Bilas Moulvibazar, Bilas

ঢাকা, বৃহস্পতিবার   ১০ এপ্রিল ২০২৫,   চৈত্র ২৭ ১৪৩১

আইনিউজ ডেস্ক

প্রকাশিত: ১৪:২৬, ৯ ফেব্রুয়ারি ২০২২
আপডেট: ১৬:৩৮, ৯ ফেব্রুয়ারি ২০২২

জুড়ীতে সাফারি পার্কের জন্য কেনা হবে বাঘ-সিংহ-জেব্রা-জিরাফ  

মৌলভীবাজারের জুড়ীতে আরেকটি বঙ্গবন্ধু সাফারি পার্ক নির্মাণের প্রকল্প হাতে নিয়েছে সরকার।  ৮৪৬ কোটি ২৫ লাখ টাকা সম্ভাব্য ব্যয় ধরে ওই পার্কের মহাপরিকল্পনা চূড়ান্ত করেছে বন অধিদপ্তর। ওই পার্কের জন্য কেনা হবে বাঘ-সিংহ-জেব্রা-জিরাফ সহ ১৩৭ ধরনের বন্য প্রাণী। এর জন্য ব্যয় ধরা হয়েছে ২০৩ কোটি ৪০ লাখ টাকা। জুড়ীতে লাঠিটিলা সংরক্ষিত বনের এলাকায় ওই পার্কে মূলত বিদেশি প্রাণী আনা হবে।

পরিকল্পনা অনুযায়ী, সাফারি পার্কটিতে বন্য প্রাণী বাবদ ২০৩ কোটি ৪০ লাখ টাকা বরাদ্দ রাখা হয়েছে। এর মধ্যে শুধু বন্য প্রাণী কেনা বাবদ রাখা হয়েছে ১৮২ কোটি টাকা। বাকি টাকা রাখা হয়েছে আমদানি করা প্রাণীগুলোর রক্ষণাবেক্ষণসহ অন্যান্য খাতে ব্যয়ের জন্য। তবে বন বিভাগ ওই বরাদ্দ কিছুটা কমিয়ে বন্য প্রাণী কেনা বাবদ বরাদ্দ ১৪৬ কোটি রাখার প্রস্তাব করেছে।

জানা গেছে, বাঘ-সিংহ-জেব্রা-জিরাফসহ ১৩৭ ধরনের বন্য প্রাণী ক্রয় করা হবে। এদের বড় অংশ আমদানি আফ্রিকা থেকে করা হবে। চলতি বছর থেকে শুরু হয়ে ২০২৬ সালের মধ্যে এর নির্মাণকাজ শেষ করার পরিকল্পনা রয়েছে। আর সাফারি পার্কটির বাজেটের মধ্যে এক কোটি টাকা রাখা হয়েছে বিদেশে প্রশিক্ষণ বাবদ। 

আরও পড়ুন- গাজীপুর সাফারি পার্কে এবার আফ্রিকান সিংহীর মৃত্যু

লাঠিটিলা সংরক্ষিত বনের মোট আয়তন ৫ হাজার ৬১৫ একর। এর মধ্যে ১৭৫ একর জায়গায় সাফারি পার্কের মূল অবকাঠামো নির্মাণ করা হবে। তবে বনের বাকি অংশ সাফারি পার্কের আওতায় চলে আসবে। সাফারি পার্ক নির্মাণবিষয়ক সমীক্ষা ও মহাপরিকল্পনা বন বিভাগ গ্রহণ করেছে। এখন তারা তা মন্ত্রণালয়ে প্রকল্প হিসেবে জমা দেওয়ার প্রস্তুতি নিচ্ছে।

তবে এ বিষয়ে পরিবেশবাদীরা বলছেন, লাঠিটিলা সংরক্ষিত বন দেশের অন্যতম জীববৈচিত্র্য এবং বন্য প্রাণীপূর্ণ এলাকা। বন উজাড় হওয়া ও চোরা শিকারিদের তৎপরতায় সেখানকার প্রাণীরা এমনিতেই বিপদে আছে। তাদের সংরক্ষণের জন্য কোনো আলাদা উদ্যোগ বা প্রকল্প না নিয়ে সেখানে সাফারি পার্ক নির্মাণের উদ্যোগে প্রাণীরা আরও বিপদে পড়তে পারে।

আরও পড়ুন- সুন্দরবনে বাঘ-মানুষের লড়াই

বাংলাদেশ পরিবেশ আন্দোলনের (বাপা) সভাপতি সুলতানা কামাল বলেন, দেশের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ সংরক্ষিত বন এলাকায় এ ধরনের সাফারি পার্ক নির্মাণ কোনোভাবেই উচিত না। এ ধরনের প্রকল্পের কারণে লাঠিটিলা সংরক্ষিত বনের জীববৈচিত্র্য যতটুকু টিকে আছে, তা আরও ধ্বংসের দিকে যাবে। সরকারের উচিত সাফারি পার্ক নির্মাণ করা থেকে সরে আসা। সুলতানা কামাল বলেন, পরিবেশ রক্ষার সঙ্গে যুক্ত থাকা অনেকে এ ধরনের প্রকল্পের সঙ্গে যুক্ত হয়ে পড়েছেন। এটা অনৈতিক ও স্বার্থের সংঘাত তৈরি হচ্ছে।

বঙ্গবন্ধু সাফারি পার্ক, মৌলভীবাজার প্রকল্পের পরিচালক রেজাউল করিম চৌধুরী বলেন, ‘বনের একটি অংশ দখল করে পুরোপুরি গ্রাম বানানো হয়েছে। মূলত এই গ্রাম দুটির মধ্যে আমরা সাফারি পার্কটি নির্মাণ করছি। পার্কটি রাস্তার পাশের জায়গায় নির্মাণ করা হবে। ফলে বনের তেমন ক্ষতি হবে না। উল্টো এই পার্কের মাধ্যমে বনভূমিটি আরও সমৃদ্ধ হবে।’

নিজ এলাকায় সাফারি পার্ক নির্মাণের বিষয়ে মন্ত্রী শাহাব উদ্দিনের কোনো বক্তব্য নেয়া সম্ভব হয়নি।

এই পরিকল্পনা সম্পর্কে জানতে চাইলে বন্য প্রাণী বিশেষজ্ঞ রেজা খান বলেন, ‘দেশের সংরক্ষিত বনে সাফারি পার্ক কেন নির্মাণ করার দরকার হচ্ছে আমি তা বুঝতে পারছি না। বনের যে বন্য প্রাণীগুলো আছে, সেগুলো ঠিকমতো সংরক্ষণে বন বিভাগের মনোযোগ দেওয়া উচিত। এই সাফারি পার্ক নির্মাণ করলে লাঠিটিলা বন ধ্বংসের দিকে এগিয়ে যাবে।’

আইনিউজ/এসডিপি 

আইনিউজ ভিডিও 

কৃষক ও ফিঙে পাখির বন্ধুত্ব (ভিডিও)

পোষ মানাতে হাতির বাচ্চাকে নির্মম প্রশিক্ষণ 

হাতির আক্রমণে হাতি হত্যা মামলার আসামির মৃত্যু 

Green Tea
সর্বশেষ
জনপ্রিয়