মুজাহিদ আহমদ
আপডেট: ২২:৩৫, ১০ এপ্রিল ২০২২
মঞ্চের বাতিগুলো জ্বলে উঠলো ঠিকই

মুজাহিদ আহমদ
সাহিত্য-সংস্কৃতি ও নাট্যপাড়ার বেশ ক’জন মানুষের মাঝে গেলো কয়েকদিন ধরে—যেনো শিশু বয়েসে ঝড়ের শেষে—আম কুড়িয়ে পাওয়ার আনন্দ লক্ষ্য করছিলাম। আনন্দের মাত্রা এতো পরিমাণে যে খুশিতে তাদের চোখের পাতা এক হচ্ছিল না। ঠোঁট থেকে ক্ষীণ সময়ের জন্যও মুছতে চাইছে না হাসি। দৌড়ঝাঁপ। এমন প্রাণবন্ত দৌড়ঝাঁপ আর অস্থির অস্থির মনোভাব দৃষ্টে মনে হলো কিছু একটা হতে যাচ্ছে। এই হতে যাওয়ার পথের ধারে অথবা বাড়ির আঙিনায়—রঙিন ঝাড়বাতি জ্বলছিলো। নাটকের, গানের আর আবৃত্তির দলের বাড়ির উঠোন ঝলমল করছিল। দলবেধে ছুটোছুটি, মহড়া, রিহার্সেল লাফালাফি, হৈইহুল্লুড়টাও যেনো পরনের জামা-কুর্তার মতো লেপ্টে ছিলো। এদিকে, শহরের ভাঁজ-বাঁক ভেঙে আলোর ফুলকি, রশ্মি আকাশের দিকে ডানা মেলছে। নবীন-প্রবীণেরা এক উঠোনে, এক মঞ্চ ঘিরে সময়ের দেওয়ালে নানা রকমের, নানা রঙের কোলাজ সেঁটে দিচ্ছেন। চলছে প্রস্তুতি। বৈঠকের পর বৈঠক। কথা, আড্ডা যেনো হুলুস্থুল কান্ডকারখানা। বিশাল ফিরিস্তি এক—কথা একটাই মৌলভীবাজার শহরে শুরু হতে যাচ্ছে বঙ্গবন্ধু নাট্য ও সাংস্কৃতিক উৎসব।
রাধিকা স্টল। এখান থেকেই গল্পের যাত্রা। চোখ মুখ থেকে আলো ঝরছিলো যে মানুষগুলোর তারা চক্কর দিয়েই রাধিকা স্টলে এসে জড়ো হন। কি সকাল কি সন্ধ্যা! বসেন, কথা বলেন—আরও কেমন করে; কিভাবে প্রাণবন্ত করা যায় মুজিব শতবর্ষ ও স্বাধীনতার সুবর্ণ জয়ন্তীকে ঘিরে অর্ধমাস ব্যাপি বঙ্গবন্ধু নাট্য ও সাংস্কৃতিক এই উৎসবটি। শিল্প ও সৌন্দর্যের পথে যারা হাঁটেন, হাঁটতে চান তারা তো এমন খবরে দীর্ঘ ঝড়ের মাঝে মাছ কুড়ানোর সুখ নিয়ে অপেক্ষার দিন গুনতে থাকেন। অন্যদিকে, স্থানীয় ও অতিথি দল-সংগঠন কে, কারা কিভাবে আসবেন সব কিছু ঠিকঠাক হয়ে গেছে, তৈরি হয়েছে অনুষ্ঠানের সময়-সীমা আর দল-সংগঠনের তালিকা। চিঠি, লিফলেট, ফেস্টুন, বিলবোর্ড তৈরী হলো। শহরের পথে, পাড়ার মোড়ে বাজতে শুরু করলো উৎসবের মনমাতনো আমন্ত্রণ প্রমো। সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমেও ছড়িয়ে পড়লো উৎসবের রব রব খবর।
চিঠিতে মুদ্রিত হলো অংশগ্রহনকারী সাংস্কৃতিক সংগঠনের নাম- সপ্তস্বর সংগীত বিদ্যাপীঠ, সুর নিকেতন, বঙ্গবন্ধু আবৃত্তি পরিষদ, উচ্চারণ-আবৃত্তির পাঠশালা, নজরুল সঙ্গীত শিল্পী পরিষদ, শাহ মোস্তফা বাউল গোষ্ঠী, দেশলাই, শৈলী, সুরের ভেলা, চিরন্তনী-লোকগানের দল। আর যে সকল নাট্য সংগঠন রঙিন আলো মাখালো মঞ্চে তাদেরও নাম চিঠির ওজন আরো বাড়িয়ে দিলো কয়েকগুন- দৃষ্টিপাত নাট্য সংসদ (মৗলভীবাজার), লিটল থিয়েটার (সিলেট), রেপার্টরি থিয়েটার (মৌলভীবাজার), জীবনচক্র থিয়েটার (মৌলভীবাজার), বাতিঘর (ঢাকা), নবনাট (ঢাকা), থিয়েটার, (ঢাকা), মনু থিয়েটার (মৗলভীবাজার) ও টাউন থিয়েটার (মৗলভীবাজার)। ঢাকা থিয়েটারের নাম চিঠিপত্রে দেখা গেলেও পরে শোনা গেলো তারা কথা দিয়ে কথা রাখেননি। একটা ছন্দপত হতে যাচ্ছিল উৎসবের ওই দিনটায়। ছন্দপতের জায়গাটা থিয়েটার (আরামবাগ) তাদের মনের বিশালতা দিয়ে ঢেকে দিলেন—তারা বাড়তি আরেকটা ঐতিহাসিক নাটক মঞ্চস্থ করলেন। নাটকের নাম নিখাই। গাজী রাকায়েত-এর রচনা ও নির্দেশনায় ‘নিখাই’ নামের কালোত্তীর্ণ এই নাটকটি নিয়ে গেলো ব্রিটিশ শাসন আমলের একটা স্টিমার ঘাটে। গভীর রাত। নানা ধরনের লোকের আনাগোনা সেখানে। স্থায়ীভাবে কেউই থাকে না ঘাটে। কিন্তু এক বৃদ্ধ ১০ বছর ধরে এই ঘাটকে আঁকড়ে পড়ে আছেন। রাত-বিরাতে এই ঘাটে কেউ না থাকলেও ওই বৃদ্ধকে ঠিকই পাওয়া যায়। একদিন হঠাৎ মাঝরাতে এক ব্রিটিশ দারোগা তাঁর স্ত্রীকে নিয়ে হাজির হন। স্ত্রীর মা অর্থাৎ দারোগার শ্বাশুড়ি মৃত্যুপথযাত্রি। নদী পার হওয়া তাদের জন্য ভীষণ জরুরি। কিন্তু কোনো মাঝি না পাওয়ায় অপেক্ষা করতে হয় তাদের। এরপর একের পর এক ঘটতে থাকে নানা ঘটনা। বেরিয়ে আসে একজন মানুষের জন্মের ইতিহাস। এভাবেই এগিয়ে যায় আত্মপরিচয়–সন্ধানী ‘নিখাই’ নাটকের কাহিনি। আত্মপরিচয়–সন্ধানী এই নাটকটির গল্প আর চরিত্ররা যখন আমাকে গভীর রাতের স্টিমার ঘাটে নিয়ে যায় তখন সঙ্গী ছিলেন হলভর্তি দর্শকের সাথে সাহিত্যের ছোট কাগজ ‘শব্দপাঠ’ সম্পাদক ও কবি আবু মকসুদ।
আব্দুল মতিনের রচনা ও নির্দেশনায় ‘জেগে উঠো হে মহামানব’ নাটকের দৃশ্যায়নের মধ্যদিয়ে শুরু হলো উৎসবের। পর্যায়ক্রমে উৎসব মঞ্চের আলো বদলাতে থাকে। মৌলভীবাজারের মানুষের চোখ আর মনের প্রশান্তির জন্য আসতে থাকে ভিন্ন স্বাদের ভিন্ন দলের উপস্থাপনা- সিলেটের লিটল থিয়েটার নিয়ে এলো—‘ভাইবে রাধা রমণ বলে’। রেপার্টরি থিয়েটার (মৌলভীবাজার) নিয়ে এলো কয়ছর আহমদের রচনা ও নির্দেশনায় নাটক ‘আগন্তুক’। জীবনচক্র থিয়েটার (মৌলভীবাজার) নিয়ে এলো চন্দন সেনের রচনা ও মেহদী হাসানের নির্দেশনায় ’সাধুচরণ’। বাতিঘর (ঢাকা) মঞ্চস্থ করে মুক্তনীল-এর রচনা ও নির্দেশনায় ‘রেডক্লিপলাইন’। নবনাট-এর পরিবেশনা ছিলো রতন শাহের নির্দেশনায় নাটক ‘ধেরা’। থিয়েটার (আরামবাগ)-এর নির্ধারিত নাটক ‘স্পার্টাকাস–বিষয়ক জটিলতা’, রচনা মমতাজ উদ্দিন ও নির্দেশনায় ছিলেন রফিকুল ইসলাম রফিক। মনু থিয়েটার (মৌলভীবাজার) মনোজ মিত্রের রচনা ও ড. আইরিন পারভিন লোপা’র নির্দেশনায় নাটক ‘পাখি’ মঞ্চস্থ করে। এই উৎসবের শেষ দিনে মঞ্চস্থ হয় কয়ছর আহমদের রচনা ও নির্দেশনায় আরেকটি নাটক ‘বন্দি’। নাটকটি মঞ্চস্থ করে টাউন থিয়েটার (মৌলভীবাজার)। প্রতিদিনের বৈকালিক হাওয়া আর সান্ধ্য আলোয় সাঁতার কাটতো স্থানীয় সাংস্কৃতিক, নৃত্য ও আবৃত্তির সংগঠনের শিল্পীদের নাচ গান আবৃত্তির সাথে বাঁশির সুর।
উৎসবের সূচনা দিনের বিকেলটা ভরে উঠে সপ্তস্বরের গান, জারিগান, খন্ডনৃত্য ও একক নৃত্যের মুদ্রায়। চাঙা হয় উপস্থিতির মন ও মনন। সপ্তস্বরের অনুষ্ঠানটি পরিচালনা করেন নৃত্য প্রশিক্ষক প্রদীপ চন্দ্র নাহা। উৎসবের চতুর্থ দিনের বিকেলটাও ছিলো এক অন্যরকম। ঐদিনের মঞ্চ ও উৎসব প্রাঙ্গণ ছিলো ভিন্নরকম রঙে রঙিন। উচ্চারণ-আবৃত্তির পাঠশালার বাচিকদের প্রথম কোনো মঞ্চে উঠা। একেবারে শুরুতেই স্বাগতা সাহা ও তাওফিকা মুজাহিদের জোড়কণ্ঠে উঠে আসে কালজয়ী গান- ও আমার দেশের মাটি। গানের পাশাপাশি আবৃত্তি ও গৌরাঙ্গ দাশের বাঁশি, সুমন চৌধুরীর তবলার মিশেল শ্রোতাদের নিয়ে যায় রূপকথার কোনো এক দেশে। নওশীন ও তাওফিকা’র যৌথ সঞ্চালনায় মনকাড়া এ অনুষ্ঠানের গ্রন্থণা ও পরিচালনা করেন শিক্ষক তাসলিমা মুজাহিদ। সুরের ভেলার শিল্পীরাও তাদের মন উজাড় করে দেন দর্শক শ্রোতার উদ্দেশ্যে। তাদের পুরো উপস্থাপনা জুড়ে ছিলো ব্যতিক্রমি এক আবেদন।- ধনধান্য পুষ্প ভরা আমাদের এই বসুন্ধরা/তাহার মাঝে আছে দেশ এক সকল দেশের সেরা/ও সে স্বপ্ন দিয়ে তৈরি সে দেশ স্মৃতি দিয়ে ঘেরা/এমন দেশটি কোথাও খুঁজে পাবে নাকো তুমি/ও সে সকল দেশের রাণী সে যে আমার জন্মভূমি/সে যে আমার জন্মভূমি, সে যে আমার জন্মভূমি। এবং মাগো আর তোমাকে/ঘুমপাড়ানি মাসি হতে দেবো না/মাগো আর তোমাকে/ঘুমপাড়ানি মাসি হতে দেবো না/তোমার মাথার খোঁপারই ফুল বাসি হতে দেবো না/তোমায় মাগো কারো ঘরের দাসী হতে দেবো না/তোমায় মাগো কারো ঘরের দাসী হতে দেবো না। গানগুলোর কোরাস মনশ্রী জুঁই, পুষ্পিতা দেব ত্রপা, কান্তা ভট্টাচার্, রোদেলা দে’র কণ্ঠে উঠা সুরের ঢেউ আছড়ে পড়ে উপস্থিত দর্শক-শ্রোতাদের হৃদয়ে। সুরের ভেলার সামগ্রিক অনুষ্ঠানটি পরিচালনা করেন রণজিৎ জনি। উৎসবের শেষদিনের সাংস্কৃতিক মঞ্চের প্রদীপ জ্বালেন দুই বাতিওলা। বিনেন্দু ভৌমিক ও নির্বেন্দু নির্ধূত তপু। দুজনই বন্ধু। তারা হলেন মৌলভীবাজারের মানিক জোড়। দুজনে মিলে মঞ্চ থেকে সেচে সেচে সুর বিলান দর্শকগুচ্ছের দিকে। শুরু করলেন—বুকের ভেতর আগুন আর চক্ষে জলের ধারা/ভালোবাসা মাপার বন্ধু এটাই তো বাটখারা। তারপর—
চার হাজার ছয় শ বিরাশি দিন—
দফায় দফায় কারাগারে রইলো অন্তরীণ;
চার হাজার ছয় শ বিরাশি দিন—
হিসেব করলে বারো বছর জেলেই কাটালো দিন।
এই বারো বছর জেল খাটলো আনতে নতুন দেশ,
বারো বছর জেল খাটিয়া আনলো নতুন দেশ;
যেই হলো সে রাজা,
সাড়ে তিন বছরের মাথায় দিলাম তারে সাজা।
সাড়ে তিন বছরে মেরে দিলাম তারে সাজা।
আমরা দিলাম তারে সাজা।
মানুষটার যে ছিল দরিয়ার মতো দিল,
সেই দরিয়ায় ভাসতো শুধু বাংলাদেশের- নীল
সেই নীলজুড়ে দেশপ্রেম ছিল টগবগে তরতাজা।
তিরিশ লক্ষ মানুষ মারলো কিন্তু দেখো ওরা,
মারলো নারে তাঁরে, শুধু পরালো হাতকড়া,
এমনি ভয় পেত,
ওদের কাছে রাজা ছিল অশনি সংকেতও।
কিন্তু আমরা ভাই,
তাঁর স্বজাতি হয়েও একটা নীল নকশা সাজাই।
গুলিতে গুলিতে বুক হলো ঝাঁঝড়া,
সেলুকাস! কী বিচিত্র এ দেশ! কী ভীষণ লজ্জা!
এই লাজশরমের মাথা খেয়েও খুঁজছি প্রতিদিন,
বঙ্গবন্ধু কীভাবে আমরা শুধবো তোমার ঋণ।
ভীষণ রকমের ভালোলাগার এই গানটির কথা ও সুর চিকিৎসক ও কবি বিনেন্দু ভৌমিক। পুরো গানটি এখানে যুক্ত করে দিলাম। প্রায় অর্ধমাস ব্যাপি বঙ্গবন্ধু নাট্য ও সাংস্কৃতিক উৎসবের সাংস্কৃতিক পর্বের সমাপনীটা স্মরণীয় হয়ে থাকার আরো একটি উল্লেখযোগ্য সংযুক্তি ছিলো—সুনীতি সিনহার কণ্ঠে নজরুলগীতি ও কীর্তন আর গৌরাঙ্গ দাসের কণ্ঠে— আলগা করো গো খোঁপার বাঁধন/আলগা করো গো খোঁপার বাঁধন/দিল ওহি মেরা ফঁস্ গয়ি/দিল ওহি মেরা ফঁস্ গয়ি/বিনোদ বেণীর জরীন ফিতায়/বিনোদ বেণীর জরীন ফিতায়/আন্ধা ইশক্ মেরা কস্ গয়ি/আন্ধা ইশক্ মেরা কস্ গয়ি। গানটি শুনতে শুনতে নিজেকে আরেকবার প্রেমিক ভাবতে ইচ্ছে করে। আওড়াই উৎসবের আরো ছোট-বড় গল্পগুলো—যেমন, নির্বেন্দু নির্ধূত তপু, তিনি হ্যাট্রিক করলেন নাট্যমঞ্চে—তাকে তিনদিন মঞ্চে দেখা গেলো তিন চরিত্রে। সাধুচরণ, বন্দি ও আগন্তুক নাটকে, এটি একটি কঠিন ব্যাপার। মাধুরী মজুমদার, সম্ভবত আয়োজকদের পরে তিনিই একমাত্র ব্যাক্তি যিনি উৎসব প্রাঙ্গণে প্রতিদিন উপস্থিত ছিলেন। আয়োজক শ্রেণির অনেককেই যখন আঁতশ কাঁচ দিয়েও খুঁজে পাওয়া যাচ্ছিল না তখন মাধুরী দি তার চিরাচরিত হাসিখানা নিয়ে হাজির— ম্যান অব দ্য আর্টিস্ট তপু দা, ম্যান অব দ্যা উৎসব মাধুরী মজুমদার।
‘রেডক্লিফ লাইন’—মঞ্চে কাঁটাতারের বেড়া দেখে বুঝতে কারো সমস্যা হবে না এটা কোনো দেশের বর্ডার লাইন। ‘রেডক্লিফ লাইন’ নাটকের সঙ্গে এই কাঁটাতারের বেড়ার সম্পর্ক কী? প্রশ্ন জাগতেই পারে যে কারো মনে। ভারতবর্ষ ভাগ করার দায়িত্ব নিয়েছিলেন ব্রিটিশ কর্মকর্তা রেডক্লিফ। তিনি একই ভূখণ্ডের মানুষের মাঝে সীমান্ত দেয়ালের দাগ কেটে দিয়েছিলেন। ‘রেডক্লিফ লাইন’ মূলত ভারতবর্ষের কাঁটাতারের দেয়ালকে ঘিরে গল্প। বাংলাদেশ-ভারত সীমান্তের ‘নো-ম্যানস’ ল্যান্ডই এই নাটকের পটভূমি। নাটক শুরুর ঘণ্টা বেজে উঠলো, উঁচু একটা জায়গায় দুজন সীমান্তরক্ষী কথা বলছে, তাদের ভাষা শুনে বোঝা গেল তারা ভারতীয় সীমান্তরক্ষী। এদেরই একজন সীমান্তে হঠাৎ একটা গরুকে লক্ষ্য করে গুলি ছুড়েছে। অপরজন বলছে, যে করেই হোক সেই গরুটিকে ফিরিয়ে আনতে হবে। হুকুম পালন করার জন্য ভারতীয় সৈন্যটি গরু খুঁজতে বেরিয়ে পড়ে। হাঁটতে হাঁটতে ভারতীয় সৈন্যটি ‘নো-ম্যানস ল্যান্ডে’ চলে আসে। সেখানে এসে দেখে বাংলাদেশের সীমান্তরক্ষীর পোশাক পরিহিত একজন তারই মতো গরুটিকে খুঁজছে। ‘নো-ম্যানস ল্যান্ড’ এলাকায় ভারতীয় সীমান্তরক্ষী ও বাংলাদেশি সীমান্তরক্ষী একে অপরকে দেখে লুকিয়ে পড়ে। ভারতীয় সীমান্তরক্ষী বাংলাদেশিকে দেখে গুপ্তচর ভেবে বসে। তারপর শুরু হয় দুজনের আড়ালে থেকে তর্ক এবং নানা রকম বাকবিতণ্ডা। তাদের তর্কের মধ্য দিয়ে উঠে আসে বাংলাদেশ-ভারতের ইতিহাসের নানা অধ্যায় এবং সাম্প্রতিক নানা বিষয়। দুই দেশের দুই সীমান্ত প্রহরীর তর্কের মধ্য দিয়ে উঠে আসে তারা আসলে একই ভূ-খন্ডের বাস করা মানুষ। যাদের আবেগ-অনুভূতি-ইতিহাস-ঐতিহ্য-সংস্কৃতি মূলত এক। কিন্তু কাঁটাতারের সীমান্ত রেখা তাদের ভাগ করে দিয়েছে। দুই সীমান্তরক্ষী যখন নাটকের শেষ প্রান্তে এসে বন্ধুত্বের আলিঙ্গন করতে চায়, তখনই বুলেটে বিদ্ধ হয়ে লুটিয়ে পড়ে তাদের দেহ। এমনই বিয়োগান্তক এক দৃশ্যে শেষ হয় নাটকটি। দর্শকের চোখ তখন পানিতে টলমল। নেমে এলো কঠিন এক নিরবতা। সব কথার বড় কথা ‘রেডক্লিফ লাইন’ দর্শকের হৃদয় ছুঁয়ে যাবার মতো একটি নাটক। একই সঙ্গে সীমান্তের কাঁটাতারের এই বিভাজনের বিরুদ্ধে এক শক্ত প্রতিবাদ…
একটা ভয়ঙ্কর রকমের ভয় পুরো পৃথিবীটা যখন গিলে ফেলেছিলো—আমরা যারা অতশত বুঝিনা, বড়জোর নিজের দেশ-দশের মাঝেই সীমাবদ্ধ থাকি, তারা তো ধরেই নিয়েছিলাম মোটামুটি খুব একটা কাছাকাছি সময়ের মাঝে এই জনপদে লাল-নীলে ভর্তি বাতি জ্বলে উঠবেনা। হাততালির শব্দ কানে এসে ঠেকবেনা খুব তাড়াতাড়ি। দীর্ঘসময় কালো রঙ আরও ঘন কালো হয়ে চোখের পাতার ওপর আঁছড়ে পড়বে। কাছে থেকেও অনেক দূরে থাকবো আমরা একে অপরে। এমনটিই হতে চলছিলো—মঞ্চের বাতিগুলো দ্যুতি ছড়ায়নি, কবে জ্বলে উঠবে বলাটাও মুশকিল হয়ে পড়েছিল। কিন্তু বঙ্গবন্ধু নাট্য ও সাংস্কৃতিক উৎসব উদযাপন পরিষদের আহবায়ক আব্দুল মতিন ও সদস্য সচিব কয়ছর আহমদের অক্লান্ত খাটুনির ফলে বিশাল নাট্য বহর ভিড়লো পৌরজনমিলন কেন্দ্রের ঘাটে। মঞ্চ তৈরি হলো—মঞ্চের বাতিগুলো সেদিন শাহাজান মিয়ার আঙুলের স্পর্শে যখন জ্বলে উঠলো তখন পুরো বিষয় মনে হলো গল্পে-কিচ্ছায় শোনা সেই ভয়কাল অনেক পুরনো, অনেক বছর আগের ঘটনা। এখনও যে আমরা পুরোপুরি ভয়কাল পার করিনি এর ভেতর দিয়েই যাচ্ছি একটা বার ঘুনাক্ষরেও মনে আসেনি। সিলেটের লিটল থিয়েটারের কুশলীবরা যখন রাধারমণের জীবন চরিত সংশ্লিষ্ট নাটকটি নিয়ে মঞ্চে উঠলেন—তখন হল ভর্তি মানুষজন সব ভয় ভুলে যেনো কঠিন খাটুনী শেষে লাল চায়ের নাতীশিতোষ্ণ কাপে চুমু বসালেন।
মুজাহিদ আহমদ, সম্পাদক : সাহিত্যের ছোট কাগজ ‘কোরাস’
আইনিউজ ভিডিও
রমজানেও ব্যবসায় ডাকাতি, শ্রীমঙ্গলের ২-৩ টাকার লেবু ঢাকায় হয়ে যায় ২০ টাকা
রোজার বাজারে ২ কেজি মাংসে ৪০০ গ্রাম কম দিলেন ব্যবসায়ী, ভোক্তা অধিদপ্তরের অভিযান
নয় বছরের মেয়েটি কিভাবে নেভায় একের পর এক আগুন?
- মেয়ের বাড়িতে ইফতার: সিলেটি প্রথার বিলুপ্তি চায় নতুন প্রজন্ম
- অবশেষে ক্লাস করার অনুমতি পেল শ্রীমঙ্গলের শিশু শিক্ষার্থী নাঈম
- দেশের চতুর্থ ধনী বিভাগ সিলেট
- শ্রীমঙ্গল টু কাতারে গড়ে তুলেছেন শক্তিশালি নেটওয়ার্ক
মৌলভীবাজারে অনলাইন জুয়ায় রাতারাতি কোটিপতি সাগর - এসএসসির ফলাফলে বিভাগে ৩য় স্থানে মৌলভীবাজার
- বিজ্ঞাপন
মৌলভীবাজারে হার্ট অ্যাটাকের চিকিৎসায় লাইফ লাইন হাসপাতাল (ভিডিও) - মৌলভীবাজারে ট্যুরিস্ট বাসের উদ্বোধন বৃহস্পতিবার
- ১ ঘন্টার জন্য মৌলভীবাজারে শিশু কর্মকর্তা হলেন তুলনা ধর তুষ্টি
- মৌলভীবাজার শহরে একদিনে ৮ জন করোনা রোগী শনাক্ত
- বন্ধ থাকবে মৌলভীবাজারের ‘এমবি’