মো. গোলাম মোর্শেদ
আপডেট: ২০:২৩, ৮ ফেব্রুয়ারি ২০২২
ঘরে বসে আইইএলটিএস প্রস্তুতি - IELTS Practice

বর্তমানে বাংলাদেশসহ গোটা বিশ্বে IELTS (আইইএলটিএস) একটি অন্যতম হট টপিক। কিন্তু IELTS আসলে কী? কেন IELTS প্রয়োজন? IELTS এ অংশগ্রহণ করতে কী কী লাগবে? এর ফিস কত হতে পারে? IDP IELTS (আইডিপি) ভালো না কি British Council (ব্রিটিশ কাউন্সিল) ভালো? কীভাবেই বা এর প্রস্তুতি নিবো? কোচিং এ না গিয়ে ঘরে বসে কীভাবে প্রস্তুতি নিবো? স্টুডেন্ট ভিসা বা ওয়ার্ক পারমিটে কীভাবে IELTS কার্যকর? IELTS এর বিকল্প কী? কানাডা, ইউএস যেতে আইইএলটিএস লাগবে কী না? চলুন জেনে আসি।
IELTS (আইইএলটিএস) কী
IELTS হচ্ছে International English Language Testing System এর সংক্ষিপ্ত রূপ । অর্থাৎ বিশ্বজুড়ে ইংরেজী ভাষার উপর সবচেয়ে নির্ভরযোগ্য পরীক্ষা পদ্ধতি হচ্ছে IELTS। এই পরীক্ষা দ্বারা মূলত একজন ব্যক্তির ইংরেজীর ভাষার ওপর আধিপত্য যাচাই করা হয়ে থাকে। যার স্কোর যত বেশি সাধারণত তাকেই এই ভাষায় একটু বেশি পটু হিসেবে বিবেচনা করা হয়। তবে মনে রাখতে হবে IELTS জ্ঞানমূলক কোনো পরীক্ষা নয়।
IELTS কেন প্রয়োজন
- IELTS যেহেতু ইংরেজী ভাষার দক্ষতা যাচাইয়ে সবচেয়ে কার্যকর তাই নিজের ভাষাগত দক্ষতা যাচাইয়ে এটি হতে পারে আপনার জন্য অসাধারণ একটি সুযোগ। তাছাড়া বর্তমানে ইউরোপ ও আমেরিকান অনেক দেশেই শিক্ষার্থী বা শ্রমিক হিসেবে পাড়ি জমাতে IELTS সার্টিফিকেট এর প্রয়োজন হয়। ভালো স্কোর থাকলে অনেক ইউনিভার্সিটি থেকে আন্তর্জাতিক শিক্ষার্থীরা স্কলারশীপও পেতে পারেন।
- IELTS সার্টিফিকেট কানাডা, ইউএস, ইউকে, জার্মানি, অস্ট্রেলিয়াসহ বিশ্বের বিভিন্ন দেশে গৃহীত হয়। স্টুডেন্ট ভিসায় এসব দেশে যেতে হলে এই সার্টিফিকেট অবশ্যই প্রয়োজন।
- বিশ্বের অনেক রাষ্ট্র এমনকি অনেক মাল্টিন্যাশনাল কোম্পানিও বর্তমানে প্রচুর পরিমাণে দ্বোভাষী নিয়োগ দিচ্ছে বিভিন্ন কূটনৈতিক, রাজনৈতিক ও বাণিজ্যিক কারণে। ইংরেজী ভাষার ওপর দক্ষতার প্রমাণস্বরূপ IELTS এর সার্টিফিকেট হতে পারে আপনার জন্য এক বিরাট হাতিয়ার।
- তাছাড়া IELTS পরীক্ষা দিয়ে বিদেশ না গিয়ে দেশেও আপনি পাবেন নানাবিধ সুবিধা। দেশের যেকোনো জায়গায় চাকরির ক্ষেত্রে IELTS এর সার্টিফিকেটকে খুবই গুরুত্বের সাথে বিবেচনায় নেওয়া হয়। নিজেও অনেক এজেন্সীর হয়ে কাজ করতে পারবেন। বিশেষ করে বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী হিসেবে কোচিং বা প্রাইভেট টিউশন করানোর একটি সুবিধা পাবেন।
এখানে উল্লেখ্য যে, IELTS সার্টিফিকেট এর মেয়াদ থাকে ২ বছর।
IELTS কারা দিতে পারবে
যেকোনো বয়স ও শিক্ষাবর্ষের ব্যক্তি IELTS দিতে পারবেন। তবে ব্যক্তির অবশ্যই পাসপোর্ট থাকতে হবে।
IELTS পরীক্ষা দিতে কী কী প্রয়োজন, কিভাবে আইএলটিএস রেজিস্ট্রেশন করবেন
IELTS এর জন্য প্রয়োজনীয় কাগজপ্ত্র হিসেবে শুধুমাত্র আপনার পাসপোর্টটিই কাজে আসবে। এর দ্বারা আপনি IDP IELTS বা British Council এর ওয়েবসাইটে প্রবেশ করে ই-মেইল এড্রেস সাবমিট করে অতি সহজ প্রক্রিয়ায় রেজিস্ট্রেশন করতে পারবেন।
মজার বিষয় হচ্ছে IELTS পরীক্ষাটি সম্পূর্ণ পেন্সিলভিত্তিক। তাই মূল পরীক্ষায় পেন্সিল, রাবার, শার্পনার নিয়ে যেতে হবে। তবে পরীক্ষার হলে অন্য যেকোনো অপ্রয়োজনীয় জিনিস নিয়ে ঢুকতে দেওয়া হবে না (যেকোনো ইলেক্ট্রনিক ডিভাইস এমনকি ঘড়ি)।
তাছাড়া আগ্রহী ব্যক্তি দেশের যেকোনো প্রান্তে কেন্দ্র (Test Center) বাছাই করে সেখানে পরীক্ষা দিতে পারবেন। রেজিস্ট্রেশনের পর পরীক্ষার্থীর ই-মেইল এড্রেসে কনফার্মেশন মেইল আসবে। তবে মূল পরীক্ষায় অবশ্যই পাসপোর্ট সাথে করে নিয়ে যেতে হবে।
- IDP IELTS এ রেজিস্ট্রেশন করতে এখানে ক্লিক করুন
- British Council IELTS এ রেজিস্ট্রেশন করতে এখানে ক্লিক করুন
IELTS এর ফিস বা খরচ কত
IDP IELTS বা British Council উভয়েরই ফিস সমান হয়। বর্তমানে নির্ধারিত ফিস হচ্ছে ২৫০ ইউএস ডলার বা প্রায় ২১,৫০০ টাকা। অনলাইনে অর্থপ্রদান করতে আপনার একটি ক্রেডিট/ডেবিট কার্ড (ভিসা/মাস্টারকার্ড) প্রয়োজন হবে তবে কেউ চাইলে IDP IELTS বা British Council অফিসে নগদ অর্থ প্রদান করে রেজিস্ট্রেশন করতে পারবেন। উল্লেখ্য, IDP IELTS বা British Council এর মধ্যে তেমন কোনো মৌলিক পার্থক্য নেই।
IELTS রেজিস্ট্রেশন করে পরীক্ষা দিতে না চাইলে
রেজিস্ট্রেশন করে পরীক্ষা দিতে না চাইলে আপনার টাকা ফেরত পাওয়ার জন্য বাছাইকৃত কেন্দ্রের সাথে যোগাযোগ করতে পারবেন। মূল পরীক্ষার অন্তত ৫ দিন পূর্বে প্রয়োজনীয় মেডিকেল সনদ দেখিয়ে আপনার টাকা ফেরত নিতে পারবেন। তবে IELTS কর্তৃপক্ষ কিছু পরিমাণ টাকা তাদের খরচ হিসেবে কেটে রাখবে।
IELTS (আইএলটিএস) এর মডিউল
- একাডেমিক (Academic/AC) - যারা উচ্চ শিক্ষার জন্য বিশ্ববিদ্যালয় বা অন্যান্য প্রতিষ্ঠানে ভর্তি হতে চান এবং ইন্টার্ন হিসেবে ইংরেজিভাষী দেশে অধ্যয়ন বা অনুশীলন করতে চান তাদের জন্য একাডেমিক মডিউলটি উপযোগী।
- জেনারেল ট্রেইনিং (General Training/GT) - যারা নন-একাডেমিক প্রশিক্ষণ নেওয়ার পরিকল্পনা করছেন বা কাজের জন্য বা অভিবাসনের উদ্দেশ্যে বিদেশ যাত্রা করবেন, তারা এই মডিউলে পরীক্ষা দিতে পারবেন। এই মডিউলকে জেনারেল আইএলটিএস ও বলা হয়।
- লাইফ স্কিল (Life Skill) – মূলত যারা বিদেশে অন্য কোনো স্থায়ী নাগরিকের পরিবারের সদস্য হিসেবে যেতে চান অথবা সাধারণ ইংরেজী জানা ব্যক্তি (Beginner or Intermediate) হিসেবে ইউরোপে প্রবেশ করতে চান তারা এই মডিউলে পরীক্ষা দিতে পারবেন।
কয় ধাপে IELTS (আইএলটিএস) নেওয়া হয়
IELTS সাধারণত চারটি ধাপে নেওয়া হয়ে থাকে।
• লিসেনিং (Listening)
• রিডিং (Reading)
• রাইটিং (Writing)
• স্পিকিং (Speaking)
লিসেনিং, রিডিং ও রাইটিং এ তিনটি ধাপ একসাথে অনুষ্ঠিত হয় এবং স্পিকিং ধাপটি আলাদাভাবে নেওয়া হয়ে থাকে।
লিসেনিং (Listening)
এই ধাপটি হচ্ছে শোনার দক্ষতার ওপর। এ ধাপে পরীক্ষার্থীর কানে হেডফোন এডজাস্ট করে দেওয়া থাকে যাতে সম্পূর্ণ ইংরেজিতে একটি রেকর্ড প্লে করা হয়। পরীক্ষার্থী কোনো ইংরেজী কথোপকথন বা স্পিচ শুনে শুনে তখন উত্তরপত্রে নোট করবেন। প্রশ্নপত্রে সাধারণত fill in the blanks, MCQ, heading matching, True/False/Not Given ইত্যাদি থাকে যার উত্তর (সরাসরি বা ঈষৎ পরিবর্তন করে) হেডফোনে কোনো বক্তা বলতে থাকবেন যা খুব সচেতন হয়ে ও মনোযোগের সাথে শুনতে হবে এবং প্রশ্নপত্রের সাথে মিলিয়ে তা সেখানেই টুকে নিতে হবে। কারণ রেকর্ডটি একবারই শোনানো হবে।
লিসেনিং এ ৪ টি পার্টে মোট ৪০ টি প্রশ্নের উত্তর দিতে হয়। প্রতিটি পার্ট শেষ হওয়ার পর স্বল্প কিছু সময় দেওয়া হয় উত্তর বিবেচনা করার জন্য। সকল প্রশ্নের খসড়া উত্তর প্রশ্নপত্রে নোট করার পর অতিরিক্ত ১০ মিনিট সময় দেওয়া হয় সঠিক উত্তর উত্তরপত্রে লিখার জন্য। লিসেনিং টেস্ট মূলত ৪০/৪৫ মিনিটের ভেতর সমাপ্ত হয়।
রিডিং (Reading)
এই ধাপটি দ্বারা ইংরেজী প্রবন্ধ বা রচনাজাতীয় লিখনী বোঝার দক্ষতা যাচাই করা হয়। এটিই IELTS এর সবচেয়ে জটিল ধাপ। এ ধাপে পরীক্ষার্থীদের একটি প্রশ্নপত্র দেওয়া হয় যাতে কয়েকটি প্যাসেজ দেওয়া থাকে। প্রতিটি প্যাসেজের পর কিছু প্রশ্ন থাকে যার উত্তর ঐ সংশ্লিষ্ট প্যাসেজে খুঁজতে বলা হয়। লিসেনিং এর মত রিডিং এও fill in the blanks, MCQ, heading matching, True/False/Not Given ইত্যাদি থাকে।
রিডিং এ ৬০ মিনিট সময় বরাদ্দ থাকে। এর মধ্যেই উত্তর বের করে তা উত্তরপত্রে লিপিবদ্ধ করতে হয়। তবে এই ধাপে ৩ টি প্যাসেজ (পার্ট) হতে ৪০ টি প্রশ্নের উত্তর দিতে হয়।
রাইটিং (Writing)
একজন ব্যক্তি কত ভালোভাবে ইংরেজীতে লিখে নিজের অনুভূতি প্রকাশ করতে পারেন তা যাচাই করা হয় এই ধাপে। ধাপটিতে দুইটি টাস্ক থাকে।
• টাস্ক ১ – গ্রাফ, চার্ট, কলাম, ডায়াগ্রাম, ম্যাপ ইত্যাদি হচ্ছে এই টাস্কের প্রধান বিষয়। পরীক্ষার্থীদের কাজ হচ্ছে এগুলো ভালোভাবে পর্যবেক্ষণ করে তার সারাংশ লিখা তবে তা হতে হবে তুলনাধর্মী। অর্থাৎ কম্পারেটিভ এনালাইসিস করে তা ১৫০ শব্দের ভেতর শেষ করতে হবে। তবে জেনারেল ট্রেইনিং বা GT র ক্ষেত্রে টাস্ক ১ এ থাকে একটি ফর্মাল লেটার বা দরখাস্ত। এটিও ১৫০ শব্দের ভেতর শেষ করতে হয়।
• টাস্ক ২ – এই টাস্কে একটি স্টেটমেন্ট দেওয়া থাকে। স্টেটমেন্ট অনুযায়ী প্রশ্ন করা হতে পারে যা সাধারণত opinion বা মতামতধর্মী (আপনি স্টেটমেন্টের কোন পক্ষে অবস্থান করছেন), discussion বা আলোচনাধর্মী (স্টেটমেন্ট নিয়ে পজিটিভ, নেগেটিভ উভয়ধর্মী আলোচনা), problem solve বা সমাধানমূলক (স্টেটমেন্টে কোনো সমস্যার কথা বলা থাকলে তার সমাধান বের করা), mixed বা মিশ্র (আগের যেকোনো দুটি বা তিনটি টাইপের মিশ্রন) ইত্যাদি। উত্তরপত্রে আলাদা প্যারাগ্রাফ হিসেবে উত্তর লিখতে হবে যা ২৫০ শব্দের মধ্যে থাকবে। উল্লেখ্য, রাইটিং ধাপের সিংহভাগ স্কোরই এই টাস্কে থাকে।
রাইটিং ধাপে মোট সময় ৬০ মিনিট। ২০ মিনিট টাস্ক-১ ও ৪০ মিনিট টাস্ক-২ এর ক্ষেত্রে ব্যয় করার পরামর্শ দেওয়া হয়ে থাকে।
স্পিকিং (Speaking)
IELTS এর অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ ধাপটি হচ্ছে স্পিকিং। বিশ্বের যেকোনো প্রান্তে কারো সাথে কথা বলতে আপনার অবশ্যই স্পিকিং জানতে হবে। এই ধাপটি ৩ টি অংশে শেষ হয় এবং এ ধাপেই পরীক্ষার্থীকে সরাসরি পরীক্ষকের সম্মুখীন হতে হয়।
পার্ট ১
ব্যক্তিগত সমস্যা (Personal Question) – এই পার্টে পরীক্ষার্থীকে তার নিজের সম্পর্কে ১০/১৬ টি ব্যক্তিগত প্রশ্ন করা হবে। এগুলোর উত্তর এক/দুই লাইনে বলতে হবে। যেমন : কারো নাম, ঠিকানা, শখ, ব্যক্তিগত পছন্দ/অপছন্দ ইত্যাদি/
পার্ট ২
টপিক (Topic) – এই অংশে পরীক্ষার্থীকে একটি টপিক কার্ড দেওয়া হয়। এতে একটি টপিক থাকে যা বিস্তারিতভাবে পরীক্ষার্থীকে বলতে হবে। প্রস্তুতি হিসেবে ১ মিনিট সময় দেওয়া হয় এবং পরবর্তীতে ২ মিনিট সময় দেওয়া হয় টপিক নিয়ে কথা বলার জন্য। এই পার্টটি স্পিকিং এর সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ।
পার্ট ৩
আগের টাস্ক সম্পর্কিত প্রশ্ন (Task 2 Related Questions) – মূলত টাস্ক ২ এর টপিক অনুসারে এই টাস্কে ৫/৬ টি প্রশ্ন করা হয় যা কিছুটা জটিল থাকে। এগুলোর উত্তর কিছু সময় নিয়ে গুছিয়ে বলতে হয়।
স্পিকিং প্রায় ১৫/২০ মিনিট স্থায়ী হয়।
IELTS স্কোরিং সিস্টেম
IELTS এ মোট পয়েন্ট থাকে ৯। এর মধ্যে পরীক্ষার্থী যত স্কোর তুলতে পারবেন তা হবে তার অভারল ব্যান্ড স্কোর। বাংলাদেশের প্রেক্ষাপটে ৬.৫ থেকে ৭.০ কে হ্যান্ডসাম স্কোর হিসেবে বিবেচনা করা হয়।
আইএলটিএস প্রস্তুতি (IELTS PRACTICE, IELTS COURSE)
এই পরীক্ষার জন্য আপনার ইংরেজী ভাষার বহুমুখী দক্ষতা থাকতে হবে। একই সাথে লিখা, পড়া, কথা বলা এবং শুনে বোঝার গুণ না থাকলে ভালো স্কোর পাওয়া সম্ভব নয়। তাই প্রস্তুতি হিসেবে
- ইংরেজী বেসিক গ্রামারে চোখ বুলাতে হবে। যেমন : Person, Gender, Number, Article, Verb (main & auxiliary), Preposition, Tense, Sentence Changing, Conditionals, Synonym, Antonym ইত্যাদি। তবে এগুলো পড়তে গিয়ে রুলস মুখস্থ করলে IELTS বিষয়টি অনেক জটিল হয়ে যাবে। প্রতিটি বিষয় পড়ার পর সাথে সাথে তা ব্যবহারিকভাবে প্রয়োগ করলে রুলস মুখস্থ করতে হয় না।
- ইংরেজী মুভি বা সিরিজ বা টিভি শো দেখার অভ্যাস থাকলে ইংরেজী অনেকটাই সহজ হয়ে যায়। তবে সাবটাইটেল ছাড়া বোঝার চেষ্টা করতে হবে।
- ইংরেজী পত্রিকা, ইন্টারনেট আর্টিকেল পড়া শুরু করতে হবে এবং পাশে অবশ্যই ডিকশনারি রাখবেন। একটু আওয়াজ করে পড়া খুবই কার্যকর। একটু গবেষণা করে বুঝে প্রতিদিন এগুলো পড়লে ইংরেজী দক্ষতা অনেক বৃদ্ধি পায়, সাথে নতুন শব্দ ও এদের ব্যবহারও জানা হয়।
- তাছাড়া রিডিং টেস্ট প্র্যাক্টিসের ক্ষেত্রে কয়েকবার (অন্তত তিন বার) ডিকশনারি ব্যবহার করে প্যাসেজটি অর্থ বুঝে পড়ে নিলে উত্তর বের করা অনেক সহজ হয়ে পড়ে।
- যেহেতু IELTS পেন্সিল্ভিত্তিক, তাই পেন্সিল দিয়ে রাইটিং প্র্যাক্টিস করতে হবে।
- তাছাড়া বাজারে অনেক প্র্যাক্টিস বুক পাওয়া যায়। সাথে ইন্টারনেট তো আছেই।
স্পিকিং দক্ষতা বাড়াবো কীভাবে (IELTS SPEAKING)
- প্রচুর পরিমাণে স্পিকিং প্র্যাকটিস করতে হবে। এক্ষেত্রে একজন স্পিকিং পার্টনার থাকা খুবই জরুরী। একজন স্পিকিং পার্টনারের সাথে অথবা সম্ভব হলে একটি সোস্যাল গ্রুপ তৈরী করে অনেকেই একসাথে স্পিকিং প্র্যাকটিস করতে পারবেন।
- বাসায় নিজে প্র্যাকটিস করতে চাইলে আয়নার সামনে বসে কথা বলতে হবে। এতে নিজের জড়তা অনেকটুকু কমে আসে।
- জীবনের প্রতিটি বিষয় নিয়ে মাথায় ইংরেজীতে ট্রান্সলেট করার অভ্যাস করতে হবে। অর্থাৎ যা চিন্তা করবেন তার সম্পূর্ণটাই ইংরেজীতে করার চেষ্টা করবেন। তাছাড়া দৈনন্দিন সকল আলাপ-আলোচনায় ইংরেজী শব্দ ব্যবহারের অভ্যাস গড়ে তোলা ভালো।
- ইন্টারনেটে অনেক অ্যাপস রয়েছে শুধুমাত্র স্পিকিং প্র্যাক্টিস করার জন্য। সেগুলো ব্যবহার করা অনেক বেশি কার্যকর।
IELTS এর প্রস্তুতি কোথায় নিব
IELTS খুবই জটিল পরীক্ষা নয়। তাই ঘরে বসে ইন্টারনেটের সাহায্যে সকল প্রস্তুতি নেওয়া সম্ভব। তবে পরীক্ষার্থী চাইলে কোনো প্রাইভেট টিউটর বা কোচিং সেন্টারের সহায়তা নিতে পারেন।
IELTS এর জন্য কোন বই পড়ব
IELTS এর জন্য গ্রামার একটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয়। তবে এক্ষেত্রে বাজারের যেকোনো সুলভ গ্রামারের বই কিনতে পারেন। তবে মনে রাখতে হবে রুলস মুখস্থ করা চলবে না। প্র্যাকটিস করে যেতে হবে। রিডিং, রাইটিং, লিসেনিং এর জন্য বাজারে বর্তমানে সবচেয়ে জনপ্রিয় হচ্ছে ক্যাম্ব্রিজ ও ম্যাক্কারের প্র্যাকটিস বুকগুলো (নতুন সংস্করণ)। তাছাড়া ভোকাবুলারির জন্যও এই দুই প্রকাশনীর বই পাওয়া যায়। তবে বই কিনতে না চাইলে ইন্টারনেটে ব্রাউজ করে বা পিডিএফ ফাইল ডাউনলোড করে সম্পূর্ণ প্রস্তুতি খুবই সহজে নেওয়া যায়।
IELTS এর ফলাফল
মূলত যে ই-মেইল এড্রেস দিয়ে রেজিস্ট্রেশন করবেন তার মাধ্যমেই আপনার অনলাইন ফলাফল পাবেন। তবে এর আগে ইউজার আইডি সেট করে নেওয়া প্রয়োজন যার লিংক আপনি আগে পাওয়া কনফার্মেশন মেইল থেকে সংগ্রহ করতে পারবেন। পরীক্ষার দিন কেন্দ্রেই পরীক্ষার ফলাফলের দিন ঘোষণা করা হয়ে থাকে। সাধারণত মূল পরীক্ষার ১৩/১৪ দিনের মধ্যেই ফলাফল দেওয়া হয়। তবে সার্টিফিকেট নির্ধারিত অফিস থেকে সংগ্রহ করতে হয়।
IELTS এর ফলাফল ১৪ দিনের ভেতর না আসলে কী করবেন
ফলাফল ১৪ দিনের মধ্যে না আসলে আপনার বাছাইকৃত কেন্দ্র (Test Center) এর সাথে যোগাযোগ করতে পারবেন। পরে তাদের নির্দেশনা অনুযায়ী প্রয়োজনীয় ডকুমেন্ট ই-মেইল করলে তারা ব্যবস্থা গ্রহণ করবে।
IELTS এর ফলাফল নিয়ে সন্দিহান
IELTS এর ফলাফল নিয়ে মনে সন্দেহ থাকলে রিচেক বা রিভিউ এর জন্য আবেদন করা যায়। আশানুরূপ ফলাফল না পেলে তার জন্য গৃহীত ব্যবস্থাকে ইওআর (EOR) বলা হয়। এই ব্যবস্থায় আপনি নিজের ফলাফল পূনর্বিবেচনা করার সুযোগ পাবেন। এই ব্যবস্থার ফিস ৮০০০-১০,০০০ টাকার মত। তবে রেজাল্টে কোনো পরিবর্তন আসলে সম্পূর্ণ টাকাই IELTS কর্তৃপক্ষ ফেরত দিবে।
একাধিকবার IELTS দিলে কী সমস্যা হতে পারে
IELTS পরীক্ষা একাধিকবার কোনো সমস্যা ছাড়াই দেওয়া যায়। পূর্ববর্তী পরীক্ষার স্কোর দ্বারা পরবর্তী পরীক্ষা বিবেচিত হবে না।
IELTS এর বিকল্প
IELTS এর বিকল্প হিসেবে কোনো পরীক্ষা নেই। তবে ইংরেজী দক্ষতা পরীক্ষার ওপর DuoLingo, OIETC, TOEFL জাতীয় অনেক জনপ্রিয় টেস্টিং সিস্টেম রয়েছে যা বিশ্বের বিভিন্ন দেশে স্বীকৃত। তবে হ্যাঁ IELTS কখনো SATs বা GRE এর সমমর্যাদার নয়।
তো কী ভাবছেন? আর দেরী না করে নিজেকে প্রস্তুত করে নিন IELTS এর জন্য।
মো. গোলাম মোর্শেদ, আইনিউজ
- মাস্টার্স পরীক্ষার ফলাফল ২০২৫
- এসএসসি বোর্ড চ্যালেঞ্জ এর রেজাল্ট ২০২৩
- এসএসসি পরীক্ষার রেজাল্ট ২০২৩ | এসএসসি ফলাফল
- অনার্স ১ম বর্ষ পরীক্ষা রুটিন ২০২৩
- এসএসসি পরীক্ষার রেজাল্ট ২০২৩ কবে হবে
- চবি ভর্তি পরীক্ষার রেজাল্ট ২০২৫
- ‘বাঁচতে চাইলে পরীক্ষায় এ্যাটেন্ড কর’, ছাত্রীকে শাবি শিক্ষক
- ওসমানী মেডিকেলে শিক্ষার্থীদের ওপর হামলা, আন্দোলনে ইন্টার্ন চিকিৎসক ও শিক্ষার্থীরা
- স্বপ্ন চার্টার্ড একাউন্টেন্ট হওয়া
টিউশনী করে পরীক্ষা দিয়ে গোল্ডেন এ প্লাস পেল সরকারি কলেজের সুমাইয়া - গুচ্ছ ভর্তি পরীক্ষার রেজাল্ট ২০২৩