হরিণ শিকারীরা লোকসানে পড়বেন কিন্তু!

সোশ্যাল মিডিয়া: রাসমেলাকে ঘিরে সুন্দরবনে হরিণ শিকারীরা তান্ডব চালায়। মেলায় ঘুরতে যাওয়া পর্যটকদের জন্য তারা ফাঁদ পেতে হরিণ ধরে। জীবিত হরিণ বেঁধে রাখে, বিক্রি করে ট্রলারে ট্রলারে।

তিন দিন আগের ঘটনা। মংলার জয়মনি থেকে তিনটি ট্রলার আটক করে সুন্দরবন পূর্ব বন বিভাগ। রামপালের গৌরম্ভা ইউনিয়নের ৬০ জনকে হরিণ ধরা ফাঁদসহ আটক করে ৬লাখ টাকা জরিমানা করা হয়। দুবলার চরের রাসমেলার এক সপ্তাহ আগেই ট্রলার নিয়ে শিকারীদের সুন্দরবনে প্রবেশের চেষ্টা রীতিমত দু:সাহস।

ধরুন, বন বিভাগের নজর এড়িয়ে এই তিনটি ট্রলার সুন্দরবনে ঢুকে গেলো। তিনটি ট্রলার সুন্দরবনের তিনটি এলাকায় ঢুকে পড়লো রাতে রাতে। তারপর বনের ভেতরে দড়ি দিয়ে বানানো হরিণের ফাঁদ পেতে রাখলো। (হরিণ ধরার ফাঁদকে স্থানীয় ভাসায় ডোয়া বলে, দড়িও বলে অনেকে)। অভয়াশ্রমের ভেতরে পাতা প্রতিটি ডোয়ায় প্রতিদিন অন্তত ২০ থেকে ৩০টি হরিণ ধরা পড়তো। আমার ধারণা, সাত দিনে তারা এক-দেড়শ’ হরিণ ধরে ফেলতো তারা। জীবিত হরিণগুলোকে বেঁধে রাখা হতো বনের ভেতরে। এরপর ফোনে ফোনে রাসমেলার যাত্রীদের সঙ্গে যোগাযোগ করে এই হরিণ বিক্রি করতো

যতটুকু জানতে পেরেছি, গেলো ৩০ অক্টোবর রাতেই দুবলার চরের জেলে বহরের সঙ্গে সুন্দরবনে ঢুকে পড়েছে কয়েকশ’ চোরা শিকারী। তারও আগে কাঁকড়া শিকারী হিসেবে সুন্দরবনে ঢুকেছে আরও এক দেড়শ’ জেলে। এরা সবাই চুরি করে ঢুকে পড়েছে বনে। রাসমেলাকে কেন্দ্র করে হরিণ শিকার প্রতিরোধে বন বিভাগের বাড়তি তৎপরতা শুরুর পর থেকে লুকিয়ে ক’দিন আগেই বনে ঢুকে পড়ার প্রবণতার শুরু। এবছর বন বিভাগের অবস্থান আরও শক্ত। কিন্তু চোরা শিকারীদের আটকানো খুব কঠিন। যেকোনো মূল্যে তারা ঢুকবেই বনে। আমার কাছে মনে হয়, এটা যতোটা না টাকার জন্য, তার চেয়ে বেশী নেশা।

পেশা হোক বা নেশা… রাসমেলাকে কেন্দ্র করে চলে এই অপকর্ম। আমার হিসেবে শুধু রাসমেলার তিনদিনেই সুন্দরবনের হরিণ শিকার হয় অন্তত তিন হাজার। দীর্ঘদিন বনে চলাফেরা করে এই ধারণা আমার।

ক’দিন আগেও লিখেছিলাম এনিয়ে। বলতে চাই, সুন্দরবনকে বাঁচানো দরকার। রামপালে বিদ্যুৎকেন্দ্র হোক, সেটিও চাই না আমি। বনের আশেপাশে কলকারখানাও চাই না। সুন্দরবনে বিষ দিয়ে মাছ শিকার বন্ধ করতে হবে। অভয়াশ্রমে জেলে-বাওয়ালীদের প্রবেশ শুণ্যে নামাতে হবে। চোরা শিকারীদের হাত থেকে বাঁচাতে হবে সুন্দরবনের হরিণ, পাখি, বেঙ্গল টাইগারসহ বন্যপ্রাণিদের।

শীত মৌসুমে দুবলার চরে জেলেদের অবস্থানে এমনিতেই ক্ষতির মধ্যে পড়ে সুন্দরবন। এত মানুষের রুটি-রুজির ব্যাপার। সেটুকু ক্ষতি না হয় মেনেই নিলাম। কিন্তু রাসমেলায় যেভাবে মানুষ সুন্দরবনে প্রবেশ করে, তিনদিন থাকে সেই চাপ সুন্দরবনকে দেওয়া মহা অন্যায়। এই মেলাকে কেন্দ্র করে হরিণ শিকারের মহোৎসবও থামুক। রাসপূজা চলুক দুবলার চরে। কিন্তু রাসমেলা বন্ধ হোক।

আর হরিণ শিকারীদের বলছি, এবছর রাসমেলার সময় সিগন্যাল থাকবে। মেলা হয় কী না তারও ঠিক নাই। হরিণগুলো নষ্ট করবেন না দয়া করে…

লেখা: মহসিনুল হাকিমের ফেসবুক থেকে সংগৃহিত