ঢাকায় আশকোনা হাজী ক্যাম্প ও টঙ্গীর ইজতেমা ময়দান কোয়ারেনটাইন সেন্টার হিসেবে পরিচালিত হচ্ছে।

তিনি বলেন, আমরা এরই মধ্যে অন-অ্যারাইভাল ভিসা বন্ধ করে দিয়েছি। বিদেশে অবস্থিত আমাদের মিশনগুলোকে কোনো বিদেশি নাগরিককে ভিসা না দিতে বলা হয়েছে। বিদেশ থেকে যারা আসছেন তাদের তালিকা ঠিকানাসহ জেলা প্রশাসনের কাছে পাঠিয়ে দেওয়া হচ্ছে। স্থানীয় প্রশাসন আগত প্রবাসীদের হোম কোয়ারেনটাইনে রাখার ব্যবস্থা করছেন।

রোগতত্ত্ব, রোগ নিয়ন্ত্রণ ও গবেষণা প্রতিষ্ঠানে (আইইডিসিআর) হটলাইন নম্বর খোলা হয়েছে জানিয়ে প্রধানমন্ত্রী বলেন, এছাড়া সোসাইটি অব ডক্টরস তাদের ৫০০টি নম্বর উন্মুক্ত করে দিয়েছে। করোনাভাইরাসের উপসর্গ দেখা দিলে ওই সব নম্বরে যোগাযোগ করুন। সরকার চিকিৎসার যাবতীয় ব্যবস্থা নিয়েছে।

তিনি বলেন, করোনাভাইরাস দ্রুত ছড়ানোর ক্ষমতা রাখলেও ততটা প্রাণঘাতী নয়। এ ভাইরাসে আক্রান্ত সিংহভাগ মানুষই কয়েকদিনের মধ্যে সুস্থ হয়ে ওঠেন। তবে, আগে থেকেই নানা রোগে আক্রান্ত ও বয়স্ক মানুষদের জন্য এই ভাইরাস বেশ প্রাণ-সংহারী হয়ে উঠেছে। সে জন্য আপনার পরিবারের সবচেয়ে সংবেদনশীল মানুষটির প্রতি বেশি নজর দিন। তাকে সুস্থ রাখার চেষ্টা করুন। তাকে ভাইরাসমুক্ত রাখার সর্বাত্মক উদ্যোগ নিন।

আতঙ্কিত না হওয়ার আহ্বান জানিয়ে শেখ হাসিনা বলেন, আতঙ্ক মানুষের যৌক্তিক চিন্তাভাবনার বিলোপ ঘটায়। সবসময় খেয়াল রাখুন, আপনি ও আপনার পরিবারের সদস্য এবং আপনার প্রতিবেশীরা যেন সংক্রমিত না হন। আপনার সচেতনতা আপনাকে, আপনার পরিবারকে ও সর্বোপরি দেশের মানুষকে সুরক্ষিত রাখবে।

এইচকে/ আই নিউজ