Bilas Moulvibazar, Bilas

ঢাকা, সোমবার   ২১ এপ্রিল ২০২৫,   বৈশাখ ৮ ১৪৩২

স্বাস্থ্য ডেস্ক

প্রকাশিত: ২০:৫৯, ৪ সেপ্টেম্বর ২০২০
আপডেট: ২১:০২, ৪ সেপ্টেম্বর ২০২০

মাইগ্রেন: কারণ এবং প্রতিকার

জীবনে মাথাব্যথা হয়নি, এমন মানুষ বিরল। ৯৫ শতাংশের ক্ষেত্রে মাথাব্যথার কারণ প্রাথমিক পর্যায়ের, যার মধ্যে মাইগ্রেন অন্যতম। সারা বিশ্বে প্রায় ১৫ শতাংশ মানুষের মাথাব্যথা মাইগ্রেনজনিত।

মাইগ্রেন হচ্ছে বিশেষ ধরনের দীর্ঘমেয়াদি মাথাব্যথা। গ্রিক ‘হেমিক্রেনিয়া’ শব্দ থেকে এর উৎপত্তি, যার অর্থ আধকপালি ব্যথা। তবে এতে মাথার দুপাশেই ব্যথা হতে পারে। মাইগ্রেনের প্রকৃত কারণ এখনো জানা যায়নি। তবে ধারণা করা হয়, সেরোটোনিন ও সিজিআরপি নামের রাসায়নিকের প্রভাবে মস্তিষ্কের বহিরাবরণের রক্তনালির অস্বাভাবিক প্রসারণ ঘটে এবং সংলগ্ন ট্রাইজেমিনাল নার্ভ উদ্দীপ্ত হয়। এর ফলে মাথাব্যথা শুরু হয়।

যাদের বেশি হয়

মাইগ্রেন সাধারণত বংশগত ও পরিবেশগত কারণে হয়ে থাকে। ১৫ থেকে ৪৫ বছর বয়সে এ রোগের প্রাদুর্ভাব বেশি। বয়ঃসন্ধিকালের পর পুরুষের চেয়ে নারীদের আক্রান্ত হওয়ার হার তিন গুণ। বিশেষত মাসিকের সময় এটি বাড়ে। অনেক সময় শিশুরা বা বয়স্ক লোকজনও এতে আক্রান্ত হতে পারেন। যদিও বয়স বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে মাইগ্রেনের প্রকোপ কমে যায়।

কী কী কারণে মাইগ্রেনের ব্যথা শুরু হতে পারে?

  • অনিদ্রা, অতিরিক্ত ঘুম বা ঘুমের সময় পরিবর্তন।

  • অতিরিক্ত শারীরিক ও মানসিক চাপ।

  • দীর্ঘ ভ্রমণ, আবহাওয়ার পরিবর্তন।

  • অতি উজ্জ্বল আলো, উচ্চ শব্দ, তীব্র সুগন্ধি।

  • দীর্ঘ সময় টেলিভিশন দেখা, কম্পিউটার বা মুঠোফোন ব্যবহার।

  • চকলেট, পনির, কফি, অ্যালকোহল, টেস্টিং সল্ট অতিমাত্রায় গ্রহণ।

  • অনিয়মিত আহার, কোষ্ঠকাঠিন্য।

  • জন্মবিরতিকরণ পিল ও নাইট্রেট-জাতীয় ওষুধ সেবন ইত্যাদি।

যেভাবে বুঝবেন মাইগ্রেন হয়েছে

মাইগ্রেন রোগীদের মাথাব্যথার কিছু সুনির্দিষ্ট লক্ষণ থাকে। দুই-তৃতীয়াংশ রোগীর ক্ষেত্রে নিচের লক্ষণগুলো পাওয়া যায়, যা ‘কমন মাইগ্রেন’ নামে পরিচিত।

  • সাধারণত আধকপালি মাথাব্যথা।

  • মাথা দপদপ করা।

  • মাঝারি থেকে তীব্র মাথাব্যথা।

  • বারবার মাথাব্যথা হওয়া।

  • বমি বমি ভাব বা বমি হওয়া।

  • আলো বা শব্দ সহ্য করতে না পারা।

  • পরিশ্রমে ব্যথা বেড়ে যাওয়া।

  • ব্যথার স্থায়িত্বকাল ৪ থেকে ৭২ ঘণ্টা।

মাইগ্রেন প্রতিরোধে যা করবেন-

  • যেসব কারণে মাইগ্রেন ব্যথা শুরু হয়, সেগুলো শনাক্ত করুন ও এড়িয়ে চলুন। প্রয়োজনে মাথাব্যথার লক্ষণ উল্লেখসহ একটি ডায়েরিতে লিপিবদ্ধ করুন।

  • প্রতিদিন নির্দিষ্ট সময়ে ও পরিমিতভাবে আহার করবেন ও ঘুমাবেন।

  • তীব্র অথবা কম আলোতে কাজ করবেন না। কড়া রোদ ও তীব্র ঠান্ডা পরিহার করুন।

  • উচ্চ শব্দ ও কোলাহলপূর্ণ পরিবেশ এড়িয়ে চলুন।

  • অনেক সময় ধরে কম্পিউটার, টিভি বা মুঠোফোন ব্যবহার করবেন না।

  • প্রতিদিন নিয়মিত হালকা ব্যায়ামের অভ্যাস করুন।

  • বেশি বেশি পানি পান করুন। সবুজ ও হলুদ শাকসবজি, আলু, খেজুর, ক্যালসিয়াম ও ভিটামিন ডি-সমৃদ্ধ খাবার নিয়মিত খান।

  • মাথাব্যথা শুরু হলে অন্ধকার ও নীরব কোনো কক্ষে বিশ্রাম নিন এবং প্রয়োজনে মাথায় বরফের প্যাক বা ঠান্ডা কাপড় জড়িয়ে রাখুন।

আইনিউজ/এসডিপি

Green Tea
সর্বশেষ
জনপ্রিয়