হলুদে বাসন্তী ও কাঁঠালি রং : গর্ভবতী মায়েদের রক্তে মাত্রাতিরিক্ত সীসা

আই নিউজ ডেস্কঃ আইসিডিডিআরবি এবং যুক্তরাষ্ট্রের স্ট্যানফোর্ড বিশ্ববিদ্যালয়ের এক যৌথ গবেষণায় উঠে এসেছে রান্না করার জন্য যে হলুদ ব্যবহার করা হয় তাতে ক্ষতিকারক সীসা বা লেড ক্রোমেট রয়েছে। আইসিডিডিআরবি এবং যুক্তরাষ্ট্রের স্ট্যানফোর্ড বিশ্ববিদ্যালয়ের গবেষণাযর সূত্র ধরে বাংলাদেশে নিরাপদ খাদ্য কর্তৃপক্ষ বুধবার এক সতর্কবার্তায় বলেছে রান্না করার জন্য যে হলুদ ব্যবহার করা হয় তাতে ক্ষতিকারক সীসা বা লেড ক্রোমেট পাওয়া গেছে। এরপর নিরাপদ খাদ্য কর্তৃপক্ষ এই সতর্কবার্তা দিয়েছে।
সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে এই হলুদ ব্যবসার সাথে জড়িতদের বিরুদ্ধে নজরদারী করতে এবং আগামী সপ্তাহে ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনা করে দূষিদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নেয়া হবে। আইসিডিডিআরবির গবেষণায় বলা হচ্ছে ২০১২-১৩ সালের দিকে বাংলাদেশের নয়টা জেলায় গর্ভবতী মায়েদের রক্তে সীসার পরিমাণ মাত্রার চেয়ে অধিক পরিমাণ পাওয়া যায়। পরবর্তীতে সংস্থাটি এই সীসার উৎস খোঁজার জন্য নানা ধরণের নমুনা সংগ্রহ করে। পরে হলুদে সীসার মিশ্রণ খুঁজে পায় তারা।
যুক্তরাষ্ট্রের স্ট্যানফোর্ড বিশ্ববিদ্যালয়ে ল্যাব টেস্টের মাধ্যমে দেখা যায় এই সীসার উৎস অবৈধভাবে ব্যবহৃত রং বা উজ্জলকারক লেড ক্রোমেট। স্থানভেদে এই লেড ক্রোমেট কে স্থানীয়ভাবে পিউরি, বাসন্তী রং, কাঁঠালি বা সরষে ফুল রং নামে পরিচিত।
আইসিডিডিআরবির একজন গবেষক ড.মাহাবুবুর রহমান বলছিলেন হলুদের রং কে আরো উজ্জ্বল করার জন্য এই লেড ক্রোমেট ব্যবহার করা হয়। মি. রহমান বলেন ” এটার উৎস খুঁজতে যেয়ে আমরা বিভিন্ন ধরণের নমুনা সংগ্রহ করি যে কী কী সোর্স হতে পারে”। “এক্সপ্লোর করতে যেয়ে আমরা দেখি হলুদটা যখন প্রসেস করা হয় তখন সেটাকে আরও শাইনি এবং ব্রাইট করার জন্য, চকচকে করার জন্য এরা এই লেড ক্রোমেট ব্যবহার করে” বলেন মি. রহমান।